অটোইমিউন ডিজিজের প্রাথমিক লক্ষণ

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ অটোইমিউন ডিজিজে আক্রান্ত হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে এটি শনাক্ত করা বেশ কঠিন। এ ধরনের রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত সুস্থ টিস্যুকে আক্রমণ করে। ফলে একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রভাবিত হয় এবং নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়, যেগুলো অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতা ভেবে উপেক্ষা করা হয়।
সকালে গাঁট শক্ত হয়ে যাওয়া
গাঁটে ব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে, তবে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর গাঁট শক্ত হয়ে থাকা এবং তা ৩০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে তা অটোইমিউন রোগের লক্ষণ হতে পারে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান জার্নাল অফ রিউম্যাটোলজি-তে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, এই উপসর্গটি সাধারণত রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে দেখা যায়।
অবিরাম ক্লান্তি যা বিশ্রামেও কমে না
দীর্ঘ সময় কাজের পর ক্লান্তি স্বাভাবিক হলেও পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক নয়। অটোইমিউন রোগে এই ধরনের অবসাদ একটি সাধারণ কিন্তু উপেক্ষিত লক্ষণ। এটি এক রাতের ভালো ঘুমেও দূর হয় না এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
মনোযোগের অভাব বা ‘ব্রেইন ফগ’
অনেক অটোইমিউন রোগ মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে ‘ব্রেইন ফগ’ নামক অবস্থার সৃষ্টি হয়, যেখানে মনোযোগ কমে যায়, ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়। এটি অনেক সময় ঘুমের অভাব বা মানসিক চাপের কারণে মনে হলেও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
শুষ্ক চোখ ও শুষ্ক মুখ
শুষ্ক চোখ বা মুখকে অনেক সময় ডিহাইড্রেশন বা অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফল হিসেবে ধরা হয়। তবে ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল মেডিসিন জার্নালের গবেষণা অনুযায়ী, এটি সিওগ্রেনস সিনড্রোম নামক অটোইমিউন রোগের লক্ষণও হতে পারে, যা লালা ও চোখের পানি উৎপাদনকারী গ্রন্থিকে প্রভাবিত করে।
অস্বাভাবিক চুল পড়া
হরমোন পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি বা মানসিক চাপের কারণে চুল পড়া সাধারণ হলেও হঠাৎ করে অতিরিক্ত চুল পড়া বা চুল পাতলা হয়ে যাওয়া অটোইমিউন রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। লুপাস বা হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিসের মতো রোগেও এই সমস্যা দেখা যায়।
বারবার হালকা জ্বর
কোনো স্পষ্ট সংক্রমণ ছাড়াই বারবার হালকা জ্বর আসা-যাওয়া অটোইমিউন রোগের আরেকটি সম্ভাব্য লক্ষণ। শরীরের ইমিউন সিস্টেম অতিসক্রিয় থাকলে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যা অনেক সময় সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে উপেক্ষিত হয়।
অবশ ভাব, ঝিনঝিন করা ও পেশী দুর্বলতা
হাত-পা বা শরীরের বিভিন্ন অংশে অবশ ভাব বা ঝিনঝিন অনুভূতি এবং পেশী দুর্বলতা স্নায়বিক সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসসহ কিছু অটোইমিউন রোগে এ ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে রোগের অগ্রগতি ধীর করা সম্ভব।
ত্বকের পরিবর্তন
ত্বকে অস্বাভাবিক র্যাশ, বিবর্ণতা বা দাগ দেখা দিলে তা অটোইমিউন রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। লুপাস রোগে গালের ওপর প্রজাপতির মতো র্যাশ দেখা দেওয়াও একটি পরিচিত লক্ষণ। যদিও সব ত্বকের পরিবর্তন অটোইমিউন রোগের কারণে হয় না, তবে দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অটোইমিউন রোগের ক্ষেত্রে প্রাথমিক লক্ষণগুলো উপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করলে জটিলতা কমানো এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়।
ভোরের আকাশ/সু.পা



