স্বাস্থ্য পুষ্টি

বয়স ৫০ পেরোলেই সকালের নাস্তায় যেসব খাবার জরুরি

ছবি: সংগৃহীত

বয়স ৫০ পেরোনোর পর শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। হরমোনের ওঠানামা, পেশির পরিমাণ কমে যাওয়া এবং বিপাকক্রিয়ার গতি ধীর হওয়ার কারণে অনেকেরই পেটের চারপাশে চর্বি জমতে শুরু করে। একবার এই মেদ জমে গেলে তা কমানোও তুলনামূলক কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুতে সঠিক খাবার নির্বাচন করলে পেটের মেদ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে। ক্রীড়া পুষ্টিবিদ এবং আমেরিকান একাডেমি অব স্পোর্টস মেডিসিন-স্বীকৃত ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক টারা কলিংউডের মতে, প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সুষম সমন্বয়ে তৈরি সকালের নাস্তা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়।

স্বাস্থ্যবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘ইট দিস, নট দ্যাট!’-এর এক প্রতিবেদনে ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য পেটের মেদ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক পাঁচটি সকালের খাবারের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

সেদ্ধ ডিম
উচ্চমানের প্রোটিনের অন্যতম উৎস সেদ্ধ ডিম। এটি পেশি ধরে রাখতে সাহায্য করার পাশাপাশি রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখে এবং দীর্ঘ সময় ক্ষুধা কম অনুভব করতে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন এক থেকে দুটি ডিম শাকসবজি ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সঙ্গে খাওয়ার পরামর্শ দেন।

ওটস
দ্রবণীয় ফাইবারসমৃদ্ধ ওটস ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। এটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার পাশাপাশি ভিসেরাল ফ্যাট কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও ওটস উপকারী।

গোটা শস্যজাত খাবার
হোল গ্রেইন বা গোটা শস্য দিয়ে তৈরি খাবার ধীরে হজম হয়। ফলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এসব খাবার রাখলে ওজন ও পেটের মেদ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার
কাঠবাদাম, আখরোট, অ্যাভোকাডো এবং বাদামের মাখনে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে দিনের বাকি সময়ে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।

চিনি ছাড়া দই ও বেরি ফল
চিনি ছাড়া দই উচ্চ প্রোটিন ও প্রোবায়োটিকের ভালো উৎস। এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং হজমে সহায়তা করে। অন্যদিকে ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি ও রাস্পবেরির মতো বেরি ফলে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার, যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দইয়ের সঙ্গে বেরি ফল বা ওটস মিশিয়ে খেলে আরও বেশি উপকার পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নির্দিষ্ট খাবার খেলেই পেটের মেদ কমবে না। এর পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ভোরের আকাশ/সু.পা