রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মৃত্যুর খবরে তোলপাড় চলছে দেশটিতে। এর মাঝেই তার তিন বোন অভিযোগ তুলেছেন, ভাইয়ের সঙ্গে বারবার দেখা করতে চাইলেও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না তাদের।এমনকি ইমরান খানের সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাতের দাবি জানাতে গিয়ে পুলিশের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন তারা।আদিয়ালা কারাগারের বাইরে তাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস হামলার পর রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ইমরান খান ও তার দল পিটিআইয়ের সমর্থকদের মধ্যে। এতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো পাকিস্তান। আদিয়ালা কারাগার এলাকায় জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার পিটিআই নেতাকর্মী। এ অবস্থায় একটি বিবৃতি দিয়েছে আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষ, যেখানে তারা দাবি করেছে, ইমরান খান আদিয়ালা কারাগারেই আছেন। আদিয়ালা থেকে তাকে অন্যত্র সরানোর খবর সত্য নয়। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন। তার অসুস্থতার খবর ভিত্তিহীন এবং তার সুস্থতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও জানান, কারাগারে ইমরান খানকে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তিনি কারাগারে থেকে যে সুবিধা পেতেন ইমরান খান এর চেয়েও বেশি পাচ্ছেন।তবে, এরপরও ইমরান খানের অবস্থা ঘিরে রহস্য রয়েই গেছে। বিতর্ক নতুন করে উসকে দিয়েছেন তারই ছোট ছেলে কাসিম খান। তার দাবি অনুযায়ী, তার বাবার বেঁচে থাকার কোনও প্রমাণ এখনও নেই পরিবারের কাছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কাসিম বলেছেন, পরিবারকে ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি তার জীবিত থাকার কোনও প্রমাণও নেই। পরিস্থিতিকে ‘ইচ্ছাকৃত অন্ধকারে রাখা’ হচ্ছে।কাসিম পাকিস্তানের বাইরে বসবাস করেন এবং সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করেন। এক্সে নিজের পোস্টে তিনি লেখেন, ইমরান খান ৮৪৫ দিন ধরে কারাবন্দি এবং গত ছয় সপ্তাহ ধরে তাকে ‘ডেথ সেল’-এ একক বন্দিত্বে রাখা হয়েছে। তার দাবি, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে। তিনি লেখেন, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পাকিস্তান সরকার অঘোষিতভাবে ইমরান খানের সঙ্গে পরিবারের সাক্ষাৎ বন্ধ রেখেছে। কোনো ফোন কল হয়নি, কোনো দেখা হয়নি এবং জীবনের কোনো প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে না।কাসিম তার পোস্টে সতর্ক করে বলেন, ইমরান খানের নিরাপত্তা সম্পর্কে যেকোনো ঘটনার জন্য পাকিস্তান সরকার এবং তাদের ‘হ্যান্ডলারদের’ আইনগত, নৈতিক ও আন্তর্জাতিকভাবে পূর্ণ দায় বহন করতে হবে।এরপর তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্দেশে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে লিখেন, ইমরান খানের জীবিত থাকার প্রমাণ নিশ্চিত করুন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সাক্ষাৎ নিশ্চিত করুন, এই অমানবিক বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটান এবং রাজনৈতিক কারণে আটক পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতার মুক্তির দাবি তুলুন।উল্লেখ্য, ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান ইমরান খান। এরপর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলা দেওয়া হয়। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর সদরদপ্তরে হামলা, রাষ্ট্রের গোপন নথি ফাঁসের অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে।অনেক নাটকীয়তার মধ্যে ২০২৩ সালে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। একবার ছাড়া পেলেও পরবর্তীতে আবার গ্রেপ্তার করা হয় ইমরান খানকে। এরপর ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে জেলেই আছেন তিনি।ভোরের আকাশ/মো.আ.
১ দিন আগে
আগামী ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও পাকিস্তানের করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হতে পারে। পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইকবাল হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন বলে বুধবার (২৬ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে পাক সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।ইরানের মহান এয়ার সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট চালাতে পারে বলে জানান তিনি। যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সংযোগ শক্তিশালী করবে।লাহোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এলসিসিআই) অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি দূত বলেছেন, দুই দেশের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করে দেওয়া হয়েছে। এলসিসিআই এবং বাংলাদেশ অনারারি কনস্যুলেটের যৌথ সুপারিশে ভিসা দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, “এ সংগঠনের সদস্যদের তিন থেকে চারদিনের মধ্যে ভিসা দেওয়া হবে। এরমাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণ দ্রুত ও সহজ করা হবে।”বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশে চাল রপ্তানি করতে পারে। অপরদিকে বাংলাদেশ পাকিস্তানে সতেজ আনারস রপ্তানি করতে পারে। পাশাপাশি টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকের অপার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন হাইকমিশনার ইকবাল হোসেন খান।এছাড়া দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কার্গো পরিবহণ সেবা চালু করা হবে বলেও জানান তিনি। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে কার্গো পরিবহন শুরু হয়। চাহিদা বাড়ায় এখন সরাসরি কার্গো পরিবহণের কথা আসছে।বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও দুই দেশকে সহযোগিতামূলক কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।হাইকমিশনার বলেন, পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন শিগগিরই বাংলাদেশে একটি দল পাঠাবে। যেখানে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি থাকবে। তাদের লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী করে তোলা।সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউনভোরের আকাশ/মো.আ.
