× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার
কৌশলী অবস্থানে বিএনপি

কৌশলী অবস্থানে বিএনপি


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি- এমনটাই ভাবছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বিগত নির্বাচনগুলোতে জোটের খাতিরে এমন অনেক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল যাদের জয়ের সম্ভাবনা ছিল ক্ষীণ। এবার আর সেই ঝুঁকি নিতে চায় না দলটি। কাজেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা ও কৌশলী অবস্থান তৈরি করেছে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও। আরপিও’র নতুন বিধান এবারের নির্বাচনে জোটের সমীকরণকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। অতীতে জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা জোটের শীর্ষ দলের প্রতীক ব্যবহার করে ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু ইসির সংশোধিত নিয়মে নিবন্ধিত দলগুলো জোটবদ্ধ হলেও ব্যালট পেপারে তাদের লড়তে হবে নিজস্ব প্রতীকেই। আইনি এই বাধ্যবাধকতার কারণে ভোটের মাঠে প্রতীকের বিষয়টি এবার বিএনপির কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মনে করছেন রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।বিশ্লেষকদের মতে, ছোট দলগুলোর প্রতীকে নেতাকর্মীদের অনাগ্রহ থাকবে। এছাড়া কেউ যদি দলের বাহিরে যেয়ে প্রার্থী হয়, তাহলে উক্ত আসনটি হারাতে হতে পারে। তাই শরিক দলগুলোর যে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং ভোটে জয় পেতে পারে তাকেই জোট থেকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর যেসব দলের নেতারা প্রার্থী হওয়ার যোগ্য তবে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদেরকে জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ ভাবছেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছে, জোটের শীর্ষ নেতাদের আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করায় মিত্রদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এবার খুব সতর্ক ও কৌশলী অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। ইতোমধ্যেই বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭২টি আসনে এককভাবে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে।দলীয় সূত্র মতে, শেষ পর্যন্ত মিত্রদের জন্য সর্বোচ্চ ১৩টি আসন ছাড়া হতে পারে। এতেই ক্ষোভ, হতাশা ও চরম অসন্তোষ দানা বেঁধেছে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত মিত্র দলগুলোর মধ্যে। প্রশ্ন উঠেছে, ভোটের রাজনীতির এই জটিল সমীকরণে বিএনপি কি তার মিত্রদের তুষ্ট করতে পারবে, নাকি নির্বাচনের আগেই ফাটল ধরবে দীর্ঘদিনের এই মিত্রতায়? বিগত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী আধিপত্যের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনে  সঙ্গে ছিল যেসব দলগুলো, সেগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে চায় বিএনপি। কিন্তু ভোটের মাঠে কিছু দলের নেতাদের প্রভাব এবং জনপ্রিয়তা না থাকায় গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকেই বিভিন্ন কৌশল নিচ্ছে বিএনপি।বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, ভোটের মাঠে শরিক দলগুলোর নিজস্ব প্রতীক ভোটারদের কাছে পরিচিত করানো এবং সেই প্রতীকে ধানের শীষের ভোটারদের ভোট দেওয়ানো অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। ধানের শীষের পক্ষে নেতাকর্মীদের যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নামানো সম্ভব, অন্য দলের অচেনা প্রতীকের পক্ষে সেভাবে নামানো মাঠপর্যায়ে প্রায় অসম্ভব। এই আইনি মারপ্যাঁচ মিত্রদের জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে। মিত্রদের আসন ছাড়ার ক্ষেত্রে তাই বিএনপি এবার সংখ্যার চেয়ে প্রার্থীর ‘জয়ের সক্ষমতা’কেই মানদণ্ড হিসেবে ধরছে। দলটির নীতিনির্ধারকদের মনে করছেন-শরিকদের কেবল মনোনয়ন দেওয়াই শেষ কথা নয়, তাদের বিজয় নিশ্চিত করে সংসদে আনাই মূল লক্ষ্য। মিত্রদের সামলানোর জন্য বিএনপি এবার এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে। যেসব শরিক নেতার এলাকায় নিজস্ব ভোটব্যাংক কম বা দলীয় প্রতীকে জেতার সম্ভাবনা ক্ষীণ, তাদের বিএনপি সরাসরি দলে যোগ দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচন করার প্রস্তাব দিচ্ছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে বিএনপি মিত্রদের সংসদে আনতে চায় ঠিকই, কিন্তু তা নিজেদের দলীয় কাঠামোর ভেতরে রেখে। ইতোমধ্যে ১২ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ বিএলডিপির প্রধান নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিম দল বিলুপ্ত ঘোষণা করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এবং তাকে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। একইভাবে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) নেতা ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩ আসন থেকে নির্বাচন করবেন এবং তার ক্ষেত্রেও একই পন্থা অনুসরণ করা হতে পারে বলে জোর আলোচনা রয়েছে।যেসব শরিকদের আসন ছাড় দেওয়া সম্ভব না, তাদের জন্য বিএনপি একটি বিকল্প প্রস্তাবনা নিয়ে কাজ করছে বলেও দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, শরিকদের মধ্যে যারা জ্যেষ্ঠ নেতা আছেন, যারা জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু ভোটের মাঠে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম, তাদের জন্য জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব দেওয়ার চিন্তা করছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা।