হাম প্রতিরোধে টিকার বিকল্প নেই: বিশেষজ্ঞদের সতর্ক বার্তা

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবারও হাম রোগের সংক্রমণ বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাস ছোট শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে টিকাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক শিশু হাম থেকে সুস্থ হয়ে উঠলেও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতায় ভুগতে পারে। গুরুতর সংক্রমণে নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, অন্ধত্ব এবং মস্তিষ্কে প্রদাহ বা এনসেফালাইটিসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া হাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়, যার ফলে পরবর্তীতে অন্য সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ইমিউনিটি অ্যামনেশিয়া’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপুষ্টিতে ভোগা এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী যেসব শিশু টিকা পায়নি, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি : হাম একটি বায়ুবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সহজেই এটি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারেন। ভাইরাসটি বাতাস ও বিভিন্ন পৃষ্ঠে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার চার দিন আগ থেকেই আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রমণ ছড়াতে পারেন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে আক্রান্তের সংস্পর্শে এলে প্রায় ৯০ শতাংশই সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
টিকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা : স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে টিকার বিকল্প নেই। হামের টিকার দুই ডোজ একজন মানুষকে আজীবনের জন্য প্রায় ৯৯ শতাংশ সুরক্ষা দিতে সক্ষম।
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সাল থেকে হামের টিকা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯ কোটি ৪০ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা করেছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এটি সবচেয়ে কার্যকর জীবনরক্ষাকারী টিকাগুলোর একটি। তবুও বিশ্বের বহু শিশু এখনও টিকার আওতার বাইরে রয়েছে, বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিশুরা।
কম টিকাদানেই বাড়ছে ঝুঁকি : বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায়। এ কারণে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে দুই ডোজ টিকার আওতায় আনতে হয়। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বে প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণের হার প্রায় ৮৪ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের হার মাত্র ৭৬ শতাংশ। ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু এখনও সুরক্ষাহীন অবস্থায় রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ও গণটিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সূত্র: ইউনিসেফ ওয়েবসাইট
ভোরের আকাশ/সু.পা



