আতঙ্কে জোটসঙ্গী, চ্যালেঞ্জে বিএনপি
আর মাত্র আড়াই মাস পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা দেওয়া হবে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ২৩৭ আসনের ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটের মাঠে রয়েছেন। তবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় একটির আসনের প্রার্থীতা বাতিল করেছে দলটি। দলটির ঘোষিত আসনের মধ্যে প্রায় অর্ধশত আসনে বিদ্রোহ প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এছাড়া বাকি ৬৪ আসনে বিএনপি ও জোটবদ্ধ ছোট ছোট দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থীরা ভোটের মাঠে থাকলেও নিজদলীয় ও জোটের শরিকদের প্রার্থী এখনও সুনির্দ্দিষ্ট করে ঘোষিত হয়নি। কাজেই জোটের শরিকদের যে সব আসন ছেড়ে দেওয়া হবে, সেসব আসনে শীর্ষ দলের কেউ না কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার আশঙ্কা-মনে করছে করছেন ছোট দলগুলোর নেতারা। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্রোহী আতঙ্কে জোটসঙ্গী ছোট দলগুলোর পাশপাশি বিদ্রোহী ঠেকানোর চ্যালেঞ্জে শীর্ষদল বিএনপির। নির্দেশ উপক্ষো করে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে বহিষ্কারের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে দলটির হাইকমান্ড। দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসীবাদবিরোধী আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ থাকা রাজপথের সহযোদ্ধাদের ভোটের সঙ্গী হিসেবে পাশে চায় বিএনপি-এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তাদের ধারণা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের টাগের্ট করেই ভোটের মাঠে জোট করেছে দলটি। রাষ্ট্রক্ষমতার সঙ্গে থাকার লক্ষ্যে শীর্ষ এই দলটির সঙ্গে ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলো জোটে ভোট করারও বিষয়টি মাথায় রেখে এগুচ্ছে-মনে করছেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।বিএনপির বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই প্রকাশ্যে আসছে বিএনপি ও জোটসঙ্গীদের মনোনয়ন সংক্রান্ত অস্থিরতা। গত ৩ নভেম্বর ২৩৭ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকে অর্ধশতাধিক আসনে সড়ক অবরোধ, রেললাইন অবরোধ, মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে।দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন সংগঠনে সক্রিয় থাকা অনেক নেতার প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ত্যাগ ও সংগ্রামের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় বঞ্চিত নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র। এছাড়া কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বনাম স্থানীয় জনপ্রিয়তার দ্বন্দ্বও নেতাদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। বিএনপি চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে আলোচিত নেতা, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরীকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দিয়েছে তুলনামূলক নতুন মুখ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিনকে। আসলাম চৌধুরী মনোনয়ন না পাওয়ায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন-নির্বাচন যখনই হোক, আমি অংশ নেবো। সীতাকুণ্ডের জনগণ তার সঙ্গে আছে। মনোনয়ন নয়, শেষ ফলটাই গুরুত্বপূর্ণ- এমন বার্তা দিয়েই তিনি মাঠে সক্রিয়। নাটোর-১ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির বিশেষ সহকারী, মিডিয়া সেল সদস্য ফারজানা শারমিন পুতুলকে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাইফুল ইসলাম টিপু। তিনি বলেন, দল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিলে জনগণের রায় নিয়েই এগোবো। স্বতন্ত্র হলেও বিজয় হবে বলে আশাবাদী। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শওকতুল ইসলাম শকুকে। এ আসনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন। প্রার্থী ঘোষণার পর তার সমর্থকরা এলাকায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, পথসভা ও দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি করে বিক্ষোভ দেখান। ঢাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনেও আবেদ রাজার সমর্থকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।