বিএনপি তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা চালু করা হবে। সেখানে এইসব ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। তবে মিত্র দলগুলোর নেতারা নগদ প্রাপ্তি অর্থাৎ সংসদীয় আসন নিশ্চিত করতেই বেশি আগ্রহী। ভবিষ্যতের এই প্রতিশ্রুতি তাদের বর্তমান অসন্তোষ কতটা কমাতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র ও নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বাকি থাকা ২৮টি আসনের মধ্যে মিত্রদের জন্য প্রাথমিকভাবে যাদের জন্য আসন ছাড়া হতে পারে।চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, প্রার্থী ঘোষণার আগে যে আলোচনার দরকার ছিল, বিএনপি তা করেনি। যে আসনে আমি নির্বাচন করতে চেয়েছি, সেখানে প্রার্থী দেওয়ার আগে আমার সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজনটুকুও বিএনপি মনে করেনি।আসন্ন নির্বাচনের আগে হাতে সময় আছে মাত্র দুই মাস।অথচ আসন ভাগাভাগির বিষয়টি এখনো সুরাহা না করায় শরিক দলগুলোর অভিযোগ, বিএনপি ইচ্ছা করেই বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছে যাতে শেষ সময়ে এসে শরিকরা আর দরকষাকষি করতে না পারে। এই দীর্ঘসূত্রতা মিত্রদের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। শেষ মুহূর্তে প্রার্থী ঘোষণা করলে বা আসন পেলে মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালানো এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানাচ্ছেন তারা। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে শরিকদের। তবে মিত্রদের ক্ষোভের মাঝেই আশার আলো দেখছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।তিনি মনে করেন, এখনো আলোচনার সুযোগ ও জায়গা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। অন্যদিকে, সংকট নিরসনে আশার বাণী শোনাচ্ছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারাও। নির্বাচনের আগে জোট-প্রার্থী ও মনোনয়ন নিয়ে এমন টানাপোড়েন খুবই স্বাভাবিক ঘটনা বলে মনে করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।তিনি বলেন, আমাদের কমিটি এসব সমস্যা সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সব ভুল বোঝাবুঝি অচিরেই কেটে যাবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই বিএনপি সামনের দিকে এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শরিকদের কাক্সিক্ষত আসনগুলো যেখানে বিএনপি ইতোমধ্যে তাদের দলীয় প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে দু-একটিতে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার চিন্তাভাবনা করছে দলটি। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যৌক্তিকভাবে ফ্যাসিবাদবিরোধী জোটের ঐক্য ধরে রাখতে চায় দলটি। তাই মিত্রদের মধ্যে যাদেরকে শেষ পর্যন্ত আসন ছাড়া সম্ভব হবে না, সরকার গঠন করলে তাদেরকে যোগ্যতা অনুযায়ী যথাযথ মূল্যায়ন করার ইচ্ছাপোষণ করেছে দলের হাইকমান্ড।এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেন, নির্বাচনী জোট ও আসন বণ্টন নিয়ে তো আলোচনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আলোচনা চলছে, তা অব্যাহতও থাকবে।নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে আমাদের আলোচনাই হলো না। বিএনপি এর মধ্যে নিজেদের ২৭২ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তাহলে আমরা দাঁড়াচ্ছি কোথায়? বিএনপি বলেছে একসঙ্গে নির্বাচন করবে, একসঙ্গে সরকার করবে। এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, মিত্রদের সঙ্গে কোনো ধরনের টানাপোড়েন চায় না বিএনপি। মিত্রদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে দলটি। সেজন্য ঐক্য ঠিক রেখে এর সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বিএনপির ওই সূত্র জানিয়েছে। আসন ভাগাভাগি নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে চলমান দূরত্ব মেটাতে আজ শনিবার বৈঠক ডেকেছে বিএনপি। সকাল ১১ বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।এ প্রসঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির সঙ্গে ৪০টির বেশি দল ২০২২ সাল থেকে আন্দোলন করেছে। আমরা নিপীড়ন, রিমান্ড, নির্যাতন সবকিছু সহ্য করেছি। এখন নির্বাচন সামনে প্রত্যেক দলেরই প্রত্যাশা আছে।তিনি বলেন, বিএনপি তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে এবং শরিকরাও দলগতভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এখন মূল আলোচনা হবে কতটি আসন শরিকদের জন্য ছাড়া হবে, এ বিষয়ে তারা সঠিক ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত আশা করেন।শরিকদের মধ্যে কাঙ্খিত আসন না পাওয়া গেলে সম্পর্ক ভাঙতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আমরা কখনো বিএনপিকে শর্ত দিইনি যে আসন না দিলে লড়ব না। আমাদের লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনার পতন। ৩১ দফা ও জাতীয় সরকারের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে আমরা একসঙ্গে লড়েছি। আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হবে।তিনি আরও বলেন, কয়টি আসন পাব এখনই বলতে পারছি না। তবে আমরা বিএনপির সঙ্গে আছি, থাকব।ভোরের আকাশ/এসএইচ

