বিশেষ

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে ও জবাবদিহি বাড়াতে ‘হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ’ উদ্বোধন

ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্যনীতিতে নাগরিক অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে ‘হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা ও লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ওয়েলবিং কেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশের স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

গোলটেবিল আলোচনায় ‘হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ’-এর প্রস্তাবিত কাঠামো উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন থেকে ৩০০ জন ‘হেলথ পার্লামেন্ট মেম্বার’ নিয়ে একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হবে। তারা নিজ নিজ এলাকার স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চিত্র, নাগরিকদের মতামত ও স্থানীয় চাহিদা সংগ্রহ করে গবেষণাভিত্তিক সুপারিশ প্রণয়ন করবেন এবং তা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে উপস্থাপন করবেন।

অনুষ্ঠানে ওয়েলবিং কেয়ার ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ মেম্বার মাহমুদুল হাসান ‘হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ’-এর ধারণা, কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। আয়োজকদের মতে, প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। এ উদ্যোগটি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নাগরিকভিত্তিক স্বাস্থ্য সংলাপের একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

গোলটেবিল আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, “হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো উদ্যোগ নয়; বরং স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে সরকারকে সহযোগিতা করার একটি প্ল্যাটফর্ম। সরকার যদি এটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে, তাহলে স্বাস্থ্যসেবার অনেক বাস্তব সমস্যা নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হবে।”

তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যরা নানা দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় স্বাস্থ্যখাতের ক্ষুদ্র ও স্থানীয় সমস্যাগুলো অনেক সময় তাদের নজরে আসে না। সে ক্ষেত্রে হেলথ পার্লামেন্ট গবেষণালব্ধ তথ্য ও সুপারিশের মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং দেশি-বিদেশি অংশীদারদের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল হামিদ। তিনি বলেন, “এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। সফল করতে হলে শক্তিশালী তহবিল ও অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।”

জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের সিনিয়র ফ্যাকাল্টি ডা. হালিদা হানুম আখতার বলেন, “বাংলাদেশে জ্ঞান বা গবেষণার ঘাটতি নেই। আমাদের গবেষকেরা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রকাশ করছেন। কিন্তু গবেষণা, নীতিনির্ধারণ ও জনগণের মধ্যে যে দূরত্ব রয়েছে, হেলথ পার্লামেন্ট সেই ব্যবধান কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

ওয়েলবিং কেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. রাজিকুল হাসান রিফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের এক্সিকিউটিভ মেম্বার ডা. মাহবুবুর রহমান রাজিব।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শাফিউন নাহিন শিমুল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এ. এম. পারভেজ রহিম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্কুল হেলথ প্রোগ্রামের সহকারী পরিচালক মো. আসিফ ইকবাল, সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) ডা. মোহাম্মদ জাকারিয়া রানা, সেরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস. এম. শাইকাত, ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. আদনান হোসাইন, ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ডা. মোহাম্মদ মাসুমুল হক, ইউনিসেফ বাংলাদেশের জাতীয় পরামর্শক ডা. এ.এন.এম. এহতেশাম কবিরসহ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

গোলটেবিল আলোচনা শেষে ‘হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা এবং সংগঠনটির লোগো উন্মোচন করা হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা গবেষণাভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক একটি জাতীয় স্বাস্থ্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ভোরের আকাশ/সু.পা

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে ও জবাবদিহি বাড়াতে ‘হেলথ পার্লামেন্ট বাংলাদেশ’ উদ্বোধন | স্বাস্থ্য কথা