সাধারণ মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে ব্রেন টিউমার

ছবি: সংগৃহীত
ব্যস্ত জীবনযাত্রা, কাজের চাপ এবং মানসিক উদ্বেগের কারণে মাথাব্যথা, ক্লান্তি কিংবা মনোযোগের ঘাটতির মতো সমস্যা এখন অনেকের নিত্যসঙ্গী। ফলে সাধারণ শারীরিক অস্বস্তি আর গুরুতর রোগের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে পার্থক্য করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ব্রেন টিউমার এমন একটি রোগ, যার প্রাথমিক লক্ষণগুলো প্রায়ই সাধারণ মাথাব্যথা, মাইগ্রেন বা ক্লান্তিজনিত সমস্যার সঙ্গে মিশে যায়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হয়। তাই কিছু সতর্ক সংকেত সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
অস্বাভাবিক মাথাব্যথা : ব্রেন টিউমারের অন্যতম সাধারণ লক্ষণ হলো এমন মাথাব্যথা, যা স্বাভাবিক মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের মতো নয়। সময়ের সঙ্গে এর তীব্রতা বাড়তে পারে, ঘন ঘন হতে পারে কিংবা বিশেষ করে সকালে বেশি অনুভূত হতে পারে। অনেকেই এটিকে ঘুমের অভাব, পানিশূন্যতা বা অতিরিক্ত কাজের চাপের ফল মনে করে গুরুত্ব দেন না।
কারণ ছাড়াই বমি বমি ভাব : ঘন ঘন বমি বমি ভাব বা বমি, বিশেষত সকালে, মস্তিষ্কে চাপ বৃদ্ধির একটি লক্ষণ হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি গ্যাস্ট্রিক বা হজমজনিত সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করা হয়।
দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন : গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের কিছু অংশে টিউমার হলে দৃষ্টিশক্তি প্রভাবিত হতে পারে। এর ফলে ঝাপসা দেখা, দ্বৈত দৃষ্টি, সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, আলোর ঝলকানি দেখা বা পাশের জিনিস দেখতে অসুবিধা হতে পারে। অনেকেই এসব সমস্যাকে চোখের ক্লান্তি বা দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ফল বলে মনে করেন।
স্মৃতিশক্তি ও কথাবলার সমস্যা : বারবার ভুলে যাওয়া, মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা, বিভ্রান্তি বা কথা বলার সময় সঠিক শব্দ খুঁজে পেতে অসুবিধা— এসবও ব্রেন টিউমারের সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। যদিও অনেক সময় এগুলো মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত ক্লান্তির ফল হিসেবে ধরা হয়।
শরীরের একপাশে দুর্বলতা : কিছু ক্ষেত্রে শরীরের একপাশে হাত বা পায়ে দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে দুই পায়েই দুর্বলতা বা চলাফেরায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
মাথা ঘোরা ও ভারসাম্যহীনতা : হঠাৎ মাথা ঘোরা, হাঁটার সময় ভারসাম্য হারানো বা সিঁড়ি ওঠানামার সময় অস্থিরতা অনুভব করা মস্তিষ্কজনিত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। অনেকেই এটিকে নিম্ন রক্তচাপ বা শারীরিক দুর্বলতা বলে মনে করলেও বারবার এমন হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
মাথাব্যথা যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে, দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন আসে, স্মৃতিশক্তি বা কথাবলার সমস্যা দেখা দেয়, কিংবা শরীরের কোনো অংশে দুর্বলতা অনুভূত হয়, তাহলে দ্রুত একজন নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।
তবে মনে রাখতে হবে, এসব লক্ষণ থাকলেই যে ব্রেন টিউমার হয়েছে, এমন নয়। বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক কারণেও এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিন্তু লক্ষণগুলো যদি বারবার দেখা দেয় বা ক্রমশ বাড়তে থাকে, তাহলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসা পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
ভোরের আকাশ/সু.পা