আবেদ রাজা বলেন, আশা করি ধানের শীষ পাবো। না পেলে জনগণের সিদ্ধান্তকেই মান্য করবো। মাদারীপুর-১ আসনে মনোনয়ন পান জামান কামাল নুরুউদ্দিন মোল্লা। তিনি ঢাকা-১৭ আসনেও প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাভলু। প্রার্থী ঘোষণার পরপরই প্রতিবাদে লাভলুর কর্মী-সমর্থকরা ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চরে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। এতে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। পরে এ আসনে মনোনয়ন স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় বিএনপি।সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আলাউদ্দিন। তিনি আগে সাতক্ষীরা-৪ আসনে জাতীয় পার্টি (নাজিউর) থেকে নির্বাচিত ছিলেন। এ আসনে গরিবের ডাক্তারখ্যাত ডা. শহিদুল আলম মাঠপর্যায়ে ব্যাপক জনপ্রিয়। তিনি মনোনয়ন না পাওয়ায় টানা বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন তার কর্মী-সমর্থকরা। দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, এই আসনে ডা. শহিদুল আলমই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী, তাকে বাদ দিলে বিএনপির জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হবে। সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আলিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রউফ। প্রার্থী ঘোষণার পরদিন রাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ‘মশাল মিছিল’ করেন আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী চেয়ারম্যান আব্দুল আলিমের সমর্থকেরা। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর মাঠে নেমেছেন সাবেক মেয়র তাজকিন চিশতীর অনুসারীরাও। এমন আন্দোলন-প্রতিবাদ চলছে অর্ধশতাধিক আসনে, যা নিয়ে দলের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অস্বস্তি। স্থানীয় নেতাকর্মীরাও এখনো দ্বিধা-বিভক্ত। কে কার পক্ষে প্রচারণা চালাবে সেটা নিয়ে এক ধরনের উত্তেজনাও চলছে। যার সুযোগ নিচ্ছে অন্য দলগুলো।বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণার পর সারাদেশে বিভিন্ন জেলায় অর্ধশতাধিক আসনে মনোনয়নবঞ্চিত নেতার সমর্থকরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি, অবস্থান, অনশন ও শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। ঢাকা বিভাগে মানিকগঞ্জ-১, ঢাকা-১২, মাদারীপুর-১ ও ২, মুন্সিগঞ্জ-১, গাজীপুর-৬ এবং গোপালগঞ্জ-২ আসনের মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসব এলাকায় বিক্ষোভ, দলীয় কার্যালয় ঘেরাও এবং মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম-২, ৪ ও ১৬, কুমিল্লা-৫, ৬, ৯ ও ১০, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, নোয়াখালী-২ ও ৫, ফেনী-২ এবং চাঁদপুর-৪ আসনে মনোনয়নবঞ্চিতদের কর্মসূচি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও বিক্ষোভ মিছিল—কিছু এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও হয়। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার-২, রংপুরের দিনাজপুর-২ ও কুড়িগ্রাম-৩ এবং ময়মনসিংহের ময়মনসিংহ-৩, ৬, ৯ ও শেরপুর-১ ও-২ আসনেও বঞ্চিত নেতাদের সমর্থকেরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া-২, ৩ ও ৪, সাতক্ষীরা-২, ৩, ঝিনাইদা-৩, মেহেরপুর-১ ও ২ এবং মাগুরা-২ আসনে দলীয় নেতাকর্মীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। জেলা কার্যালয়ের সামনে ধরনা ও মিছিলসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী-১, ৩ ও ৫, নওগাঁ-১, ৩ ও ৪, জয়পুরহাট-২, নাটোর-১, পাবনা-৪ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনেও একইভাবে দলীয় অসন্তোষ বিস্তার লাভ করে। নেতাকর্মীরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব এলাকায় জনপ্রিয় নেতারা বাদ পড়ায় কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। যার ফায়দা লুটতে পারেন প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা। বেশ কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে বলেও মনে করছেন তারা। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের একটি অংশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রাথমিক তালিকায় বাদ পড়া ৫০-৬০টি আসনের বাইরে আরও প্রায় সমান সংখ্যক আসনে নেতারা ক্ষুব্ধ এবং স্বতন্ত্রভাবে অংশ নেওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছেন। বিশেষ করে মিত্রদলগুলোকে এখনো আসন বণ্টন না দেওয়ায় কিছু এলাকা এখনো বিএনপিসহ জোটসঙ্গী ছোট দলগুলোর নেতারা প্রচারণায় রয়েছে বলে জানা যায়।