মধ্যনগর(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ০৬:৩০ পিএম
ছবি: ভোরের আকাশ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের রংচী গ্রামের শতবর্ষী হিজল বাগান রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের পরও দখলদারদের তৎপরতা থামেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায়ের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে বর্তমানে বাগানের ভেতরে প্রকাশ্যেই ধান চাষ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ ডিসেম্বর দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনও উজ্জ্বল রায় সরেজমিন অভিযান পরিচালনা করে হিজল বাগানের ভেতরে সব ধরনের কৃষিকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। অভিযানের সময় অবৈধ মাটি অপসারণ, গাছ কাটার চিহ্ন এবং চাষাবাদের প্রস্তুতির আলামত দেখে সংশ্লিষ্টদের কড়া ভাষায় সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
কিন্তু অভিযানের কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবারও বাগানের ভেতরে চাষাবাদ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, রংচী গ্রামের আব্দুল হেলিম, মকবুল হোসেন বকুল, শুক্কুর আলী, লাল মিয়া, রহিছ মিয়া, সাদ্দাম মিয়া, ফসর আলীসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে বাগানের জমিতে ধান রোপণ করছেন। প্রতিদিন প্রকাশ্যেই কৃষিকাজ চললেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর।
উপজেলা রংচী গ্রামের বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, হিজল বাগানটিকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য দ্রুত সীমানা নির্ধারণ, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, দ্রুত পুনরায় অভিযান চালিয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে শতবর্ষী এই হিজল বাগান রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী বলেন, ইউএনও স্যার নিজে এসে নিষেধ করে গেছেন। এরপরও দখলদাররা প্রকাশ্যে ধান লাগাচ্ছে। প্রশাসনের নীরবতায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ‘ম্যানেজ’ করেই দখলদাররা প্রকাশ্যে কৃষিকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন, হিজল বাগানে কোনো ধরনের চাষাবাদের অনুমতি নেই। এখানে কিছু আইনগত জটিলতা রয়েছে। খুব শিগগিরই আমি সরেজমিনে যাব। তবে কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/আ.ব