ভোগড়া বাইপাসে ১১ দলের লংমার্চের পথসভা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সরকারকে আমরা বলে দিচ্ছি, আজকে ৮ দফা দাবিতে নেমেছি। জনগণের জন্য, জনগণের প্রয়োজনে ৮ দফা যেকোনো সময় ১ দফায় পরিণত হতে পারে।’ এ সময় তিনি জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভোগড়া বাইপাসের টাঙ্গাইল রোডে লংমার্চের পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজ সকাল ৭টায় শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত রংপুরের উদ্দেশ্যে আমাদের লংমার্চ শুরু হয়েছে। আমাদের এই লংমার্চ জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার দাবিতে, ইন্ডাস্ট্রির চাকা সচল করার দাবিতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে এবং পানির অভাবে হাহাকার করা মানুষের দুঃখ দূর করার দাবিতে।’
তিনি বলেন, ‘রাস্তা-ঘাটে, হাটে-বাজারে, টেম্পুস্ট্যান্ডে সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধ করার দাবিতে আমাদের এই লংমার্চ। দুর্নীতিতে ছেয়ে যাওয়া দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে আমাদের এই লংমার্চ। আমাদের এই লংমার্চ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের দাবিতেও আমাদের এই লংমার্চ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো আপনাদের দাবি কি না, আপনাদের দাবিতেই আমরা রাস্তায় নেমেছি। কোনো দলীয় দাবি নিয়ে নামিনি। ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি।’
গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনারা গণভোটে হ্যাঁ বলেছিলেন, ৭০ ভাগ মানুষ। সরকার আপনাদের গণভোটকে অগ্রাহ্য করে অপমানিত করেছে। সেই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমরা নেমেছি। জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন এই বাংলার মাটিতে হবে, এই বিএনপিই করতে বাধ্য হবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারকে আমরা বলে দিচ্ছি, আজকে ৮ দফা দাবিতে নেমেছি। জনগণের জন্য, জনগণের প্রয়োজনে ৮ দফা যেকোনো সময় ১ দফায় পরিণত হতে পারে।’
শনিবার সকাল থেকেই ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ১১ দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পথসভাস্থল লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। এতে ১১ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের বাঁচা-মরার সমস্যা তিস্তা পাড়ের মানুষের মুক্তির জন্য তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও বিলম্বের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে লংমার্চ সফল করব।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘১১ দলের গণদাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছি। এই রাজপথ থেকে বিজয় নিয়ে আমরা ঘরে ফিরব।’
তিনি বলেন, ‘গণভোটের গণরায়কে কার্যকর করা ছাড়া বর্তমান সরকারের বিকল্প কোনো পথ নেই। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। তারেক জিয়া সরকারকে গণভোটের রায় কার্যকর করেই ক্ষমতা ছাড়তে হবে, ইনশাআল্লাহ।’
মামুনুল হক আরও বলেন, ‘আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো বাংলার মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। ১১ দল দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য তারা নিজেরাই নিজেদের হাতে গড়বে। তিস্তা ব্যারেজ নিয়ে সরকারের লুকোচুরি আর বরদাস্ত করা হবে না।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদীসহ দেশপ্রেমিক ইলিয়াস আলীসহ যাদের গুম, খুন ও হত্যা করা হয়েছে, তাদের হত্যাকাণ্ডের বিচার বাংলার মানুষ আদায় করে ছাড়বে, ইনশাআল্লাহ।’
শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা এখন পর্যন্ত তাদের বাংলাদেশের বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তর না করে বাংলাদেশের মানুষের সেন্টিমেন্ট নিয়ে খেলার চেষ্টা করছে, আমরা ভিনদেশি অপশক্তিগুলোকে আজকের এই লংমার্চ থেকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই—আন্দোলন-সংগ্রামে আমরা সফল হব, ইনশাআল্লাহ।’
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ‘আমরা সরকারের বিরুদ্ধেও না, কোনো দেশের বিরুদ্ধেও না। বাংলাদেশের জনগণের সমস্যার সমাধান চাই। আমরা মানবতার শাসন চাই, সুশাসন চাই, চাঁদাবাজ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে। যেটা বর্তমান সরকার কোনো অবস্থাতেই পারছে না।’
অলি আহমেদ বলেন, ‘আমরা বারবার সতর্ক করে যাচ্ছি, আমরা সংস্কার চাই। সংস্কার যদি না দেন, আমরা এক দফায় যাব। সেটা হলো সরকারের বিদায়।’
উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রস্তুত আছেন তো? তাহলে হাতগুলো তুলুন, তারেক রহমান দেখুক বাংলাদেশের জনগণ কী চায়। তার আশপাশে যারা দালাল রয়েছে, তাদের দিয়ে মুক্তি হবে না।’
সকাল ১০টার দিকে ভোগড়া বাইপাসের পথসভা শেষে ১১ দলের লংমার্চ টাঙ্গাইলের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাসে তাদের পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লংমার্চের উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
ভোরের আকাশ/জেআ