হিটস্ট্রোকের আগে জেনে নিন শরীরের সতর্কবার্তা

ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহে সুস্থ থাকা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের ধারণা, তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না হলে হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা থাকে না। তবে চিকিৎসকদের মতে, মাত্র ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও হিটস্ট্রোক হতে পারে। বিশেষ করে শরীরে পানিশূন্যতা থাকলে, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি হলে কিংবা বদ্ধ পরিবেশে দীর্ঘ সময় কাজ করলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিটস্ট্রোক সাধারণত হঠাৎ করে হয় না। এর আগে শরীর বেশ কিছু সতর্ক সংকেত দেয়। কিন্তু অনেকেই এসব লক্ষণকে সাধারণ গরমজনিত অস্বস্তি ভেবে অবহেলা করেন, যা পরবর্তীতে মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
হিটস্ট্রোকের আগে শরীর যে সংকেত দেয়
এশিয়ান হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. প্রাণজিৎ ভৌমিকের মতে, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে কিছু স্পষ্ট লক্ষণ দেখা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে— অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা অবসাদ, মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম ভাব, মাথাব্যথা ও বমি বমি ভাব, মাংসপেশিতে টান বা ক্র্যাম্প এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কারণ এগুলো শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
কেন বাড়ে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি?
চিকিৎসকদের মতে, বাতাস চলাচলের অভাব বা দুর্বল বায়ুপ্রবাহ হিটস্ট্রোকের অন্যতম কারণ। পর্যাপ্ত বাতাস না থাকলে শরীরের ঘাম ঠিকমতো শুকাতে পারে না। ফলে শরীরের স্বাভাবিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এর সঙ্গে সরাসরি রোদে থাকা, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং দীর্ঘ সময় শারীরিক পরিশ্রম যুক্ত হলে তুলনামূলক কম তাপমাত্রাতেও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
গরমে যেসব ভুল বিপদ ডেকে আনে
প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন—
পর্যাপ্ত পানি বা তরল পান না করা
আঁটসাঁট বা গাঢ় রঙের পোশাক পরা
বাইরে বের হওয়ার সময় মাথা না ঢেকে রাখা
দুপুরের তীব্র রোদে দীর্ঘ সময় কাজ করা
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকলেও কম পানি পান করা
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, ঘরের ভেতর থাকলেও শরীর থেকে পানি বের হতে থাকে। তাই নিয়মিত পানি পান করে শরীরকে আর্দ্র রাখা জরুরি।
ঘরোয়া পানীয় হতে পারে কার্যকর সমাধান
হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে শুধু পানি পান করাই যথেষ্ট নয়। অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়া লবণ ও ইলেকট্রোলাইটও পূরণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে চিনি ছাড়া লেবুর শরবত, ঘোল এবং কাঁচা আমের শরবত বা আমপানা উপকারী হতে পারে। এসব পানীয় শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরকে স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা রাখে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ
হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকরা কয়েকটি বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন—
হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন
বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি বা ক্যাপ ব্যবহার করুন
কাজের ফাঁকে নিয়মিত বিশ্রাম নিন
পর্যাপ্ত পানি ও ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় পান করুন
বদ্ধ পরিবেশ এড়িয়ে চলুন এবং বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে থাকার চেষ্টা করুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের সতর্ক সংকেতগুলো সময়মতো বুঝতে পারলে হিটস্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। গরমে অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান করতে হবে। এতে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ভোরের আকাশ/সু.পা