১৪ ঘন্টা আগে

ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি

ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি


ভোটের দিন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধার্য্য করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের তফসিল ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওই দিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে টানা বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।সিইসি’র ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ১১ জানুয়ারি এবং আপিল নিষ্পত্তি হবে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি, প্রচার শেষ হবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটায়। ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ৩০০ সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাররাও পোস্টাল ব্যলটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ৩ লাখের বেশি প্রবাসী ভোটার ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন।প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ মাসের মাথায় জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করল ইসি। শুরুতে গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল বিএনপিসহ কিছু দল।গত ৬ জুন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৩ জুন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই বৈঠকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে দুজন একমত হন। এরপর থেকে সরকার বারবার বলে আসছে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন হবে। ইসিও সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি এগিয়ে নেয়। এর মধ্যে গত ১৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ দুটি ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করলেন সিইসি।ভোটে অংশ নিতে পারবে ইসি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোই কেবল দলীয় প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। এখন ইসিতে নিবন্ধিত দল আছে ৫৬টি। এর মধ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত আছে। নিবন্ধন স্থগিত থাকা দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। নিবন্ধিত অন্য দলগুলো এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। এর বাইরে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য যেকোনো ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন।আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ২১ নভেম্বর এ এম এম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। আগামী নির্বাচনই হবে এই কমিশনের অধীনে প্রথম কোনো নির্বাচন। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হচ্ছে। দুটি ভোটের সময় ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ইসি। সময় ব্যবস্থাপনার জন্য এবার ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রে গোপন কক্ষের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।অন্যদিকে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাকেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। ইতিমধ্যে সরকার জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ যাতে নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন, যা এযাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে রেকর্ডসংখ্যক দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যানার-ফেস্টুন সরানোর নির্দেশ ইসিরআগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড সরানোর নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্থানীয় সরকার বিভাগকে এ বিষয়ে ব্যবস্থাগ্রহণ করতে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তফসিল ঘোষণার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ওই নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, দেয়াল লিখন, বিলবোর্ড, গেট, তোরণ বা ঘের, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জা ইত্যাদি প্রচার সামগ্রী ও নির্বাচনী ক্যাম্প থাকলে তা সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য প্রার্থী/ব্যক্তিদের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিজ খরচে/দায়িত্বে অপসারণ করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।ইসি জানায়, নির্ধারিত সময়ে উপর্যুক্ত প্রচারণা সামগ্রীসমূহ অপসারণ সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য আদিষ্ট হয়ে অনুরোধ করা হলো। নির্দেশনা মোতাবেক আগামীকাল (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আগাম প্রচার সামগ্রী অপসারণ করতে হবে সংশ্লিষ্টদের। অন্যথায় নির্বাচনী আচরণবিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।দলগুলোর আইন ভঙ্গ করলেই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা রাজনৈতিক দলগুলোর কেউ যদি আইন না মানে তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।ইসি সচিব বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে যে বিষয়গুলো প্রাসঙ্গিক হবে আমরা সেগুলো নিশ্চিত করবো। রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছাও থাকা দরকার। আমি আশাবাদী তারা আমাদের সহায়তা করবে।দেশে পোস্টাল ব্যালটে ভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, যারা সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনে দায়িত্বে থাকবেন এবং আইনি হেফাজতে থাকবেন, তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। এদের নিবন্ধনের জন্য তৈরি অ্যাপ গুগল যারা ব্যবহার করেন প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করা যাবে। আর অ্যাপলে পরে করা যাবে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নিবন্ধন করা যাবে। পোলিং অফিসারদের নিবন্ধন ১৬-১৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে। আইনি হেফাজতে যারা রয়েছেন তারা নিবন্ধন করতে পারবেন ২১-২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে।তিনি আরও বলেন, গাজীপুর ও বাগেরহাটের সীমানা নিয়ে আদালতের আদেশ অনুযায়ী সংশোধন করা হচ্ছে।ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগে জনপ্রশাসনকে ইসির চিঠি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতকরণের জন্য সারাদেশে এক্সিকিউটিভ (নির্বাহী) ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাঠানো হয়।চিঠিতে ইসি জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকে ভোটগ্রহণের দুদিন পর পর্যন্ত সময়ের জন্য মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর আওতায় আচরণ বিধি প্রতিপালনার্থে প্রতি উপজেলা/থানায় অন্যূন ২ জন করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।ইসি আরও জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকে ভোটগ্রহণের দুদিন পর পর্যন্ত সময়ের জন্য মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর আওতায় আচরণ বিধি প্রতিপালনার্থে প্রতি উপজেলা/থানায় অন্যূন ২ জন করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।