গলার এই পরিবর্তনগুলো হতে পারে থাইরয়েড ক্যানসারের ইঙ্গিত

ছবি: সংগৃহীত
গলার নিচের অংশে প্রজাপতির আকৃতির ছোট একটি গ্রন্থি হলো থাইরয়েড। শরীরের তাপমাত্রা, হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ ও মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে এই অঙ্গটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে থাইরয়েডের কোষ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করলে তৈরি হতে পারে থাইরয়েড ক্যানসার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্যানসারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর লক্ষণগুলো সাধারণ রোগের মতো হওয়ায় অনেকেই সহজে বুঝতে পারেন না। অনেক সময় দীর্ঘদিন ধরেও রোগটি শরীরে নীরবে ছড়িয়ে পড়ে, অথচ আক্রান্ত ব্যক্তি তা টের পান না।
চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থাইরয়েড ক্যানসারের উপসর্গকে অ্যাসিডিটি, ভাইরাল সংক্রমণ বা গলার সাধারণ সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হয়। ফলে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয় এবং চিকিৎসাও পিছিয়ে যায়।
থাইরয়েড ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. ন্যান্সি পেরিয়ের জানিয়েছেন, সচেতনতার অভাবেই অনেকে দেরিতে রোগটি সম্পর্কে জানতে পারেন। তবে সময়মতো লক্ষণগুলো শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিচের পাঁচটি লক্ষণ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
গলার সামনে গাঁট বা ফোলাভাব : গলার সামনের দিকে শক্ত বা অস্বাভাবিক কোনো গাঁট দেখা দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। অনেক সময় এটি ব্যথাহীন হওয়ায় সাধারণ ফোলাভাব ভেবে অবহেলা করা হয়।
গলা বা কানের দিকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা : গলায় চাপ বা ব্যথা অনুভূত হওয়া এবং সেই ব্যথা কানের দিকে ছড়িয়ে পড়াও থাইরয়েড ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে।
কণ্ঠস্বর পরিবর্তন বা স্বরভঙ্গ : থাইরয়েড গ্রন্থি স্বরযন্ত্রের কাছাকাছি থাকায় টিউমার তৈরি হলে কণ্ঠস্বর বদলে যেতে পারে। তিন সপ্তাহের বেশি সময় স্বরভঙ্গ থাকলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
গিলতে বা শ্বাস নিতে অসুবিধা : খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি বা শ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দিলে তা থাইরয়েড টিউমারের লক্ষণ হতে পারে।
দীর্ঘদিন শুকনো কাশি থাকা : সর্দি বা অ্যালার্জি ছাড়াই টানা শুকনো কাশি থাকলে সেটিও অবহেলা করা উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি। কারণ সময়মতো শনাক্ত করা গেলে থাইরয়েড ক্যানসার সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং জটিলতার ঝুঁকিও অনেক কমে যায়।
সূত্র : দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস
ভোরের আকাশ/সু.পা