৩ দিন আগে
আফগানিস্তানে বিমান হামলার অভিযোগ অস্বীকার করলো পাকিস্তান। আফগান তালেবান দাবি করেছিল, পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ভোরে বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী আফগান তালেবানের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের ভেতরে কোনো বেসামরিক নাগরিকের ওপর হামলা চালায়নি।তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান যখন কাউকে আক্রমণ করে, তখন সেটা প্রকাশ্যেই ঘোষণা করে।এর আগে আফগান তালেবানের মুখপাত্র পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খোস্ত, কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে হামলার অভিযোগ আনেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেনারেল আহমেদ শরীফ জানান, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে পাকিস্তান কোনো ধরনের বিভাজনকে গ্রহণ করে না। তার ভাষায়, আমাদের দৃষ্টিতে ভালো তালেবান কিংবা খারাপ তালেবান— এমন কোনো ধারণা নেই। সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে কোনো বিভাজন নেই।তিনি আরও বলেন, আফগান তালেবান সরকারকে রাষ্ট্র হিসেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অ-রাষ্ট্রীয় উপাদান হিসেবে নয়। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, আফগানিস্তানের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের স্থায়িত্ব কতদিন থাকবে?সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ছে। পাকিস্তানের দাবি, আফগান ভূখণ্ড থেকে নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) হামলা চালাচ্ছে, যা আফগানিস্তান অস্বীকার করে আসছে। সীমান্ত সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ইস্তাম্বুলে গত অক্টোবর নাগাদ দু’দেশের মধ্যে সংলাপ শুরু হলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।অক্টোবরের শেষে মধ্যস্থতাকারী তুরস্ক ও কাতারের সহায়তায় আলোচনার আরেক দফা শুরু হ। তবে গত ৭ নভেম্বর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানান, সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে আলোচনার প্রক্রিয়া ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত’ হয়েছে।সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর আফগান তালেবান পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য কার্যক্রম স্থগিত করে। সীমান্ত বাণিজ্য আগেই বন্ধ করে দিয়েছিল ইসলামাবাদ। তুরস্ক এরপর জানায়, ইসলামাবাদ সফরে গিয়ে উত্তেজনা প্রশমনে উদ্যোগ নেবে তাদের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। পাকিস্তান সরকার ১৪ নভেম্বর তুরস্ক ও দোহার ‘সৎ প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করলেও প্রতিনিধি দলের সফরের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।গত সপ্তাহে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ফের শুরুর আগে তালেবান প্রশাসনকে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ বন্ধে কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি আফগান ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় বন্ধ না হলে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক জ্বালানি প্রকল্পও ঝুঁকিতে পড়বে। সূত্র: ডন ভোরের আকাশ/মো.আ.
৪ দিন আগে
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে শনিবার (২২ নভেম্বর) হোটেল থামেল পার্কে “এশিয়ার বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পে উন্নয়নে করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।অনুষ্ঠানে “নেপাল ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫” প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে সাউথ এশিয়ান সোশ্যাল কালচারাল ফোরাম এবং নেপাল বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ কাউন্সিল।অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন নাইন সিং মাহার, নেপালি কংগ্রেসের শিক্ষা বিভাগের প্রধান ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. সাগর পান্ডে, কাঠমান্ডু ইউনিভার্সিটির উপাচার্য। বিশেষ অতিথি ছিলেন তীর্থ রাজ খানিয়া, সাবেক উপাচার্য, ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে পুরস্কৃত হন জেকের উদ্দিন সম্রাট, ডিরেক্টর, নিউজ অ্যান্ড ব্রডকাস্ট, মাই টিভি। পরিবেশ ও পশুসম্পদ রক্ষায় অবদানের জন্য সম্মাননা পান ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও চেয়ারম্যান, ডক্টরস ডিজিটাল লিমিটেড। স্বাস্থ্য ও কল্যাণ প্রচারে ক্রীড়ার ভূমিকার জন্য সম্মাননা পান দীর্ঘদূরত্ব দৌড়বিদ মো. নাহিদুল ইসলাম (নাহিদ হাসান), অফিসার, এনআরবিসি ব্যাংক।সফল তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে পুরস্কৃত হন মো. জামশেদ খান রিয়াজ, চেয়ারম্যান, ট্রাস্টি বাজার, এছাড়াও নেপাল, বাংলাদেশ এবং অন্যান্য দেশের আরও কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা লাভ করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপালি কংগ্রেসের শিক্ষা বিভাগের প্রধান ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নাইন সিং মাহার। প্রধান বক্তা ছিলেন কাঠমান্ডু ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাগর পান্ডে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য তীর্থ রাজ খানিয়া, নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট চন্দ্র রিজাল, কাঠমান্ডু ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ডা. বোধ রাজ অধিকারী এবং হোটেল থামেল পার্ক প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষ্ণা ঢাকাল।অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সাউথ এশিয়ান সোশ্যাল কালচারাল ফোরামের নির্বাহী পরিচালক এমএইচ আরমান চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফোরামের পরিচালক ড. কিরণ ভট্ট এবং নেপাল-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ কাউন্সিলের পরিচালক ও গ্লোবাল স্টার কমিউনিকেশনের সিইও আরকে রিপন।ভোরের আকাশ/এসএইচ
১ সপ্তাহ আগে