ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৮:০১ এএম
ছবি: ভোরের আকাশ
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দখল করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ব্যাহত করে দর্জি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে রূপসী বাংলা টেকনিক্যাল সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে না দিয়ে বিদ্যালয়ের আঙিনায় ও রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে—যা অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে মো. নাজির হোসেন রনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
জানা যায়, গত ২১ নভেম্বর থেকে দর্জি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমদিন মাত্র ১০০ টাকার আবেদনপত্রের মাধ্যমে কোর্স চালু করা হলেও ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত তুলে নেওয়া হচ্ছে। অনেকেই ইতোমধ্যে টাকা জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী নাজির হোসেন বলেন, পার্শ্ববর্তী গৌরীপুর উপজেলার পশ্চিম কাওরাট গ্রামের মো. মাহবুবুর রহমান ফয়সাল তার দলবল নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জের বড়হিত ইউনিয়নের জুগিয়াখালী মনির উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাইজবাগ ইউনিয়নের উত্তর মাইজবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ দখল করে অবৈধভাবে দর্জি প্রশিক্ষণ চালাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, “এতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, বিশেষ করে বার্ষিক পরীক্ষা সামনে হওয়ায় তারা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
সরেজমিনে সকালে জুগিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৯টায় প্রথম শ্রেণির কক্ষে দর্জি প্রশিক্ষণ চলছে। শ্রেণিকক্ষের ভেতরে ব্যাগ কাঁধে দাঁড়িয়ে আছে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম। সে জানায়, “ক্লাসে এসে দেখি বড়দের পড়ানো হচ্ছে, তাই দাঁড়িয়ে আছি।”
সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে প্রশিক্ষণার্থীদের বের করে দেন ট্রেইনার মাহবুবুর রহমান ফয়সাল।
ট্রেইনার ও প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য ট্রেইনার ফয়সাল দাবি করেন, “আমরা প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। স্কুল শুরুর আগেই আমরা ক্লাস শেষ করি।”
জুগিয়াখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিরুল হক বলেন, “আমার কাছ থেকেই অফটাইমে প্রশিক্ষণের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা অফিসারের অনুমতি লাগবে কেন?”
তবে শিক্ষা অফিসারের অনুমতি ছাড়াই কক্ষে প্রশিক্ষণ চলার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।
শিক্ষা অফিস ও ইউএনও’র অবস্থান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাহিরের কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ চালানোর নিয়ম নেই। অভিযোগ পেয়েছি। প্রধান শিক্ষকদের জিজ্ঞাসা করলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
ভোরের আকাশ/জাআ