ভিসা হয়নি ১০ হাজারের বেশি হজযাত্রীর
চলতি বছর হজ করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত ২২ হাজার ২০৩ হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। রোববার হজসম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এদিকে হজে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের আজ সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে ভিসার আবেদন করতে হবে, অন্যথায় তারা হজে যেতে পারবেন না। লিড বা সমন্বয়কারী এজেন্সিগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ কথা জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি হজযাত্রীর ভিসা হয়নি বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো ক্ষুদে বার্তার বরাত দিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব হজযাত্রীর পাসপোর্ট, বায়োমেট্রিক, হোটেল বা বাড়ি ও ফ্লাইটের তথ্য দিয়ে এখনো ভিসার আবেদন দাখিল করেনি, তাদের ৫ মে দুপুর ১২টার মধ্যে ভিসার আবেদন নুসুক মাসার প্ল্যাটফর্মে এ দাখিল করতে হবে। এরপরে প্ল্যাটফর্মটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। বন্ধ করে দেওয়ার পর আর কোনোভাবেই ভিসার আবেদন দাখিল করা যাবে না। এর ফলে ৫ মে দুপুর ১২টার মধ্যে যেসব হজযাত্রী ভিসার আবেদন দাখিল করবে না, তারা চলতি বছরে হজে যেতে পারবেন না।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে পাসপোর্ট, বায়োমেট্রিক, হোটেল বা বাড়ি ও ফ্লাইটের তথ্যসহ ভিসার আবেদন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব লিড এজেন্সিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, হজ এজেন্সির অবহেলার কারণে কোনো হজযাত্রীর ভিসার আবেদন ৫ মে দুপুর ১২টার মধ্যে দাখিল করা না হলে তার দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট লিড এজেন্সিকেই বহন করতে হবে। এছাড়া তাদের অবহেলার কারণে কোনো হজযাত্রীর হজে যাওয়া অনিশ্চিত হলে ওই সমন্বয়কারী এজেন্সি বা লিড এজেন্সির বিরুদ্ধে ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন-২০২১’ ও ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২২’ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হজসম্পর্কিত হেল্প ডেস্কের তথ্য মতে, ৫৪টি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২২টি, সৌদি এয়ারলাইনস ১৭টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ১৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এতে গত শনিবার রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ২২ হাজার ২০৩ হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি পৌঁছেছেন ৪ হাজার ৫৬৪ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পৌঁছেছেন ১৭ হাজার ৫৩৯ হজযাত্রী।
চলতি বছর হজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত দুজন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের ফরিদুজ্জামান (৫৭) নামে একজন মারা যান। এর আগে ২৯ এপ্রিল মদিনার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় খলিলুর রহমান (৭০) নামের একজনের মৃত্যু হয়।
