ইরানে সরকারের বিরুদ্ধে কিছুদিন ধরে সহিংস বিক্ষোভের পর এবার দেশের বিভিন্ন শহরে সরকারের পক্ষে রাজপথে নেমেছে লাখো মানুষ।সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ খামেনীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সমর্থনে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিপুল জনসমাগম হয়েছে।কেরমান ও জাহেদানসহ বিভিন্ন শহরের বিক্ষোভে মানুষকে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনীর ছবি বহন করতে দেখা যায়। তাদের হাতে ছিল পবিত্র কোরআন এবং জাতীয় পতাকা।রাষ্ট্রীয় প্রেস টিভি জানিয়েছে, কেরমানের রাস্তায় মিছিলরত জনতা ‘আমেরিকার পতন’ কামনা করে স্লোগান দিচ্ছিল।সরকারি সংস্থাগুলো সোমবার দেশজুড়ে শাসকগোষ্ঠীর সমর্থনে মিছিলের ডাক দেয়। অর্থনৈতিক সংকটসহ বিভিন্ন কারণে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়।পূর্বাঞ্চলীয় শহর বিরজান্দে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির ফুটেজে জনতাকে ‘আমাদের জাতি জেগে উঠেছে এবং দাঙ্গাবাজদের ঘৃণা করে’ ও ‘আমরা বিপ্লবী সৈনিক, আমরা ফেতনাবাজদের ঘৃণা করি’—এমন স্লোগান দিতে শোনা যায়।ফার্স বার্তা সংস্থার বরাতে জানানো হয়, মধ্য ইরানের শহর আরাকে মাইক্রোফোনে একজন বক্তা জনতাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘সবারই সমস্যা আছে, কিন্তু তারা বিদেশিদের হাতে নিজের ভাগ্যের সিদ্ধান্ত তুলে দেয় না। তারা আমেরিকা ও ইসরায়েলের হাতে দাবার চাল তুলে দেয় না।’সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণেএদিকে ইরান সরকার বলছে, তারা বিদেশি মদদপুষ্ট বিক্ষোভ ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ এনেছে। এজন্য দ্রুতই ইন্টারনেট চালু হয়ে যাবে।সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, দেশজুড়ে বিক্ষোভে রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের পর এখন ‘পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে’।তিনি বলেন, বিক্ষোভগুলো ‘সহিংস ও রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের জন্য একটি অজুহাত তৈরি করা যায়’।ইরানকে জবাব দিতে ‘কঠোর উপায়’ বিবেচনা করছেন ট্রাম্পঅন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের কঠোর অভিযানের জবাবে ওয়াশিংটন ‘শক্তিশালী উপায়গুলো’ বিবেচনা করছে, যার মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপও রয়েছে।রোববার (১১ জানুয়ারি) গভীর রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সামরিক বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে, আর আমরা কিছু অত্যন্ত শক্তিশালী বিকল্প বিবেচনা করছি।আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব। তিনি আরও বলেন, “সামরিক পদক্ষেপের হুমকির পর ইরানের নেতৃত্ব ‘আলোচনার জন্য’ যোগাযোগ করেছে এবং একটি ‘বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে’। কিন্তু বৈঠকের আগেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।”ভোরের আকাশ/মো.আ.
১৬ ঘন্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণা তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দিয়েছেন।রোববার (১১ জানুয়ারি) ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে একটি ছবি পোস্ট করেন, যার নিচে লেখা ছিল, “২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসীন হয়েছেন।”এর আগে, ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে অপহরণ করে নিউইয়র্ক সিটিতে নিয়ে আসে। তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা নিউইয়র্কের ফেডারেল কারাগারে বন্দি। ওই অভিযানে কমপক্ষে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।ভেনেজুয়েলা তেলের সমৃদ্ধ দেশ হওয়ায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাদুরো ও তার স্ত্রী অপহরণের পর থেকে দেশের তেল সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকবে। পরবর্তীতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ নিয়ন্ত্রণ করবে এবং দেশের সরকারের সংস্কারে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। ‘উপযুক্ত সময়ে’ সম্পদের পূর্ণ মালিকানা ভেনেজুয়েলার সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।মাদুরো অপহরণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার সুপ্রীম কোর্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে এবং দেশটির সেনাবাহিনীও তাকে সমর্থন দেয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর ডেলসি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। ঠিক সেই সময় ট্রাম্প নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।সূত্র: আনাদলুভোরের আকাশ/মো.আ.
