চিকিৎসক

স্মৃতিশক্তি কমার পেছনে থাকতে পারে যেসব কারণ

ছবি: সংগৃহীত

ছোটখাটো বিষয় থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও অনেক সময় মনে রাখতে পারছেন না? কর্মব্যস্ত জীবনে এমন অভিজ্ঞতা এখন অনেকেরই। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, কোভিড-পরবর্তী প্রভাব, অপুষ্টি, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা পানিশূন্যতার মতো বিভিন্ন কারণে সাময়িকভাবে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে। বিশেষ করে তরুণ কর্মজীবীদের মধ্যে এ সমস্যা আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে।

পানিশূন্যতা কেন বড় কারণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) দেখা দেয়, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ, বাইরে ব্যস্ত সময় কাটানো, অনিয়মিত খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত চা-কফি পান এবং মানসিক চাপের কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি পান করেন না। ফলে শরীরে তরলের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

পুষ্টিবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, শরীরের মোট ওজনের মাত্র ২ শতাংশ পানি কমে গেলেই তা ডিহাইড্রেশন হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। পানির অভাবে কোষের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের গতি ধীর হয়ে যায়, ফলে মস্তিষ্কের নিউরনের কার্যক্ষমতাও কমে যায়। তখন চিন্তা করা, তথ্য মনে রাখা কিংবা হিসাব-নিকাশের মতো কাজ আগের তুলনায় কঠিন হয়ে পড়ে।

স্মৃতিশক্তি কমার আরও ৭ কারণ

১. বয়সজনিত পরিবর্তন : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তথ্য মনে রাখতে কিছুটা সময় বেশি লাগা স্বাভাবিক। তবে গুরুতর স্মৃতিভ্রংশ স্বাভাবিক বার্ধক্যের অংশ নয়; এটি ডিমেনশিয়া বা আলঝাইমার রোগের লক্ষণ হতে পারে।

২. পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব : ঘুমের সময় মস্তিষ্ক নতুন তথ্য সংরক্ষণ করে। অনিদ্রা, কম ঘুম বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যায় এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, ফলে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়।

৩. ভিটামিনের ঘাটতি : বিশেষ করে ভিটামিন বি–১২-এর অভাবে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং বিভ্রান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৪. মাথায় আঘাত : মাথায় আঘাত পেলে স্মৃতি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ছোট আঘাতে সাময়িক এবং গুরুতর আঘাতে দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিশক্তির সমস্যা হতে পারে।

৫. কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : কিছু সিডেটিভ, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, ব্যথানাশক ও অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগে প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন ওষুধ শুরুর পর এমন সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৬. স্নায়বিক রোগ : আলঝাইমার, পারকিনসন, ডিমেনশিয়া বা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো স্নায়বিক রোগে ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা স্মৃতিশক্তি, বিচার-বিবেচনা ও চিন্তাশক্তিকে প্রভাবিত করে।

৭. সংক্রমণ বা স্ট্রোক : মেনিনজাইটিস, এনসেফালাইটিসের মতো মস্তিষ্কের সংক্রমণ কিংবা স্ট্রোকের কারণে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে ক্ষতি হলে হঠাৎ স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এ সমস্যা স্থায়ীও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ভালো রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা জরুরি। তবে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা যদি দীর্ঘদিন ধরে বাড়তে থাকে বা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ভোরের আকাশ/সু.পা

স্মৃতিশক্তি কমার পেছনে থাকতে পারে যেসব কারণ | স্বাস্থ্য কথা