এর আগে, গত ২৯ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট ৩৯৮ জন হজযাত্রী নিয়ে সৌদির উদ্দেশে যাত্রা করে। এর মধ্য দিয়েই এ বছরের হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। যাত্রা শেষ হবে ৩১ মে। চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনা হজে যাবেন ৫ হাজার ২০০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৮১ হাজার ৯০০ জন।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে সৌদি আরবে আগামী ৫ জুন হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী হজ এজেন্সির সংখ্যা ৭০টি। হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে ২৯ এপ্রিল। শেষ হজ ফ্লাইট ৩১ মে। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ১০ জুন, আর শেষ ফিরতি ফ্লাইট ১০ জুলাই।
ভোরের আকাশ/এসএইচ
সংশ্লিষ্ট
আধুনিক যুগ। তথ্য ও প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে আমরা সবাই এখন খবর দাতা ও খবর গ্রহীতা, হাতে হাতে খবরের কাগজ, নিউজ চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। যে কোন খবর এখন মুহুর্তে ছড়িয়ে পড়ে বিশে^র এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। রসদযুক্ত খবর মুহুর্তেই হয়ে পড়ে ভাইরাল। ত্রিশ বছর আগের মত খবর পেতে এখন আর খবরের কাগজের অপেক্ষা করা লাগে না। সবার হাতে হাতে দৃশ্যমান স্থির কিংবা গতিশীল খবর ধারণের যন্ত্র। শুধুমাত্র ‘ক্লিক’ আর ‘আপলোড’ এরপর ভাইরাল, আর অন্যজনের প্রদত্ত খবর ছড়িয়ে দেওয়া আরো সহজ জাস্ট ‘শেয়ার’।খবরদাতা সাংবাদিক কিংবা খবরের কাগজ বা চ্যানেল পরিচালকদের যেমন কিছু নিয়মনীতি বা নর্মস মেনে চলতে হয় তা লাগেনা আমাদের সবার, প্রকৃত ঘটনা যাচাই করেই কেবল সংবাদ প্রচার করতে পারেন তারা, আর আমাদের শুধু খবর হলেই হলো। যদিও বর্তমান সময়ে ভুল সংবাদ প্রচার করে সরি বলতেও দেখা যায় অনেক খবর দাতাদের। খবর বা তথ্য, হোক সেটা ভালো কিংবা খারাপ আমরা যারা তা যাচাই বাছাই ছাড়াই যে প্রচার কিংবা শেয়ার করছি, আমরা কি উচিত কাজটি করছি? হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীস, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোন লোকের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে (সত্যতা যাচাই না করে) তা-ই বলে বেড়ায়।’ (মুসলিম)।ইংরেজি শব্দ Misinformation বা Fake news এটি এমন যোগাযোগ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ভুলত্রুটিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। যে কোনো খবর বা তথ্য আমাদেরকে যাচাই বাছাই করেই অপরকে বলা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো উচিত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘হে মু’মিনগণ! যদি কোন পাপাচারী তোমাদের নিকট কোন বার্তা আনয়ন করে, তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে, পাছে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোন সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে বস, এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে হয়।’ (হুজরাত, ৪৯ : ৬)।শোনা কথা যাচাই-বাছাই ছাড়াই বলে বেড়ানো বা ছড়িয়ে দেওয়া মিথ্যার একটি রূপ। এর ফলে অনায়াসে ভুল বা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। অথচ আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মিথ্যাবাদীকে প্রচণ্ড ঘৃণা করতেন, এ প্রসঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট মিথ্যার চেয়ে অধিক ঘৃণিত স্বভাব আর কিছুই ছিল না। কোন ব্যক্তি তাঁর সামনে মিথ্যা কথা বললে সেই বিষয়টি তাঁর স্মরণে থাকত যতক্ষণ না তিনি জানতে পারতেন যে, মিথ্যাবাদী তার মিথ্যা কথন থেকে তওবা করেছে।’ (তিরমিযি)।তথ্য ও প্রযুক্তি যোগাযোগের বিপ্লবের ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো আজ আমাদের হাতের মুঠোয়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার বা এক্স, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব, ইমু, টেলিগ্রাম, লিংকডইন প্রভৃতি যোগাযোগ মাধ্যমগুলো যোগাযোগকে যেমন সহজ করে দিয়েছে তেমনি এগুলো ভুয়া ও মিথ্যা খবর ও তথ্যের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে। না জেনে শুনে যাচাই-বাছাই না করেই আমরা এসব মাধ্যমে অনেক ভুয়া ও মিথ্যা খবর পোস্ট কিংবা শেয়ার করার মাধ্যমে অপছন্দ ব্যক্তি বা গোষ্ঠিকে গালাগাল ও অবমূল্যায়ন করছি। একটি শ্রেণী আছে যারা সত্য ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে মিথ্যা সংযুক্ত করে ছড়িয়ে দেয় আরেকটি শ্রেণী আছে খন্ডিত বক্তব্য প্রকাশ করে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ায়।এদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা আল কুরআনুল কারীমে বলেন, ‘তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-শুনে সত্য গোপন করো না।’ (বাকারা, ২ : ৪২)।অপপ্রচার কিংবা মিথ্যা প্রচার এতটাই জঘণ্য যে এর ফলে আমাদের সমাজে অনায়াসে খুন-খারাবী মত ঘটনা ঘটে যায়, এমন ঘটনা রয়েছেও অসংখ্য। একে শেষ যুগ বা ফিতনার যুগের কাজ উল্লেখ করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, দুনিয়া খতম হবে না যে পর্যন্ত না মানুষের নিকট আসে এমন এক যুগ, যখন হত্যাকারী জানবে না যে, কি কারণে সে হত্যা করেছে এবং নিহত ব্যক্তিও জানবে না যে, কি কারণে সে নিহত হয়েছে। প্রশ্ন করা হল, এমন যুলুম কিভাবে হবে? তিনি বললেন: সে যুগটা হবে খুনাখুনির যুগ। এরূপ যুগের হত্যাকারী ও নিহত উভয় ব্যক্তিই জাহান্নামী হবে।’ (মুসলিম)।বর্তমান সময়ে মিথ্যে তথ্য প্রচার ও প্রোপাগান্ডা খুব ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এমনকি কারো কারো ব্যাপারে জেনে শুনে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে এবং তা নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভূক্ত, এই মিথ্যে অপবাদ যারা আবার শেয়ার এর মাধ্যমে ছড়াচ্ছেন তারা কিন্তু একই অপরাধে অপরাধী হচ্ছেন।ইতিহাসের অন্যতম জঘন্যতম অপবাদের ঘটনা ইফকের ঘটনার উল্লেখ করে আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারীমে বলেন, ‘যখন তোমরা মুখে মুখে এটি ছড়াচ্ছিলে এবং এমন বিষয় মুখে উচ্চারণ করছিলে যার কোন জ্ঞান তোমাদের ছিল না এবং তোমরা এটিকে তুচ্ছ গণ্য করেছিলে, যদিও আল্লাহর নিকট এটি ছিল গুরুতর বিষয়।’ (নূর, ২৪ : ১৫)।অপবাদ আরোপ এক জঘন্য অপরাধের নাম, অপবাদ মিথ্যার থেকেও জঘন্য, এতে বান্দার অধিকার ক্ষুন্ন হয়। সমাজব্যবস্থা ধ্বংস সমাজে অরাজকতার সৃষ্টি হয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও আস্থা হারিয়ে যায়, সম্পর্কে চিড় ধরে একপর্যায়ে ছিন্ন হয়ে যায়। অপবাদ প্রদানকারীকে পবিত্র কুরআনে অভিশপ্ত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অপবাদ আরোপের দ্বারা ব্যক্তি অন্যের সম্মানহানির পাশাপাশি নিজেকে কবিরা গুনাহে লিপ্ত করে, যা কোনো ক্ষেত্রেই কল্যাণকর নয়।অপবাদের শাস্তির কথা উল্লেখ করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘যাহারা সাধ্বী, সরলমনা ও ঈমানদার নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত এবং তাহাদের জন্য আছে মহাশাস্তি।’ (নূর, ২৪ : ২৩)।কোনো তথ্য পাওয়া মাত্রই যাচাই-বাছাই না করে ছড়িয়ে দেওয়া ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করাকে ‘চিলে কান নেওয়া’ প্রবাদের মাধ্যমে ব্যঙ্গ করা হয়।এমন করে ভুল তথ্য ছড়ানোকে ব্যঙ্গ করে কবি শামসুর রহমান তার ‘পন্ডশ্রম’ কবিতায় বলেন, ‘এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতারবিলে,আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা গেল উড়ে,কান না পেলে চার দেয়ালে মরব মাথা খুঁড়ে।কান গেলে আর মুখের পাড়ায় থাকল কি-হে বল?কানের শোকে আজকে সবাই মিটিং করি চল।’প্রকৃত সত্য না জেনে যে কোন তথ্য ছড়ানো উচিত নয়। কোনো বিষয়ের প্রকৃত জ্ঞান ছাড়া শুধু অনুমানের ভিত্তিতে বলা চূড়ান্ত অপরাধ ও গুনাহের কাজ। এমন ধারণাপ্রসূত অপবাদ আরোপ থেকে বিরত থাকতে হবে। অনুমানলব্ধ জ্ঞানকে কোন কোন ক্ষেত্রে পাপ উল্লেখ করে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘হে মু’মিনগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান হতে দূরে থাক; কারণ অনুমান কোন কোন ক্ষেত্রে পাপ।’ (হুজরাত, ৪৯ : ১২)।ভুল-মিথ্যা তথ্য, সত্য-মিথ্যার মিশ্রণে সংবাদ বা তথ্য প্রকাশ ও শেয়ার করে ছড়িয়ে দেওয়া এগুলো বড় মাপের প্রতারণাও। একজন মুমিনের বিভিন্ন ধরনের ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে, কিন্তু কোনোভাবেই সে মিথ্যাবাদী ও প্রতারক হতে পারে না। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুমিনের চরিত্রে সব কিছুর অবকাশ থাকতে পারে, কিন্তু প্রতারণা ও মিথ্যা নয়।’ (মুসনাদে আহমাদ, বায়হাকী)।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা অনায়াসেই যে মিথ্যা তথ্য বা সংবাদ ছড়িয়ে থাকি অনেকে এটাকে ক্ষুদ্র মিথ্যা মনে করেন কিন্তু এ মিথ্যাও তাদেরকে বড় মিথ্যাবাদীর দিকেই ধাবিত করে। সত্য ও মিথ্যাবাদীতা সম্পর্কে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.) বলেন, ‘তোমরা অবশ্যই সত্যকে অবলম্বন করবে। কেননা সত্য সৎকর্মের দিকে ধাবিত করে আর সৎকর্ম ধাবিত করে জান্নাতের দিকে।কোন ব্যক্তি যদি সত্য বলতে থাকে এবং সত্যের প্রতি সদা মনযোগ রাখতে থাকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছেও সিদ্দীক হিসাবে তার কথা লিপিবদ্ধ হয়। তোমরা মিথ্যার থেকে বেঁচে থাকবে, কেননা মিথ্যা অন্যায়ের দিকে নিয়ে যায়, আর অন্যায় নিয়ে যায় জাহান্নামের দিকে। কোন বান্দা যখন মিথ্যা বলতে থাকে এবং মিথ্যার প্রতিই তার খেয়াল থাকে এমন কি শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছেও কাযযাব (অতি মিথ্যাবাদী) বলে তার নাম লিপিবদ্ধ হয়।’ (মুসলিম ও তিরমিযি)।অতএব যে কোন ধরনের তথ্য যাচাই বাছাই ব্যতীত প্রকাশ ও প্রচার করা গুণাহের কাজ। এ ধরণের কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা ও তার রাসূল (সা.)-এর ক্রোধের ধারক-বাহক হয়ে যেতে পারি। অনেক আলেম-ওলামাগণও ফেসবুকে পাওয়া যে কোন তথ্য যাচাই না করেই শেয়ার করে বসেন। আমাদেরকে এ ধরণের কাজ থেকে বেঁচে থাকতে হবে।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার কাছে আমাদের প্রার্থনা তিনি এ ধরণের গর্হিত কাজ থেকে আমাদেরকে হেফাজত করুন, আমীন।মাওলানা এ বি এম সাইফুল ইসলামসচিব, শরিয়া কাউন্সিল, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানি লিমিটেডভোরের আকাশ/মো.আ.