জোট ভোট করলেও নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ নির্বাচন করলেও নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধানের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে জোট করলেও সব দলকে নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার সাহেদুল আজম।এর আগে গত ২৬ নভেম্বর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ নির্বাচন করলেও স্ব স্ব দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান চ্যালেঞ্জ করে রিটটি দায়ের করা হয়। রিটে নির্বাচনে নিবন্ধিত একাধিক দল জোটভুক্ত হলেও ভোট করতে হবে নিজ নিজ দলের প্রতীকে-এমন বিধান যুক্ত করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) বাতিল চাওয়া হয়। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এনডিএমের মহাসচিব মোমিনুল ইসলাম এ রিট দায়ের করেন।অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি খুব ভালো। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর একটি নির্বাচন করতে যা দরকার সব করা হয়েছে। এজন্য পুলিশ বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি চলমান। সব বাহিনী তাদের প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা জানুয়ারির মধ্যেই শেষ হবে। সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বডি ওর্ণ ক্যামেরা থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।ভোট দিতে ২ লাখ ৫০ হাজার প্রবাসীর নিবন্ধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৫০ হাজার ১২ জন প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টাল ভোটিং আপডেট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এই তথ্য অনুযায়ী, পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৫০ হাজার ১২ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এই নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৮১ জন পুরুষ ভোটার ও ২১ হাজার ২৩১ জন নারী ভোটার রয়েছেন। দেশভিত্তিক নিবন্ধনের মধ্যে রয়েছে, সৌদি আরবে ৬৩ হাজার ৩৪ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ২০ হাজার ৪৯  জন, কাতারে ১৬ হাজার ৩২৬ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪ হাজার ৮৬৩ জন, মালয়েশিয়ায় ১৩ হাজার ৭৪১ জন, সিঙ্গাপুরে ১৩ হাজার ১৬৫ জন, যুক্তরাজ্যে ১২ হাজার ১৪ জন,  দক্ষিণ কোরিয়ায় ৯ হাজার ৫৪৯ জন,  কানাডায় ৯ হাজার ৫০১  জন,  ওমানে ৯ হাজার ৪৫৩ জন, ইতালিতে ৮ হাজার ৩৯০ ও অস্ট্রেলিয়ায় ৮ হাজার ৩৭  জন।সরকারি চাকরিজীবীরা ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন করতে পারবেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ও নিজ ভোটার এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি চাকরিজীবীরা তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে নিবন্ধন করতে পারবেন।এ বিষয়ে ইসি বার্তায় বলা হয়েছে,  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ভোটার, নিজ ভোটার এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারগণ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ-এর মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। এই বার্তায় আরও বলা হয়, বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট (www.ecs.gov.bd)-তে ভিজিট করুন।প্রবাসীদের সঠিক ঠিকানা প্রদান করার আহ্বান পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সময় সঠিক ঠিকানা দেওয়ার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুরোধে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।এ বিষয়ে ইসি থেকে এক বার্তায় বলা হয়েছে, পোস্টাল ব্যালট পেতে হলে, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধনের সময় আপনার অবস্থানকালীন দেশের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী সঠিক ঠিকানা প্রদান করুন। প্রয়োজনে কর্মস্থল অথবা পরিচিত জনের ঠিকানা প্রদান করুন। সঠিক ও পূর্নাঙ্গ ঠিকানা প্রদান ব্যতিরেকে পোস্টাল ব্যালট পেপার ভোটারগণের নিকট প্রেরণ করা সম্ভব হবে না। আগামী ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধনের সময় বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  এর আগে, ১৮ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া বিশ্বের সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল।এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আউট অফ কান্ট্রি ভোটিংয়ের ব্যাপারে নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়িয়ে ২৫ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়েছে। এখন সারা বিশ্বের যে কোন জায়গা থেকেই আমাদের এই অ্যাপ ডাউনলোড করে, যে কেউ ভোট দেওয়ার জন্য ভোটার নিবন্ধন করতে পারেন। গত ১৮ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ উদ্বোধন করেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৪৮টি নির্দিষ্ট দেশে ভোটার নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করেন। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের জন্য প্রবাসী ভোটারকে অবশ্যই যেখান থেকে ভোট দেবেন, সে দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য প্রথমে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপটি ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে হবে। বিদেশে ব্যালট প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য সঠিক ঠিকানা প্রদান করা অপরিহার্য।পাঁচ বছরের জন্য ইসির নিবন্ধন পেল ৮১ পর্যবেক্ষক সংস্থা আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্তভাবে ৮১টি দেশীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষককে নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়।গত ২৮ সেপ্টেম্বর, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ৭৩টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রাথমিক তালিকা নির্ধারণপূর্বক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এই সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো দাবি, আপত্তি বা অভিযোগ ২০ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে লিখিতভাবে জমা দিতে বলা হয় এবং অভিযোগের স্বপক্ষে সহায়ক প্রমাণও জমা দিতে হবে বলে জানায় সংস্থাটি। দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে প্রথম ধাপে ৬৬ দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ইসি। এই ৬৬ পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চলতি বছরের ৬ নভেম্বর থেকে ২০৩০ সালের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ইসির নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।এছাড়া দ্বিতীয় ধাপে যাচাই-বাছাই করে ১৫ পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই ১৫ সংস্থাকে চলতি বছরের ৪ ডিসেম্বর থেকে ২০৩০ সালের ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট পাঁচ বছরের জন্য নিবন্ধন দেওয়া হলো।  ইসি জানায়, বিগত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নিবন্ধিত ৯৬টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫’-এর ধারা ১৬ মোতাবেক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে।ভোরের আকাশ/এসএইচ