১৯ ঘন্টা আগে
গাজার ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করে সোমালিল্যান্ডে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আহমেদ মোয়ালিম ফিকি বলেছেন, এ বিষয়ে তাদের কাছে নিশ্চিত তথ্য রয়েছে। তিনি এ পরিকল্পনাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিকি বলেন, ফিলিস্তিনিদের স্থানান্তর ও সোমালিল্যান্ডে পাঠানোর বিষয়ে ইসরায়েলের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন। একইসঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি।তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সোমালিয়ার কর্মকর্তারা আশঙ্কা করে আসছেন, ইসরায়েল গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোর করে সোমালিল্যান্ডে সরাতে পারে। যদিও এ বিষয়ে ইসরায়েল ও স্বশাসিত অঞ্চল সোমালিল্যান্ড উভয়ই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।সোমালিল্যান্ড ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও এখনো জাতিসংঘের স্বীকৃতি পায়নি। তবে গত বছরের ডিসেম্বরে ইসরায়েল প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেয়, যা নিয়ে সোমালিয়ার তীব্র আপত্তি রয়েছে।এ বিষয়ে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের জোর করে সোমালিল্যান্ডে স্থানান্তর করার বিষয়টি ইসরায়েলের কোনো চুক্তির অংশ নয়। তবে সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে ইসরায়েলের চুক্তিতে কী কী বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।এর আগে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদ আল-জাজিরাকে জানান, সোমালিল্যান্ড ইসরায়েলের তিনটি শর্তে সম্মত হয়েছে—ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসন, এডেন উপসাগরের উপকূলে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আহমেদ মোয়ালিম ফিকি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সোমালিল্যান্ডের কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।ফিকি আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশকে বিভক্ত করার নীতি অনুসরণ করছে এবং সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়া সেই বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ।ভোরের আকাশ/মো.আ.
২১ ঘন্টা আগে
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সরকার জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত এবং চলমান অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। টানা দুই সপ্তাহের সহিংস বিক্ষোভের মধ্যে দেশের দুর্বল অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।রোববার (১১ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দিতে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান করা হলেও সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।ডিসেম্বর ২০২৪ এর শেষ দিকে ইরানের মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের পর দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে হঠাৎ মুদ্রার পতনে নিত্যপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছে। শুরুতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ হলেও পরবর্তীতে এসব আন্দোলন সরকারবিরোধী রূপ নেয়।প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। আমাদের উচিত তাদের সঙ্গে বসা এবং দায়িত্ব থাকলে তাদের সমস্যার সমাধান করা। তবে আরও বড় দায়িত্ব হলো, কিছু দাঙ্গাবাজ যেন পুরো সমাজকে ধ্বংস করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং জনগণকে তথাকথিত ‘দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসীদের’ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।এদিকে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সংসদে দেওয়া বক্তব্যে শান্তিপূর্ণ ও সশস্ত্র বিক্ষোভকারীদের মধ্যে পার্থক্য টানেন। তিনি বলেন, সরকার জনগণের অর্থনৈতিক দাবিকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে স্বীকৃতি দিলেও ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ড কমান্ডার কালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে সামরিক পদক্ষেপ নেন, সে ক্ষেত্রে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও নৌবহরগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। তবে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। সূত্র: আল জাজিরাভোরের আকাশ/মো.আ.
২৩ ঘন্টা আগে