শুক্রবার— তথা জমুার দিন শুদ্ধতা আর শুভ্রতার মহোৎসবে পরিপূর্ণ একটি দিন। পুরো সপ্তাহের ক্লান্ত দেহ, অতৃপ্ত মন এ দিনটিতে সুখের পরশে জেগে ওঠে। উল্লাসে মাতে। হাদিস শরিফে এসেছে, জুমার দিন কেবল মোহাম্মদি উম্মাতেরই বৈশিষ্ট্য।নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতকে জুমার দিন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা অজ্ঞ রেখেছেন। ইহুদিদের ফজিলতপূর্ণ দিবস ছিল শনিবার। খ্রিষ্টানদের ছিল রোববার। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা আমাদের দুনিয়ায় পাঠালেন এবং জুমার দিনের ফজিলত দান করলেন। সিরিয়ালে শনি ও রোববারকে শুক্রবারের পেছনে রাখা হয়েছে। কারণ, দুনিয়ার এই সিরিয়ালের মতো কেয়ামতের দিনও ইহুদি-খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের পেছনে থাকবে। আমরা উম্মত হিসেবে সবার শেষে এলেও কেয়ামতের দিন সবার ওপরে থাকব। (মুসলিম : ১৪৭৩)জুমাবারের ফজিলত সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন ফরজ গোসলের মতো গোসল করে এবং প্রথম প্রহরে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কোরবানি করল। দ্বিতীয় প্রহরে গেলে গরু কোরবানির সওয়াব, তৃতীয় প্রহরে গেলে ভেড়া, চতুর্থ প্রহরে গেলে মুরগি এবং পঞ্চম প্রহরে গেলে ডিম কোরবানির সওয়াব পাবে। এরপর যখন ইমাম খুতবা দিতে মিম্বারে ওঠেন, তখন ফেরেশতারা আর আমল লেখেন না, তারা খুতবা শুনতে থাকেন। (বোখারি : ৮৮১)কিন্তু আমাদের সমাজে অনেকে জুমার দিনের অতিরিক্ত গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেন, ‘এ দিন কেউ মৃত্যুবরণ করলে তার কবরের সব আজাব মাফ। তিনি বিনা হিসেবে জান্নাতে চলে যাবেন।’চলুন, জেনে নিই শরিয়তের এই কথার বাস্তবতা কতটুকু—হাদিসের ভাষ্যআবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে মুসলমান জুমার দিনে কিংবা জুমার রাতে মৃত্যুবরণ করবে, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের ফিতনা থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন। (তিরমিজি : ১০৯৫)ইসলামী স্কলারদের ভাষ্যউল্লিখিত হাদিসের আলোকে ইসলামী স্কলাররা বলছেন, শুক্রবারে মৃত্যুবরণ করলে বিনা হিসাবে জান্নাত বা কিয়ামত পর্যন্ত কবরের আজাব মাফ— এ কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। এ সম্পর্কে মুল্লা আলী কারী (রহ.) বলেন, জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার থেকে কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়ার কথা প্রমাণিত। তবে, কিয়ামত পর্যন্ত আজাব আর ফিরে আসবে না এ কথার কোনো ভিত্তি আমার জানা নেই। (মিনাহুর রাওদিল আযহার ফি শরহি ফিকহিল আকবার : পৃষ্ঠা ২৯৫-২৯৬)একইভাবে কথা বলেছেন খ্যাতিমান ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহও। নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত—এই সময়ে মধ্যে কোনো মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যু হলে আল্লাহ তায়ালা তাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে থাকেন। অর্থাৎ তাকে কবরের আজাব ও ফিতনা থেকে মুক্তি দান করেন। আর স্বাভাবিকতই কেউ যদি কবরের অজাব থেকে মুক্তি লাভ করেন, তাহলে কিয়ামতের দিনের হাশরের মাঠে হিসাব-নিকাশ তার জন্য সহজ হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।