পরামর্শ

দিনের বেলার ঘুমে মস্তিষ্ক থাকবে তরুণ, মানতে হবে সময়সীমা

ছবি: সংগৃহীত

ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে দুপুরের ছোট্ট একটি ঘুম বা ‘পাওয়ার ন্যাপ’ শুধু ক্লান্তিই দূর করে না, বরং মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে এবং বার্ধক্যজনিত ক্ষয় ধীর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সুফল পেতে হলে ঘুমের সময়সীমা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের বেলায় মাত্র ১০ মিনিটের একটি ন্যাপ সতর্কতা, মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সবচেয়ে কার্যকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ থেকে ৩০ মিনিটের ঘুম দ্রুত ক্লান্তি দূর করে, মেজাজ ভালো রাখে এবং মানসিক কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

এছাড়া ২০২১ সালের একটি মেটা-অ্যানালাইসিসে দেখা গেছে, স্বল্প সময়ের ন্যাপ উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতাও উন্নত করতে পারে।

কেন বেশি সময় ঘুমানো উচিত নয়?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের বেলায় দীর্ঘ সময় ঘুমালে উল্টো কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ গবেষণা অনুযায়ী, ৩০ মিনিটের কম সময়ের ন্যাপই সবচেয়ে উপকারী। এর অন্যতম কারণ ‘স্লিপ ইনারশিয়া’। ৩০ মিনিটের বেশি ঘুমালে শরীর গভীর ঘুমের স্তরে প্রবেশ করতে পারে। ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথা ভার লাগা, ঝিমুনি, মনোযোগে ঘাটতি বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

এ ছাড়া দীর্ঘ সময় দিনের বেলা ঘুমালে রাতের স্বাভাবিক ঘুমও ব্যাহত হতে পারে। বিশেষজ্ঞ ড. ইশান ঝু-এর ভাষায়, দিনের বেলার অতিরিক্ত ঘুম অনেকটা ‘রাতের খাবারের আগে কেক খাওয়ার মতো’। এতে রাতের ঘুমের চাহিদা কমে যায় এবং অনিদ্রার ঝুঁকি বাড়ে। তাই তিনি দিনের বেলার ন্যাপ ৪০ মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

অতিরিক্ত ঘুমে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি
গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের বেলায় ৬০ মিনিটের বেশি ঘুমানোর সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক থাকতে পারে। তাই নিয়মিত দীর্ঘ সময় ন্যাপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

মস্তিষ্ককে রাখতে পারে আরও তরুণ
৩৫ হাজার ৮০ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত স্বল্প সময়ের ন্যাপ নেন, তাদের মস্তিষ্কের আয়তন তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। গবেষকদের মতে, নিয়মিত ন্যাপ নেওয়া ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের জৈবিক বয়স, ন্যাপ না নেওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ বছর কম হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা সংকুচিত হয়। দিনের বেলার পরিমিত ঘুম এই প্রক্রিয়া ধীর করতে সহায়তা করতে পারে।

ঘুমকে আরও কার্যকর করার উপায়

দিনের বেলার ঘুম থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন—

ঘুমানোর আগে অবশ্যই অ্যালার্ম সেট করুন, যাতে নির্ধারিত সময়ের বেশি ঘুম না হয়।

যদি ক্লান্তি অনুভব করেন কিন্তু রাতে ঘুমের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে ঘুমানোর পরিবর্তে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি বা হালকা শরীরচর্চা করতে পারেন।

দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভূত হলে শুধু ঘুমের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ পুষ্টির ঘাটতি বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ থেকে ৩০ মিনিটের একটি নিয়ন্ত্রিত পাওয়ার ন্যাপ হতে পারে কর্মব্যস্ত দিনে শরীর ও মস্তিষ্ককে সতেজ রাখার সহজ ও কার্যকর উপায়।

ভোরের আকাশ/সু.পা

দিনের বেলার ঘুমে মস্তিষ্ক থাকবে তরুণ, মানতে হবে সময়সীমা | স্বাস্থ্য কথা