‘মডি’ ডায়াবেটিস নিয়ে নতুন উদ্বেগ
তরুণদের প্রতি পাঁচজনে একজন আক্রান্ত

ছবি: সংগৃহীত
দেশে ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে প্রতি পাঁচজনের একজন ‘ম্যাচিউরিটি অনসেট ডায়াবেটিস ইন ইয়াং’ (মডি) নামের বিশেষ ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত—এমন তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) আয়োজিত এক সেমিনারে ১০০ জন রোগীর নমুনা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন করেন গবেষক ডা. মাশফিকুল হাসান।
তিনি জানান, তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রচলিত টাইপ-১ বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নন। বরং তাদের মধ্যে জিনগত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ‘মডি’ ডায়াবেটিসের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। গবেষণায় সন্দেহভাজন রোগীদের প্রায় ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত হয়েছে, যা এই রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ডা. মাশফিকুল হাসান আরও বলেন, এটি একটি প্রাথমিক ও অনুসন্ধানমূলক গবেষণা, তাই চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রয়োগের আগে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। তবে ফলাফলটি ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীতে ডায়াবেটিসের জিনগত ধরন অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে এবং প্রচলিত নির্ণয় পদ্ধতি সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট নাও হতে পারে।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ‘মডি’ ডায়াবেটিসে ওষুধ ছাড়াই রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, আবার কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। ফলে সঠিকভাবে রোগ শনাক্ত না হলে ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেমিনারে বক্তারা বলেন, ‘মডি’ ডায়াবেটিস শনাক্ত করা তুলনামূলকভাবে কঠিন, কারণ এর উপসর্গ অনেকটাই সাধারণ ডায়াবেটিসের মতো। এ কারণে জেনেটিক পরীক্ষা ও গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
অনুষ্ঠানে বিএমইউ’র এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ হাসানাত সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এ ধরনের জেনেটিক গবেষণা আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
ভোরের আকাশ/সু.পা