আহমাদুল্লাহ জানান, এ সম্পর্কে তিরমিজি শরিফে উসমান ইবনে আওফান (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কবর হলো আখিরাতের ঘাঁটিগুলোর মধ্যে প্রথম ঘাঁটি। এই ঘাঁটিতে যদি কারও জন্য প্রশ্নোত্তর সহজ করে দেওয়া হয়, এই ঘাঁটিতে যদি কেউ কোনো বড় বিপদে না পড়েন অর্থাৎ সহজেই পার পেয়ে যান, তাহলে পরবর্তী ধাপগুলো ও তিনি সহজেই উত্তীর্ণ হতে পারবেন; সেই আশা করা যায়। আর যদি কবরের ঘাঁটি কারও জন্য কঠিন হয়ে যায়, তাহলে পরবর্তী যে ধাপগুলো রয়েছে সেগুলো আরও কঠিন হবে।এই হাদিসগুলোর আলোকে আশা বোঝা যায়, জুমার দিনে কারও মৃত্যু হলে সেটা একটি ভালো বা শুভ সংকেত। অর্থাৎ বলা যায়, সেই ব্যক্তি ভালো মৃত্যুবরণ করলেন এবং এর ফলে তার আখিরাতের প্রতিটি ধাপ তার জন্য সহজ হবে আশা করা যায়। তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে, আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি না যে জুমার দিনে কেউ মৃত্যুবরণ করলে তিনি সরাসরি জান্নাতে যাবেন এবং তার কবর আজাব কেয়ামত পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। হ্যাঁ, সেই মৃত ব্যক্তির জন্য সুধারণা রাখা ভালো।ভোরের আকাশ/মো.আ.
সৃষ্টিগতভাবেই নারী ও পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। আল্লাহ তাআলা হজরত আদম (আ.)–এর পর হজরত হাওয়া (আ.)–কে তাঁর সঙ্গী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদেরকে বৈধ দাম্পত্য বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন।পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা রুম: ২১)বিয়ের মাধ্যমে যেমন ইবাদতের সওয়াব রয়েছে, তেমনি পার্থিব ও মানসিক অনেক উপকারও রয়েছে। নিচে কোরআন, হাদিসের আলোকে বিয়ের ১৫টি উপকার তুলে ধরা হলো।১. অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে আত্মরক্ষাবিয়ে যৌন আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ ও অশ্লীলতা থেকে সুরক্ষা দেয়। নবী কারিম (স.) বলেছেন, ‘হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ে করতে সক্ষম, সে যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করে আর যে করতে পারে না, সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা যৌন আকাঙ্ক্ষা দমনে সহায়ক।’ (সহিহ বুখারি: ৫০৬৬)২. ইসলামি পরিবার ও সমাজ গঠনবিবাহিত জীবন পরিবার ও সমাজকে নৈতিকভাবে দৃঢ় করে। নবী (স.) বলেছেন, ‘যখন বান্দা বিয়ে করে, তখন সে দ্বীনের অর্ধেক পূরণ করে। অতএব, বাকি অর্ধেকাংশে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।’ (তাবারানি: ৯৭২; মুসতাদরাক হাকিম: ২৭২৮)৩. নারীর সম্মান ও নিরাপদ জীবনবিয়ে নারীর সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কোরআন ইরশাদ করেছে, ‘পুরুষরা নারীদের তত্ত্বাবধায়ক।’ (সুরা নিসা: ৩৪)৪. বিশ্বাসযোগ্য জীবনসঙ্গীবিবাহিত জীবন একজন নির্ভরযোগ্য সঙ্গী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহচর দেয়। নবী (স.) বলেছেন, ‘দুনিয়ার সর্বোৎকৃষ্ট সম্পদ (উপভোগ্য উপকারণ) হলো সতী-সাধ্বী স্ত্রী।’ (সহিহ মুসলিম: ১৪৬৭; মুসনাদে আহমদ: ৬৫৬৭)৫. মানববংশের বৈধ বিস্তারবিয়ে মানববংশের বৈধভাবে বিস্তার ঘটায়। নবী (স.) বলেছেন, ‘এমন নারীকে বিয়ে করো, যে প্রেমময়ী এবং অধিক সন্তান প্রসব করতে সক্ষম। কেননা আমি অন্যান্য উম্মাতের কাছে তোমাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে গর্ব করবো।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২০৫০)৬. যৌন চাহিদার বৈধ ও নিরাপদ উপায়বিয়ে যৌন আকাঙ্ক্ষার বৈধ ও নিরাপদ পরিপূরণ নিশ্চিত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তাদের (অর্থাৎ স্ত্রীদের) সাথে সৎভাবে জীবন যাপন করো।’ (সুরা নিসা: ১৯) এখানে ‘সৎভাবে জীবন যাপন’ এর অন্যতম দিক হলো- সঙ্গমের মাধ্যমে তার পবিত্র জীবন যাপনের প্রতি যত্নশীল হওয়া। (আল মাউসুয়াতুল ফিকহিয়্যা: ৩০/১২৭)৭. মানসিক শান্তি ও সান্ত্বনাপবিত্র কোরআন ইরশাদ করেছে, ‘তিনিই তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তার থেকে তার স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে সে তার কাছে শান্তি পায়।’ (সুরা আরাফ: ১৮৯)৮. নবী (স.)–এর সুন্নত অনুসরণবিয়ে নবী (স.)–এর সুন্নত। নবী (স.) বলেছেন, ‘আমি সালাত আদায় করি, নিদ্রা যাই এবং মেয়েদেরকে বিয়েও করি। সুতরাং যারা আমার সুন্নতের প্রতি বিরাগ পোষণ করবে, তারা আমার দলভুক্ত নয়। (বুখারি: ৫০৬৩)৯. সন্তানের সঠিক লালন‑পালন ও পরিচয়বিবাহিত পরিবার সন্তানদের পরিচয় ও লালন‑পালন নিশ্চিত করে। কোরআন ইরশাদ করেছে, ‘জেনে রেখো, তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা। আর মহা পুরস্কার রয়েছে আল্লাহরই কাছে।’ (সুরা আনফাল: ২৮)১০. রিজিক ও বরকত বৃদ্ধিবিবাহিত জীবন রিজিক ও জীবনে বরকত বৃদ্ধি করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের বিয়ে করিয়ে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। (সুরা নুর: ৩২)১১. শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা ও রোগ‑ঝুঁকি হ্রাস করেবিবাহিত জীবন মানসিক চাপ কমাতে এবং একাকিত্ব দূর করতে সাহায্য করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অনুসন্ধান দেখায়, বিবাহিত ব্যক্তিরা হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং মানসিক সমস্যার ঝুঁকি কমে। এটি সামাজিক এবং মানসিক সাপোর্ট সিস্টেমের কারণে সম্ভব। (ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নাল: ২০১৯; জার্নাল অব ম্যারেজ অ্যান্ড ফ্যামিলি: ২০১৮)১২. সমাজে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলাবিবাহ সমাজে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে। কোরআন ইরশাদ করেছে, ‘ব্যভিচারের কাছেও যেও না।’ (সুরা ইসরা: ৩২)১৩. পুরুষ‑নারী উভয়কে দায়িত্বশীলতা শেখায়বিবাহ ব্যক্তি ও পরিবারকে দায়িত্বশীল করে তোলে। নবী (স.) বলেছেন, ‘প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্বাধীন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (সহিহ বুখারি: ৭১৩৮)১৪. সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও জীবনসাথীর দৃঢ় সমর্থননবী করিম (স.) যখন নবুয়ত লাভের প্রথম সময়ে আতঙ্কিত হন, তখন হজরত খাদিজা (রা.) তাঁকে সাহস ও সমর্থন দিয়েছেন এবং তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে নবুয়তের কাজকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছেন। (সীরাতুন নবী, খণ্ড ১, পৃ. ৯৫-৯৬)১৫. দ্বীন, ঈমান ও নৈতিক জীবনের নিরাপদ পরিবেশবিয়ে ঈমান ও নৈতিকতা রক্ষা করে এবং মানুষকে অশ্লীলতা ও ভুল পথ থেকে রক্ষা করে। নবী (স.) বলেছেন, ‘সতী-সাধ্বী স্ত্রী দ্বীনদার পুরুষের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৮৫৫)বিয়ে কোনো সামাজিক বাধ্যবাধকতা নয়; বরং এটি আল্লাহর প্রদত্ত এক মহান নেয়ামত। বিয়ে পুরুষ ও নারী উভয়কেই শান্তি, দায়িত্ব, সম্মান ও ঈমানের সঙ্গে জীবন গঠনের সুযোগ দেয়। এটি পারিবারিক, সামাজিক ও জাতিগত উন্নয়নের ভিত্তি, যেখানে সত্যিকারের নৈতিকতা ও ধর্মপ্রাণ জীবন প্রতিষ্ঠিত হয়।ভোরের আকাশ/মো.আ.
