প্রতিবন্ধীবান্ধব সমাজ গঠনে বাংলাদেশ হবে বিশ্বে রোল মডেল: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, সব মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি’ বা প্রতিবন্ধীবান্ধব সমাজের একটি অনন্য রোল মডেল ও ইতিবাচক ব্র্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। সোমবার (১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ‘শিশুস্বর্গ মডেল’ বাস্তবায়ন শীর্ষক পাইলট প্রকল্প প্রণয়নে অংশীজন পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম, অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ রুমীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি জেলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ‘শিশুস্বর্গ’ নামে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ও স্পেস গড়ে তোলার সক্ষমতা রয়েছে। এসব কেন্দ্র দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশাল মাঠকর্মী বাহিনী তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা, মেডিকেল অ্যাটেনশন ও থেরাপির মাধ্যমে তাদের ‘শিশুস্বর্গ’ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর ফলে চিকিৎসাসেবা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় তৈরি হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকারি ডেটাবেজে প্রায় ৪৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা বিবেচনায় অন্তত ১ কোটি মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সেবা ও অধিকার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য কোনো দয়া বা চ্যারিটি মডেল নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ অধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে দুটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি রাষ্ট্রের দয়ার মনোভাব নয়; বরং অন্যান্য নাগরিকের মতো সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত হয়েছে ‘প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা নীতি নির্ধারণ স্টিয়ারিং কমিটি’। এতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বিকল্প সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নীতির বাস্তবায়নের জন্য গঠিত ‘প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বাস্তবায়ন কমিটি’র সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। এ কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, কমিটি গঠনের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে প্রথম এবং এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা কার্যক্রমের গতিশীলতা প্রমাণ করে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, শীর্ষ পর্যায়ের সমন্বয়ের ফলে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধীবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অর্ধেক ভাড়া বা বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ও নিজেদের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ’ করার উদ্যোগ নিচ্ছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াকে ‘কনভেয়ার বেল্ট’ বা রিলে রেসের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, একজন প্রতিবন্ধী শিশু জন্মের পর যে ধরনের চিকিৎসা ও থেরাপির প্রয়োজন হয়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার চাহিদাও পরিবর্তিত হয়। ছয় বছর বয়সে, ১২ বছর বয়সে কিংবা কর্মজীবনে তার প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে।
তিনি বলেন, জন্ম থেকে কর্মসংস্থান পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ধাপে রাষ্ট্র প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে থাকবে। কনভেয়ার বেল্টের মতো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে তাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