১ দিন আগে

তফসিল ঘোষণা আজ

তফসিল ঘোষণা আজ


জাতিকে ইতিহাসের সেরা একটি নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সরকারের এমন মনোভাবকে সাদুবাদ জানিয়ে নির্বাচনমুখী রয়েছেন দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ ইসির নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল।রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের নিদের্শনা অনুয়ায়ী সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতিও নিয়েছে নির্বাচন কমিশনার (ইসি)। সেই লক্ষ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে ভোটের তফসিল আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করবেন কমিশন। এমনটাই ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল আজ বৃহস্পতিবার। সন্ধ্যা ৬টায় তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তফসিল ঘোষণা এবং প্রচারে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার  (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের ভাষণ রেকর্ড শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব এ তথ্য জানান ।তফসিলপূর্ব কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বুধবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। সিইসির নেতৃত্বে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতকালে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল সানাউল্লাহ (অব.) উপস্থিত ছিলেন।এছাড়াও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব খান মো. নূরুল আমীন এবং রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল চৌধুরী এসময় উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি ও সিইসির সাক্ষাতকালে নির্বাচন কমিশন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।এরআগে, তফসিলপূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রোববার ইসির দশম কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন, চারজন নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনের সচিব প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধান উপদেষ্টাকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন সিইসি।বৈঠকে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রস্তুতি সঠিক ও সুন্দরভাবে এগোচ্ছে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন ও একই দিনে গণভোট আয়োজনের জন্য কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস  বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে সরকার। জাতির জন্য প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে আপনারা (ইসি) চালকের আসনে আছেন। আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতেই হবে। জাতিকে একটি সুন্দর নির্বাচন দিতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতিকে আমরা ইতিহাসের সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।তফসিল প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, তফসিলপূর্ব যেসব কার্যক্রম এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সেগুলোর স্টক নেওয়া হয়েছে। সবাই জানেন সংলাপ, আইন ও বিধির সংস্কার, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গেছে, পোস্টাল ভোটের কাজ চলছে।গণভোট : জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট করতে যাচ্ছে ইসি।সম্প্রতি নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলী বলেন, ‘ইসির জন্য বড় দুটি নির্বাচন একদিনে হয়নি। প্রায় পৌনে ১৩ কোটি ভোটার। ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে। ভোটকক্ষও বাড়াতে হবে। ভোট দিতেও সময় লাগবে। গণনাকারী দুই রকম লাগবে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একই দিয়ে চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।ভোটগ্রহণের সময় বাড়লো : গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে হওয়ার কারণে এবার ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়বে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ। সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।তিনি বলেন, ব্যালট পেপারসহ সব নির্বাচনী সামগ্রী আগের মতো আগের রাতেই সব কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে। আমাদের যেহেতু দুটো নির্বাচন একসঙ্গে করতে হচ্ছে। দুটি বিষয়ে ম্যানেজমেন্টে করতে হবে। যেসব কক্ষে ভোটার বাড়বে সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিক্রেট বুথ স্থাপন করা হবে। প্রবাসী এবং নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা থাকছে এই সংসদ নির্বাচনে। ১৮ নভেম্বর পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধন শুরু হয়ে গেছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা ৩২ মিনিট পর্যন্ত পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন ২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৫৭ জন।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি : নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে একটি পরিপত্র চলতি সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে দেওয়া হবে। এর আলোকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। যে কেন্দ্রে যে ধরনের ফোর্স মোতায়েন করা দরকার সেটাই হবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনে একটা সেন্ট্রাল মনিটরিং সেল স্থাপিত হবে, যেখানে সব বাহিনী, প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থার প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এই সেল থেকে মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন হ্যান্ডেল করা হবে। যদিও মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য নিজ নিজ বাহিনী, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সক্ষমতা আছে, বিষয়টি তারা দেখবে।অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে : গত সোমবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.)  মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি খুব ভালো। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর একটি নির্বাচন করতে যা দরকার সব করা হচ্ছে। এজন্য পুলিশ বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি চলমান। সব বাহিনী তাদের প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা জানুয়ারির মধ্যেই শেষ হবে। সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে ২ লাখ ৫০ হাজার প্রবাসীর নিবন্ধন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৫০ হাজার ১২ জন প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টাল ভোটিং আপডেট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।এই তথ্য অনুযায়ী, পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৫০ হাজার ১২ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এই নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৮১ জন পুরুষ ভোটার ও ২১ হাজার ২৩১ জন নারী ভোটার রয়েছেন। দেশভিত্তিক নিবন্ধনের মধ্যে রয়েছে, সৌদি আরবে ৬৩ হাজার ৩৪ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ২০ হাজার ৪৯  জন, কাতারে ১৬ হাজার ৩২৬ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪ হাজার ৮৬৩ জন, মালয়েশিয়ায় ১৩ হাজার ৭৪১ জন, সিঙ্গাপুরে ১৩ হাজার ১৬৫ জন, যুক্তরাজ্যে ১২ হাজার ১৪ জন,  দক্ষিণ কোরিয়ায় ৯ হাজার ৫৪৯ জন,  কানাডায় ৯ হাজার ৫০১  জন,  ওমানে ৯ হাজার ৪৫৩ জন, ইতালিতে ৮ হাজার ৩৯০ ও অস্ট্রেলিয়ায় ৮ হাজার ৩৭  জন।সরকারি চাকরিজীবীরা ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত  নিবন্ধন করতে পারবেন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ও নিজ ভোটার এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি চাকরিজীবীরা তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে নিবন্ধন করতে পারবেন।এ বিষয়ে ইসি বার্তায় বলা হয়েছে,  ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ভোটার, নিজ ভোটার এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারগণ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ-এর মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। এই বার্তায় আরও বলা হয়, বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট (www.ecs.gov.bd)-তে ভিজিট করুন।’প্রবাসীদের সঠিক ঠিকানা প্রদান করার আহ্বান : পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সময় সঠিক ঠিকানা দেওয়ার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুরোধে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে ইসি থেকে এক বার্তায় বলা হয়েছে, পোস্টাল ব্যালট পেতে হলে, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধনের সময় আপনার অবস্থানকালীন দেশের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী সঠিক ঠিকানা প্রদান করুন। প্রয়োজনে কর্মস্থল অথবা পরিচিত জনের ঠিকানা প্রদান করুন। সঠিক ও পূর্নাঙ্গ ঠিকানা প্রদান ব্যতিরেকে পোস্টাল ব্যালট পেপার ভোটারগণের নিকট প্রেরণ করা সম্ভব হবে না। আগামী ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধনের সময় বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।এর আগে, ১৮ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া বিশ্বের সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল।এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আউট অফ কান্ট্রি ভোটিংয়ের ব্যাপারে নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়িয়ে ২৫ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়েছে। এখন সারা বিশ্বের যে কোন জায়গা থেকেই আমাদের এই অ্যাপ ডাউনলোড করে, যে কেউ ভোট দেওয়ার জন্য ভোটার নিবন্ধন করতে পারেন।গত ১৮ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ উদ্বোধন করেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৪৮টি নির্দিষ্ট দেশে ভোটার নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করেন। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের জন্য প্রবাসী ভোটারকে অবশ্যই যেখান থেকে ভোট দেবেন, সে দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য প্রথমে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপটি ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে হবে। বিদেশে ব্যালট প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য সঠিক ঠিকানা প্রদান করা অপরিহার্য।পাঁচ বছরের জন্য ইসির নিবন্ধন পেল ৮১ পর্যবেক্ষক সংস্থা : আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্তভাবে ৮১টি দেশীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষককে নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়।গত ২৮ সেপ্টেম্বর, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ৭৩টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রাথমিক তালিকা নির্ধারণপূর্বক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এই সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো দাবি, আপত্তি বা অভিযোগ ২০ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবের কাছে লিখিতভাবে জমা দিতে বলা হয় এবং অভিযোগের স্বপক্ষে সহায়ক প্রমাণও জমা দিতে হবে বলে জানায় সংস্থাটি। দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে প্রথম ধাপে ৬৬ দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ইসি। এই ৬৬ পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চলতি বছরের ৬ নভেম্বর থেকে ২০৩০ সালের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ইসির নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।এছাড়া, দ্বিতীয় ধাপে যাচাই-বাছাই করে ১৫ পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই ১৫ সংস্থাকে চলতি বছরের ৪ ডিসেম্বর থেকে ২০৩০ সালের ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট পাঁচ বছরের জন্য নিবন্ধন দেওয়া হলো।  ইসি জানায়, বিগত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নিবন্ধিত ৯৬টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫’-এর ধারা ১৬ মোতাবেক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে।ভোরের আকাশ/এসএইচ

২ দিন আগে

বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির বাকযুদ্ধের নেপথ্যে কি!

বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির বাকযুদ্ধের নেপথ্যে কি!


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ রাজনীতির সঙ্গে বিশিষ্টজনরা। রাজনৈতিক দল তিনটিই একে অন্যের বিরুদ্ধে ‘আওয়ামী লীগের ভাষায়’ কথা বলার অভিযোগ করছে, কাজেই বাকযুদ্ধ ও তিক্ততা বেড়েই চলেছে, যা রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি করেছে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক কালে বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সভা সমাবেশে একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি নানা ধরনের বক্তব্য দিয়ে শুধু সংবাদ মাধ্যমেই নয়, দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও বেশ আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে বলছেন রাজনীতির সঙ্গে বিশিষ্টজনরা।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আধিপত্যবাদী রাজনীতির পথে ‘নতুন খেলোয়াড়’ হিসেবে আবির্ভূত হতে চাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে এনসিপি। দলটির নেতারা মনে করে, জামায়াতে ইসলামী ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিভাজন, ঘৃণা ও সহিংসতার রাজনীতি উসকে দিচ্ছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে গ্রহণ করার পরিবর্তে তারা পুরোনো সহিংস ও আধিপত্যবাদী রাজনীতির পথে ‘নতুন খেলোয়াড়’ হিসেবে আবির্ভূত হতে চাচ্ছে, যা দেশের জন্য অশুভ সংকেত।এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের একটি বক্তব্যকে ‘অসত্য, মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে দলটির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। এতে বলা হয়, এনসিপি তা প্রত্যাখ্যান করছে এবং এর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এনসিপি মনে করে, জামায়াতের এ বিবৃতি বাস্তবতাবিবর্জিত, রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত এবং জনমত বিভ্রান্ত করার স্পষ্ট অপচেষ্টা।গত ৬ ডিসেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ন্যাশনাল প্রফেশনালস অ্যালায়েন্সের (এনপিএ) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রমাণনির্ভর যে মন্তব্য করেন, তা সম্পূর্ণ তথ্যসম্মত ও দায়িত্বশীল। গত ২৭ নভেম্বর পাবনার ঈশ্বরদী থানায় নির্বাচনী প্রচারণাকেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলি চালানো তুষার মণ্ডল যে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী, তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে এবং অস্ত্র-গুলিসহ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এমন স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বাস্তবতা অস্বীকার করা সত্য গোপন ও দায় এড়ানোর নিন্দনীয় অপচেষ্টা ছাড়া অন্য কিছু নয়।এনসিপি পরিষ্কারভাবে জানাচ্ছে, সহিংসতা, অস্ত্রনির্ভরতা ও ধর্মের অপব্যবহার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থি। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। তাই জামায়াতে ইসলামিকে সত্য, শান্তি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে এনসিপি। জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের বক্তব্যকে অসত্য, মনগড়া ও উদ্দেশ্যমূলক বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদও জানিয়েছে সংগঠনটি।এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই প্রতিবাদ জানান।তিনি বলেন, ৬ ডিসেম্বর ঢাকার বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ‘অস্ত্রের রাজনীতি’ বা ‘অস্ত্রের মহড়া’ সংক্রান্ত যে অভিযোগ এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন করেছেন, তা বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জামায়াতে ইসলামী একটি দায়িত্বশীল, শান্তিপ্রিয় ও সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল, যা দেশে আইনের শাসন, শান্তি, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের ইতিহাস, আদর্শ ও রাজনৈতিক আচরণ কোথাও এমন অভিযোগকে সমর্থন করে না। তার এই বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, মনগড়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশকে শান্ত ও স্থিতিশীল রাখতে জামায়াত অত্যন্ত সংযম ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে আসছে। দেশের জনগণ জানে-জামায়াত কখনোই সহিংসতা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। অতএব, তার মতো একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার মুখে এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক, অযৌক্তিক ও সস্তা রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ।জুবায়ের বলেন, আমরা আশা করি, আখতার হোসেন তার ভিত্তিহীন বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন। রাজনৈতিক বিভাজনকামী, উত্তেজনামূলক ও অসত্য প্রচারণা জাতির জন্য কোনো উপকার বয়ে আনে না। অসত্য বক্তব্য দিয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। তিনি গণমাধ্যম, রাজনৈতিক মহল ও দেশবাসীকে এ ধরনের মিথ্যাচার এবং অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।