মুসলিম পুরুষদের জন্য মূল্যবান রত্ন বা পাথর ব্যবহারের বিধান কী? রাসুল (সা.) কোন ধরনের আংটি ব্যবহার করতেন? তার ব্যবহৃত আংটির রঙ কেমন ছিল?এ বিষয়ে আলেমদের মতামত হলো— অপচয় না করে এবং বিলাসিতা প্রদর্শনের জন্য না হলে পুরুষরা আংটিতে পাথর পরতে পারবেন। অতিরিক্ত সৌন্দর্য প্রকাশের জন্য আংটি পরলে তা নারীর অনুকরণ হিসেবে গণ্য হবে। আর পুরুষের জন্য নারীদের অনুকরণ নিষিদ্ধ।আংটি ব্যবহারে অপচয়ের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, যদি কেউ অত্যন্ত দামী পাথরে বিপুল অর্থ ব্যয় করে, অথচ তার প্রতিবেশীরা ভালো খাবার পাচ্ছে না। তাহলে এটা অপচয় হিসেবে গণ্য হবে।পবিত্র কোরআনে অপচয়কারীদেরকে শয়তানের ভাই বলে অভিহিত করা হয়েছে। বর্ণিত হয়েছে, জেনে রেখ, যারা অপ্রয়োজনীয় কাজে অর্থ উড়ায়, তারা শয়তানের ভাই। আর শয়তান নিজ প্রতিপালকের ঘোর অকৃতজ্ঞ। (সুরা বনী-ইসরাঈল, আয়াত :২৭)নবীজির (সা.) ব্যবহৃত আংটি ও পাথর সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) মোহর হিসেবে ব্যবহারের জন্য আংটি পরতেন। নবীজির (সা.) আংটি ব্যবহার সম্পর্কে সাহাবিরা বলেছেন—বিদেশি শাসকদের কাছে চিঠি পাঠালে তারা মোহর ছাড়া তা গ্রহণ করতো না। তাই নবীজি (সা.) আংটি বানিয়েছিলেন। তার আংটির পাথরের রং ছিল কালো, যার মধ্যে সাদা রেখা বা দাগ ছিল।জাদু বা তাবিজের কাজে আংটির ব্যবহার নিষিদ্ধজাদুমন্ত্র, ভাগ্য গণনার জন্য আংটির ব্যবহার ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।ইসলামে সবচেয়ে পবিত্র পাথর হিসেবে গণ্য করা হয় হাজরে আসওয়াদকে। এই পাথর সম্পর্কেও ইসলামে কোনো অতিপ্রাকৃত শক্তি আরোপ করা হয়নি।হজরত ওমর (রা.) হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করার সময় বলেছিলেন— আমি নিশ্চিত তুমি শুধু একটি পাথর, কোনো লাভ বা ক্ষতির ক্ষমতা তোমার নেই। যদি আমি নবীজি (সা.)-কে তোমাকে চুম্বন করতে না দেখতাম, তবে আমিও কখনো তা করতাম না।ভোরের আকাশ/তা.কা