শুধু ফুসফুস নয়, হৃদযন্ত্রেরও বড় শত্রু ধূমপান

ছবি: সংগৃহীত
ধূমপান যেভাবে আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তা নিয়ে কথা বললে প্রথমেই আমাদের মনে আসে ফুসফুসের ক্ষতির কথা। আমাদের সবারই এই বিষয়টি জানা। কিন্তু হৃদযন্ত্রের ওপর ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষই তেমন কিছু জানেন না। কীভাবে ধূমপানের অভ্যাস হৃদযন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক-
ধূমপান হতে পারে উচ্চ রক্তচাপ এবং দুর্বল রক্ত সঞ্চালনের কারণ
উচ্চ রক্তচাপ এবং দুর্বল রক্ত সঞ্চালনের কারণ কারণ হতে পারে ধূমপান । রক্তনালীর ওপর নিকোটিনের সরাসরি প্রভাবের কারণে এ সমস্যা হয়ে থাকে। নিকোটিন রক্তনালীকে সংকুচিত করে, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। এটি ধমনীর আস্তরণকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে এথেরোস্ক্লেরোসিস দ্রুত হয় এবং ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা দেখা দেয় ও রক্তপ্রবাহ ধীর হয়ে যায়।
পরোক্ষ ধূমপানও হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে
পরোক্ষ ধূমপানও হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে। ধুমপায়ী ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকলে আমাদের শ্বাসের-প্রশাসের সঙ্গে ধোঁয়া ফুসফুসে প্রবেশ করে। যার কারণে উচ্চ রক্তচাপ, করোনারি ধমনী ও রক্তনালীতে রক্তপ্রবাহ ধীর হয়ে যেতে পারে এবং এর ফলে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতাও বেড়ে যায়। নিয়মিত ধুমপায়ীদের সংস্পর্শ, বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ইউরোপিয়ান সোসাইটি অফ কার্ডিওলজির গবেষণা অনুসারে, পরোক্ষ ধূমপান হার্টবিট অনিয়মিত করে দিতে পারে।
ধোঁয়াবিহীন তামাকও হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে
ধোঁয়াবিহীন তামাকেও নিকোটিন থাকে এবং এর একই প্রভাব থাকতে পারে, যদিও ফুসফুস হয়তো সুরক্ষিত থাকে। তবে এটি রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ায়।
ধূমপান না করার উপকারীতা
ধূমপান করলে হৃদস্পন্দন এবং রক্তচাপ বেড়ে যায়। ধূমপান ছাড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এটি কমে যায়। ধূমপান ত্যাগ করলে হার্ট অ্যাটাক, ব্রেইন স্ট্রোক এবং ভাস্কুলার ডিজিজ (হাত-পা ও কিডনির ধমনীতে প্রতিবন্ধকতা)-এর মতো রোগের ঝুঁকিও কমে যায়। হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের এই দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যে একজন অধূমপায়ীর পর্যায়ে নেমে আসে।
ভোরের আকাশ/সু.পা



