সুনামগঞ্জ
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ জানুয়ারী ২০২৬ ০৮:৩৪ পিএম
ছবি- ভোরের আকাশ
বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার তাঁর নিজ এলাকা মধ্যনগর উপজেলায় সরকারি সফরের অংশ হিসেবে একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক অবস্থা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদান কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত সুবিধা ঘুরে দেখেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে তিনি সদর ইউনিয়নের নিজ গ্রাম গলহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের মাধ্যমে সফর শুরু করেন। পরে তিনি জমশেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মধ্যনগর বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। বিদ্যালয়গুলোতে তিনি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষক সংকটের বিষয়গুলো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি নিজ বাসভবনে অবস্থান নেন। মধ্যনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় বিদ্যালয়মুখী করতে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষকের সংকটের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শিগগিরই এ সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে।
বিদ্যালয় ফিডিং কর্মসূচি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার এই কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশের অনেক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মধ্যনগর উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেও এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়বে এবং পুষ্টিহীনতা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তাঁর একান্ত সচিব সত্যজিত রায় দাশ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন রাকিব এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সমেরেন্দু বিশ্বাস। এ ছাড়া স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/র.ই