অন্যদিকে, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য দেওয়ার পর ভার্চুয়াল এক বক্তব্যে তার পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের পরস্পরকে সমালোচনা করে দেওয়া বক্তব্যের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে উভয় দলের কর্মী ও সমর্থকদেরকেও। নিজ দলের প্রশংসা ও প্রতিপক্ষ দলকে ইঙ্গিত করে সমালোচনামূলক নানা পোস্ট করতে দেখা যাচ্ছে তাদের। দল দুটির মধ্যে তিক্ততা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পাবনা, চট্টগ্রাম, ঝিনাইদহ, চাঁদপুর, রাজশাহী ও নরসিংদীসহ দেশের কোনো কোনো জায়গায় তা সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। পরস্পরবিরোধী বাহাস কিংবা তিক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে, দুই দলের নেতারাই এ জন্য একে অন্যকে দায়ী করে রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন।এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলছেন, আমরা যা বলছি তা ইতিহাস ভিত্তিক ও সত্যি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলছেন, বিএনপির দিক থেকে কিছু আক্রমণাত্মক বক্তব্য আসছে যা অপ্রত্যাশিত।রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দল দুইটির নেতাদের বক্তব্য শুনে তার মনে হয়েছে যে তারা উভয়েই একে অন্যকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে। তার ধারণা, এটি চলতে থাকলে ভোটের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।আরেক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, মূলবিষয় হলো ভোট টানা এবং এক্ষেত্রে বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ ইস্যু আর জামায়াত দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির ইস্যু সামনে নিয়ে এসেছে।সম্প্রতি সিলেটে জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান বলেন, একদল চাঁদাবাজির কারণে জনগণের ঘৃণা কুড়িয়েছে, আরেক দল আবার তার চেয়ে বেশি শক্তি নিয়ে চাঁদাবাজিতে নেমে পড়েছে। একদল দখলদার বনতে গিয়ে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে, আরেক দল বেপরোয়া দখলদার হয়ে উঠেছে। একদল জনগণের জানমাল নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, আরেক দল একই পথ ধরেছে, এমনকি নিজেদের মধ্যে মারামারিতে নিজেদের শেষ করে দিচ্ছে বলছেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, শফিকুর রহমান আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ইঙ্গিত করে এই বক্তব্য দিয়েছেন। ফলে এটি বিএনপির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে, যা অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে রবিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যে।সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভার্চুয়াল বক্তব্যে তারেক রহমান জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, তাদেরকে তো দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে। ১৯৭১ সালে তারা তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে কীভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে ঠিক যেভাবে পতিত স্বৈরাচার পালিয়ে যাবার আগে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছিল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য। পাশাপাশি সাম্প্রতিককালে বিএনপিকে লক্ষ্য করে জামায়াত নেতারা বিভিন্ন সভা সমাবেশে দুর্নীতির বিষয়ে যেসব অভিযোগ করেছেন তারও জবাব দিয়েছেন তারেক রহমান। কেউ কেউ বলে থাকে পলাতক স্বৈরাচার বিএনপির সম্পর্কে যেভাবে মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা ছড়াতো, আমরা ইদানীং লক্ষ্য করছি কিছু কিছু ব্যক্তি বা দল ঠিক একই সুরে গান গাইছে বা একই সুরে কথা বলার চেষ্টা করছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে তাদেরও তো দুজন ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে সেই সময় সরকারে ছিল উল্লেখ করেন তিনি।সোমবারও এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, এখন দেশে এক ধরনের প্রচারণা চলছে- একজন বিশেষ কেউ ভালো, আর বাকি সবাই খারাপ এটা গণতন্ত্রের জন্য ডেঞ্জারাস ব্যাপার। এর আগে দলটি দুটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন।গত ১১ই নভেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে এক বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জামায়াতের টিকিট কাটলেই কি কেউ বেহেশতে যেতে পারবে? যারা এসব মুনাফেকি করে, তাদের কাছ থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে। এরপর ২০ নভেম্বর খুলনায় এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছিলেন, বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলছে। তারা বর্তমানে মাহফিলে বাধা দেয়, মা-বোনদের তালিম প্রোগ্রামে বাধা দেয়। এটি করে তারা জামায়াতকে নয়, মূলত ইসলামকে বাধাগ্রস্ত করছে। এরপর বিএনপি নেতারা জামায়াতের বিরুদ্ধে ধর্ম ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কড়া ভাষায় তার জবাব দিয়েছেন।দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস গত বুধবার ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, জামায়াতের জন্য আওয়ামী লীগই ভালো ছিল। যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বিরুদ্ধে ছিল, তারা এখন ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে। এরপর শিবির নেতা ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের ঠাকুরগাঁওয়ে দেওয়া এক বক্তব্যেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি নেতাদের অনেকেই। সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে বলেছিলেন, লন্ডন, দিল্লি, পিন্ডিতে বসে আর কোনো রাজনীতি চলবে না। নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি দেশেই হবে সিদ্ধান্ত। ধারাবাহিক এসব পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে মধ্যেই কয়েকটি জায়গায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী ও সমর্থকরা।ভোরের আকাশ/এসএইচ

