ড্যাবের আপত্তি
পল্লি ডাক্তারদের জন্য সরকারের প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর উদ্যোগ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছরের ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকার নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যেখানে ‘পল্লি ডাক্তার’ ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও পরিবার পরিকল্পনা (এলএমএএফ) ধরনের কোর্সের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে গ্রামে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবেন। যদিও এলএমএএফ কোর্স বর্তমানে স্থগিত রয়েছে, এর পরিবর্তে কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার (সিএইচডব্লিউ) সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা হয়েছে, যা এ খাতকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে সরকারের এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। ১১ এপ্রিল সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ ও মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল এক যৌথ বিবৃতিতে প্রস্তাবিত পল্লি চিকিৎসক প্রশিক্ষণকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এবং বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন। তারা এ উদ্যোগ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে ‘পল্লি চিকিৎসক’ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার একটি পরিচিত নাম। জ্বর, সর্দি বা ছোটখাটো আঘাতের চিকিৎসায় তারা সহজলভ্য হওয়ায় অনেক মানুষ এখনো তাদের ওপর নির্ভর করেন। তবে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার বিস্তারের পরও এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে পল্লি চিকিৎসকরা সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ভুল চিকিৎসার কারণে জটিলতা এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে দেশে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ (রেজিস্ট্যান্স) একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ গ্রহণ, পূর্ণ কোর্স সম্পন্ন না করা এবং পশুখাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত। আইসিডিডিআর, বি-এর তথ্যমতে, শহরের সাধারণ সংক্রমণের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে প্রথম সারির অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর থাকছে না।
এ প্রেক্ষাপটে গত বছরের ১২ মার্চ হাইকোর্ট রায় দেন, এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া কেউ ‘ডাক্তার’ উপাধি ব্যবহার করতে পারবেন না। যদিও হোমিও, ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন, তবুও সরকার পল্লি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সংগঠিত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।
ড্যাব নেতারা বলেন, অতীতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে দেশে প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে এবং নতুন করে এ ধরনের প্রশিক্ষণ চালু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাদের মতে, বর্তমানে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ব্যবস্থা চালু থাকায় আলাদা করে পল্লি চিকিৎসক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই।
তারা আরও উল্লেখ করেন, দেশে অনেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মানোন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণে কাজ চলমান রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে পল্লি চিকিৎসক তৈরির উদ্যোগ স্বাস্থ্যখাতের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা



