ওমান উপসাগরে ছয় মিলিয়ন লিটার চোরাচালানকৃত ডিজেল বহনের অভিযোগে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে ইরান। জাহাজটিতে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মোট ১৮ জন নাবিক ছিলেন বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।।ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবারের (১৩ ডিসেম্বর) মধ্যে এটিকে আটক করা হয়।ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানায়, হরমোজগান প্রদেশের উপকূলে জাহাজটি আটক করা হয়। আটককালে জাহাজটির সব নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রায়ই উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি পাচারের অভিযোগে জাহাজ জব্দের ঘোষণা দেয়। ইরানে জ্বালানির দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচার লাভজনক হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হয়।গত মাসেও গালফ অঞ্চলে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছিল ইরান। সে সময় তেহরান জানায়, এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নয়।সর্বশেষ এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই জাহাজটি ইরান ও ভেনিজুয়েলা থেকে তেল পরিবহন করছিল।ভোরের আকাশ/তা.কা
৪ ঘন্টা আগে
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দুই দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান সংঘাতে গত ৬ দিনে কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সহিংসতার কারণে প্রায় সাত লাখ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা এজেন্সি কম্পুচিয়া প্রেস জানিয়েছে, ৭ ডিসেম্বর সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কম্বোডিয়ায় ১১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৭৬ জন বেসামরিক নাগরিক। এ ছাড়া সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন দুই লাখ ৭৪ হাজার ৪০৩ জন মানুষ।গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে কম্বোডিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল ম্যালি সোচেতা সাংবাদিকদের জানান, সংঘাতে একজন কম্বোডীয় সেনা নিহত হয়েছেন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নিহতের সংখ্যায় ওই সেনাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।অন্য দিকে শুক্রবার থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও মুখপাত্র সুরাসান্ত কংসিরি এক বিবৃতিতে জানান, সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৯ জন থাই সেনা এবং ৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১৯০ জন। সংঘাতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে বাড়িঘর ছেড়ে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন ৪ লাখ থাই নাগরিক।দীর্ঘ ১১৮ বছর ধরে ‘এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গল’ বা পান্না ত্রিভুজ নামে পরিচিত একটি ভূখণ্ড নিয়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওস—এই তিন দেশের সীমান্ত মিলিত হয়েছে পান্না ত্রিভুজ এলাকায়। প্রাচীন মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপনায় সমৃদ্ধ এই অঞ্চলটিকে উভয় দেশই নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে।এই সংকটের সূচনা হয় গত শতকের প্রথম দশকে, যখন কম্বোডিয়া ছিল ফ্রান্সের উপনিবেশ। ১৯০৭ সালে ফ্রান্স প্রকাশিত এক মানচিত্রে পান্না ত্রিভুজকে কম্বোডীয় ভূখণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তখন থেকেই থাইল্যান্ড এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।১৯৫৩ সালের ৯ নভেম্বর ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে কম্বোডিয়া। তবে স্বাধীনতার পরও পান্না ত্রিভুজের দখল ধরে রাখে দেশটির সরকার, ফলে থাইল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি।দীর্ঘদিনের সীমান্ত সংঘাতের পর ১৫ বছর আগে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে গত বছরের মে মাস থেকে আবারও উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় গত জুলাইয়ের শেষ দিকে থাই ও কম্বোডীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে পাঁচ দিনের সংঘাতে উভয় দেশের ৪৮ জন নাগরিক নিহত হন এবং ৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় দুই দেশ।চার মাসেরও বেশি সময় শান্ত থাকার পর গত ৭ ডিসেম্বর রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পর সীমান্তবর্তী থাই প্রদেশ সি সা কেত এলাকায় আবারও থাই ও কম্বোডীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাত শুরু হয়।সূত্র: আনাদোলু এজেন্সিভোরের আকাশ/মো.আ.
৯ ঘন্টা আগে
কম্বোডিয়ার সঙ্গে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সীমান্ত সংঘর্ষের জেরে থাইল্যান্ডের আইনসভা ভেঙে দিয়ে জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিলেন থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। আগামী ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক রাজকীয় ডিক্রিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, তিন মাস আগে তার সংখ্যালঘু সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আসছে।তিনি বলেন, ‘উপযুক্ত সমাধান হলো সংসদ ভেঙে দেওয়া…যা হবে জনগণের কাছে রাজনৈতিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার একটি উপায়’। ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিক হওয়া আনুতিন ২০২৩ সালের অগাস্টের পর থেকে থাইল্যান্ডের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী। সেপ্টেম্বর মাসে তিনি যখন ক্ষমতায় আসেন তখনই জানুয়ারির শেষ নাগাদ সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।গত মাসে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলায় ব্যর্থতার কারণে আনুতিন ও তার ভূমজাইথাই পার্টি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল। ওই বন্যায় অন্তত ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়। কম্বোডিয়ার সঙ্গে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষের মধ্যেই সংসদ ভেঙে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত এলো। এবারের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন নিহত এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।থাইল্যান্ডের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্নের অনুমোদিত ডিক্রিতে আনুতিন লিখেছেন, ‘এই সরকার দেশের সামনে আসা জরুরি সমস্যা দ্রুত সমাধানে জনপ্রশাসনের সব ধরনের উপায় প্রয়োগ করেছে… কিন্তু দেশ চালাতে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। সংখ্যালঘু সরকার হিসেবে জটিল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে, এটি ধারাবাহিক, কার্যকর এবং স্থিতিশীল জনপ্রশাসন পরিচালনা করতে সক্ষম হয়নি।’আনুতিনের প্রধানমন্ত্রিত্বকে সমর্থন দেওয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং সবচেয়ে বড় যুবসমর্থিত, প্রগতিশীল দল পিপল’স পার্টি তার পাশ থেকে সরে যাবার পরই সংসদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এলো। মতাদর্শিক দিক দিয়ে পিপল’স পার্টি আর বাস্তববাদী, রক্ষণশীল ভূমজাইথাই পার্টির অবস্থান দুই বিপরীত মেরুতে। বিরোধী জোটের এই সমর্থন ছিল শর্তসাপেক্ষ। অন্যান্য দাবির পাশাপাশি তারা চাইছিল আনুতিন যেন সামরিক বাহিনী প্রণীত সংবিধানের সংস্কার শুরু করেন এবং চার মাসের মধ্যে সংসদ ভেঙে দেন।পিপল’স পার্টির এখন অভিযোগ, ভূমজাইথাই সেই চুক্তি রক্ষা করেনি। থাই গণমাধ্যম জানিয়েছে, তারা শুক্রবার সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ‘জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ দেখাতে’ প্রধানমন্ত্রীকে সংসদ ভেঙে দিতে আহ্বানও জানিয়েছিল দলটি।প্রসঙ্গত, গত এক বছর ধরে থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলমান। এই সময়ে দুইজন প্রধানমন্ত্রীকে পদচ্যুতও করেছেন আদালত। নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে আনুতিনের পূর্বসূরি পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে অপসারণ করা হয়। সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ফাঁস হওয়া এক ফোন কলে কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনকে তিনি ‘চাচা’ বলে সম্বোধন করেন এবং থাই সেনাবাহিনীর সমালোচনা করেছিলেন। তার আগের নেতা স্রেত্তা থাভিসিনকেও নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে বরখাস্ত করা হয়। থাভিসিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি তার মন্ত্রিসভায় এমন একজন সাবেক আইনজীবীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন যিনি একসময় জেলে ছিলেন।ভোরের আকাশ/এসএইচ
২০ ঘন্টা আগে
জাপানের উত্তর–পূর্বাঞ্চলে আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে উপকূলীয় অঞ্চল। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৪ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭, যা আওমোরি উপকূলে ২০ কিলোমিটার গভীরে উৎপত্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (জেএমএ)। ভূমিকম্পের পরই সতর্কতামূলক সুনামি সতর্কতা জারি করেছে সংস্থাটি।প্রাথমিক তথ্যে জানানো হয়েছে, কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল সমুদ্রের প্রায় ২০ কিলোমিটার গভীরে। কয়েকদিন আগেই ওই এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। পরপর শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।গত সোমবারের ভূমিকম্পের পর থেকেই সরকার উত্তরের হোক্কাইডো থেকে শুরু করে রাজধানী টোকিও–সংলগ্ন চিবা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে জনগণকে সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে এক সপ্তাহের মধ্যে আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে স্থানীয়দের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থান করায় দেশটিতে ভূমিকম্প নিয়মিত ঘটনা। ২০১১ সালের তোহোকু ভূমিকম্প ও সুনামি দেশটির আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত, যেখানে ২২ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক কেন্দ্রে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে।সূত্র: আল জাজিরার।ভোরের আকাশ/তা.কা
১ দিন আগে