৩ দিন আগে

তফসিল দুই-এক দিনের মধ্যেই, অনৈক্যে দলগুলো

তফসিল দুই-এক দিনের মধ্যেই, অনৈক্যে দলগুলো

০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:০৬ এএম

খালেদা জিয়ার সুস্থতা নিয়ে আশা মেডিকেল বোর্ডের

খালেদা জিয়ার সুস্থতা নিয়ে আশা মেডিকেল বোর্ডের

০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:০৫ এএম

উৎকণ্ঠা অপেক্ষা, দেশব্যাপী দোয়া

উৎকণ্ঠা অপেক্ষা, দেশব্যাপী দোয়া

০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:০৫ এএম

বিদেশে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা

বিদেশে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা

০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:০৫ এএম

বিশেষায়িত চিকিৎসায় খালেদা জিয়া

বিশেষায়িত চিকিৎসায় খালেদা জিয়া

০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি

০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম

কোন ছকে এনসিপি

কোন ছকে এনসিপি

২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম

ভোটের প্রতীকই ফ্যাক্টর

ভোটের প্রতীকই ফ্যাক্টর

২৮ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম

প্রতিশ্রুতির পসরা ভোট প্রার্থীদের

প্রতিশ্রুতির পসরা ভোট প্রার্থীদের

২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০৫ এএম

৩ মাসের প্রচারণার পরিকল্পনা

৩ মাসের প্রচারণার পরিকল্পনা

২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম

ভোট জয়ের কৌশলে জোট

ভোট জয়ের কৌশলে জোট

২৬ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম

৬ লাখ ৬৫ হাজার ৫শ’র বেশি ভোটারের এলাকা পরিবর্তন

৬ লাখ ৬৫ হাজার ৫শ’র বেশি ভোটারের এলাকা পরিবর্তন

২৬ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০৫ এএম

জুলাই সনদ-গণভোটে দ্বিমত হলেও নির্বাচনমুখী দলগুলো

জুলাই সনদ-গণভোটে দ্বিমত হলেও নির্বাচনমুখী দলগুলো

২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১১ এএম

কী চায় বিএনপির মিত্ররা

কী চায় বিএনপির মিত্ররা

২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০৫ এএম

গণভোট সচেতনতায় প্রচারণা

গণভোট সচেতনতায় প্রচারণা

২৪ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১৫ এএম

দৃষ্টি আওয়ামী ভোটে

দৃষ্টি আওয়ামী ভোটে

২৪ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম

অনিশ্চয়তায় জুলাই সংস্কার বাস্তবায়ন

অনিশ্চয়তায় জুলাই সংস্কার বাস্তবায়ন

২৪ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০৫ এএম

বড় জয়ে মুশফিকের শততম টেস্ট রাঙাল বাংলাদেশ দল

বড় জয়ে মুশফিকের শততম টেস্ট রাঙাল বাংলাদেশ দল

২৩ নভেম্বর ২০২৫ ০৪:১৩ পিএম

আমন ধান তোলার আনন্দ কৃষকদের ঘরে ঘরে

আমন ধান তোলার আনন্দ কৃষকদের ঘরে ঘরে

২৩ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১৫ এএম

১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ভোট

১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ভোট

২৩ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম

স্বস্তি রাজনৈতিক মহলে

স্বস্তি রাজনৈতিক মহলে

২১ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০৫ এএম

কঠিন চ্যালেঞ্জে নির্বাচন কমিশন

কঠিন চ্যালেঞ্জে নির্বাচন কমিশন

২১ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম

ঐক্যের আড়ালে অনৈক্য

ঐক্যের আড়ালে অনৈক্য

২০ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৪৬ এএম

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বাস্তব পদক্ষেপ দাবি দলগুলোর

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বাস্তব পদক্ষেপ দাবি দলগুলোর

২০ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১৫ এএম

জেলায় জেলায় ডিসি বদলি, প্রশাসনে চাপা অসন্তোষ

জেলায় জেলায় ডিসি বদলি, প্রশাসনে চাপা অসন্তোষ

২০ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০১ এএম

বছরে আড়াই লাখ কোটি ডলার আয়ের পরিকল্পনা

বছরে আড়াই লাখ কোটি ডলার আয়ের পরিকল্পনা

১৯ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম

আতঙ্কে জোটসঙ্গী, চ্যালেঞ্জে বিএনপি

আতঙ্কে জোটসঙ্গী, চ্যালেঞ্জে বিএনপি

১৯ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০৫ এএম

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড, সঙ্গী কামাল

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড, সঙ্গী কামাল

১৮ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম

শেখ হাসিনার রায় আজ

শেখ হাসিনার রায় আজ

১৭ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম

জামায়াত-এনসিপি ‘হ্যাঁ’ বিএনপি চুপ

জামায়াত-এনসিপি ‘হ্যাঁ’ বিএনপি চুপ

১৭ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০৫ এএম

কীভাবে সামলাবেন ইসি

কীভাবে সামলাবেন ইসি

১৬ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১৪ এএম

নির্বাচনী প্রশাসন সাঁজছে

নির্বাচনী প্রশাসন সাঁজছে

১৬ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম

স্পিন ঝড়ে আইরিশদের গুঁড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

স্পিন ঝড়ে আইরিশদের গুঁড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১২:২৫ এএম

কৌশলে এগোচ্ছে বিএনপি

কৌশলে এগোচ্ছে বিএনপি

১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১২:২০ এএম

শীতের রোগ-প্রতিরোধে জরুরি প্রস্তুতি আছে কী

শীতের রোগ-প্রতিরোধে জরুরি প্রস্তুতি আছে কী

১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১৫ এএম

চলতি মাসে আরও ভয়াবহ হতে পারে ডেঙ্গু

চলতি মাসে আরও ভয়াবহ হতে পারে ডেঙ্গু

১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম

সড়কজুড়ে যানবাহন সংকট, দুর্ভোগ চরমে

সড়কজুড়ে যানবাহন সংকট, দুর্ভোগ চরমে

১৪ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০৪ এএম

সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সরকারের

সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সরকারের

১৪ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম

সরকার হার্ডলাইনে

সরকার হার্ডলাইনে

১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১২:২০ এএম

দৃষ্টি সবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে

দৃষ্টি সবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে

১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১৫ এএম

জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, কী হবে আজ

জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, কী হবে আজ

১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম

চাপ বাড়ছে সরকারের ওপর

চাপ বাড়ছে সরকারের ওপর

১২ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১৫ এএম

নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে ‘উদ্বেগে’ ইসি কর্মকর্তারা

নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে ‘উদ্বেগে’ ইসি কর্মকর্তারা

১২ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১০ এএম

১৪ দলীয় জোটকে ডাকা হচ্ছে না

১৪ দলীয় জোটকে ডাকা হচ্ছে না

১০ নভেম্বর ২০২৫ ১২:২২ এএম

সমাধান কোন পথে

সমাধান কোন পথে

১০ নভেম্বর ২০২৫ ১২:১৭ এএম