তবে এটি নির্বাচনের আগে দলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। তাদের মতে, এই আসনগুলোতে যদি বিদ্রোহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়ান, তবে ভোট বিভাজন অনিবার্য হবে। এর প্রভাব মূল দলের প্রার্থীর জন্য নেতিবাচক হতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, নওগাঁ ও গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে এ ধরনের বিদ্রোহ দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বনাম স্থানীয় জনপ্রিয়তার দ্বন্দ্ব স্পষ্ট। প্রাথমিক তালিকায় নাম থাকলেও পরে বাদ দেওয়া, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনে সক্রিয় নেতা বাদ পড়া এবং স্থানীয় সমর্থকের ক্ষোভ-এসব কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে। এই বিদ্রোহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হলে ভোট ভাগ হতে পারে, যা শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সব ঘটনাই আমাদের পর্যবেক্ষণে আছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের টিম মাঠে কাজ করছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর স্থায়ী কমিটিতে বিষয়টি আলোচনা হবে।এদিকে, ৬৩টি সংসদীয় আসনে কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। এসব আসনে বিএনপি ও শরিক দলগুলো আলোচনার মাধ্যমে প্রার্থী ঠিক করবে।এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, যে আমাদের সঙ্গে যারা যুগপৎ আন্দোলনে করেছেন, যেসব আসনে তারা আগ্রহী; সেসব আসনে আমরা কোনো প্রার্থী দেইনি। আমরা আশা করছি আলোচনার মাধ্যমে তারা তাদের নাম ঘোষণা করবেন। সেগুলো আমরা চূড়ান্ত করব।তিনি বলেন, এটি আমাদের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা। এরমধ্যেও পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে আমাদের যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আমরা এ পরিবর্তন আনতে পারি। অথবা যদি স্ট্যান্ডিং কমিটি বা পার্লামেন্টারি বোর্ড মনে করে তারা কোনো আসনে পরিবর্তন আনবেন, নিঃসন্দেহে যে নিয়মগুলো আছে সেগুলো মেনে আমরা পরিবর্তন আনতে পারব। তিনি আরও বলেন, তবে আমরা যে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা দিচ্ছি এটাকেই ধরে নিতে হবে সবচেয়ে অ্যাপ্রোপ্রিয়েট তালিকা।যেসব আসনে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করেনি : ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৫, নীলফামারী-১, নীলফামারী-৩, লালমনিরহাট-২, বগুড়া-২, নওগাঁ-৫, নাটোর-৩, সিরাজগঞ্জ-১, পাবনা-১, ঝিনাইদহ-১, ঝিনাইদহ-২, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-৫, নড়াইল-২, বাগেরহাট-১, বাগেরহাট-২, বাগেরহাট-৩, খুলনা-১, পটুয়াখালীÑ ২, পটুয়াখালী-৩, বরিশাল-৩, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-১, টাঙ্গাইল-৫ ও ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ-১, কিশোরগঞ্জ-৫, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-৯, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৭, ঢাকা-১৮, ঢাকা-২০, গাজীপুর-১, গাজীপুর-৬, নরসিংদী-৩, নারায়ণগঞ্জ-৪, রাজবাড়ী-২, ফরিদপুর-১, মাদারীপুর-২, সুনামগঞ্জ-২, সুনামগঞ্জ-৪, সিলেট-৪, সিলেট-৫, হবিগঞ্জ-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, কুমিল্লা-২, কুমিল্লা-৭, লক্ষ্মীপুর-১, লক্ষ্মীপুর-৪, চট্টগ্রাম-৩, চট্টগ্রাম-৬, চট্টগ্রাম-৯, চট্টগ্রাম-১১, চট্টগ্রাম-১৪, চট্টগ্রাম-১৫ ও কক্সবাজার-২।এ বিষয়ে বিএনপির জোটসঙ্গী একটি দলের একাধিক নেতা বলেন, তাদের কিছু আসনে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে বিএনপি আগে থেকেই ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু তা চূড়ান্ত হয়নি। আসন সমঝোতার আলোচনা চলছে, দ্রত একটা সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করছেন তারা।বিএনপির মিত্র একটি জোটের একাধিক নেতা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি সারা দেশে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ঢাকা-৭ আসনে জোটের জন্য রাখা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এই আসনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী অথবা খোলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে জোটের প্রার্থী করা হতে পারে। কিন্তু এই আসনে বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী হওযার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলটির স্থানীয় নেতাদের সূত্রে জানা গেছে।পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) আসনে এখন কৌতূহল আর জল্পনা বিরাজ করছে। বিএনপি এখনো এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি, আর তাতেই রাজনীতির মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হলো বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন চলছে-এই আসনটি নাকি রাখা হয়েছে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের জন্য। এ আসনে দলটির নির্বাহী সদস্য হাসান মামুনের জনপ্রিয়তা বেশী। কাজেই তিনিও প্রচার-প্রচারণায় ভোটের রয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিএনপি হয়ত কৌশলগত কারণেই এই আসনটি খালি রেখেছে, ভিপি নূরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ জোট বা সমঝোতার অংশ হিসাবে। স্থানীয়ভাবে এরইমধ্যে ভিপি নূরের দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা চোখে পড়ছে-বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে স্থানীয় জনগনের দাবি, ধানের শীষের বিকল্প নেই। এমনকি এ আসনেও বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপর জোটসঙ্গী দলগুলোর সূত্রে জানা গেছে, এলডিপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, গণঅধিকার পরিষদ, গণফোরাম, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জোট ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের জন্য আসন ফাঁকা রেখেছে বিএনপি। বিএনপির সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে যারা অগ্রাধিকার পেতে পারেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক। তিনি চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপির সমর্থন পেতে পারেন। ওই আসনে কাউকে মনোনয়ন দেয়নি বিএনপি। বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। এ আসনে কাউকে মনোনয়ন দেয়নি বিএনপি। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর তিনি পটুয়াখালী-৩ আসনে সমর্থন পেতে পারেন। দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান নির্বাচন করবেন ঝিনাইদহ-২ থেকে। এ আসনেও বিএনপি প্রার্থী দেয়নি। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে সমর্থন পেতে পারেন বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র সাহাদাত হোসেন সেলিম। এ আসনেও বিএনপি কাউকে মনোনয়ন দেয়নি।এ প্রসঙ্গে সাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমাকে অনেক আগেই মৌখিকভাবে কাজ করার জন্য বিএনপির উচ্চমহল থেকে সংকেত দেওয়া হয়েছে। আমি নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছি। আশা করছি, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপির সমর্থন আমার ওপর থাকবে।তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালেও তিনি এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে লড়বেন জেএসডির আসম আব্দুর রবের স্ত্রী তানিয়া রব। এ আসনেও প্রার্থী দেয়নি বিএনপি। ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করবেন বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ। আর ববি হাজ্জাজ নির্বাচন করবেন ঢাকা-১৩ থেকে। এ দুটি আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি। ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। এ আসনে বিএনপি কাউকে মনোনয়ন দেয়নি।এ প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সময়ে আমরা বিএনপির পাশে থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করেছি। এখনো বিএনপির পাশেই আছি। জোটসঙ্গী হিসাবে আমি ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির সমর্থন পাব বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২০১৮ সালের নির্বাচনে পিরোজপুর-২ আসনে নির্বাচন করেছিলাম। এবার ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপি আমাকে সমর্থন দেবে বলে বিশ্বাস করি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি ওই নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগও করছেন। এ আসনটিতেও কাউকে মনোনয়ন দেয়নি দলটি।ভোরের আকাশ/এসএইচ