পরামর্শ

টাকা ব্যবহারে অসতর্ক হলেই হতে পারে ভয়ংকর সংক্রমণ

ছবি: সংগৃহীত

টাকা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, প্রতিটি ক্ষেত্রেই টাকার ব্যবহার অপরিহার্য। তবে কখনো কি ভেবে দেখেছেন, প্রতিদিন হাতে নেওয়া এই নোট বা কয়েন কতটা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে?

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনন্দিন লেনদেনে ব্যবহৃত কাগজের নোট ও ধাতব মুদ্রায় বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত টয়লেট সিটের তুলনায়ও টাকায় বেশি জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এক হাত থেকে আরেক হাতে বছরের পর বছর ঘুরতে ঘুরতেই টাকা হয়ে ওঠে জীবাণুর নিরাপদ বাহক।

কেন টাকা এত জীবাণুবাহী?
টাকার অতিরিক্ত ব্যবহার ও হাতবদলই এর প্রধান কারণ। একটি নোট প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সংস্পর্শে আসে—মাছের বাজার, গণপরিবহন, হাসপাতাল কিংবা দোকান—সবখানেই এর ব্যবহার রয়েছে। কাগজের নোটের সূক্ষ্ম তন্তুর মধ্যে ঘাম, ধুলাবালু ও আর্দ্রতা সহজেই জমে থাকে, যা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে।

আমরা নিয়মিত ঘরবাড়ি বা ব্যক্তিগত জিনিস পরিষ্কার করলেও টাকা সাধারণত জীবাণুমুক্ত করি না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এতে নানা ধরনের জীবাণু জমতে থাকে।

টাকায় কী ধরনের জীবাণু থাকতে পারে?
নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি কাগজের নোটে প্রায় তিন হাজার প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

ই-কোলাই সংক্রমণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া, যা ডায়রিয়া, পেটের সমস্যা ও মূত্রনালির সংক্রমণের কারণ হতে পারে।
স্ট্যাফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া, যা ত্বক, ফুসফুস, হাড় এমনকি মস্তিষ্কেও সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম।
বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক ও ভাইরাস, যেগুলোর মধ্যে সর্দি-কাশি বা ইনফ্লুয়েঞ্জার জীবাণুও কয়েক দিন পর্যন্ত টাকার নোটে টিকে থাকতে পারে।


সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস

আমাদের দেশে অনেকেই টাকা গোনার সময় আঙুলে থুতু লাগানোর অভ্যাস করেন। চিকিৎসকদের মতে, এটি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে টাকায় থাকা জীবাণু সরাসরি মুখে প্রবেশ করতে পারে। একই সঙ্গে একজনের লালার জীবাণু অন্যের শরীরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
টাকার মাধ্যমে রোগজীবাণুর সংক্রমণ এড়াতে কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চলা জরুরি—

টাকা স্পর্শ করার পর খাবার খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন। প্রয়োজনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
মোবাইল ব্যাংকিং, কার্ড বা ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়ান। এতে সরাসরি টাকার সংস্পর্শ কমে যায়।
শিশুদের টাকা মুখে দেওয়া থেকে বিরত রাখতে সচেতন করুন।
নিয়মিত মানিব্যাগ বা পার্স পরিষ্কার রাখুন। টাকার সঙ্গে রুমাল বা টিস্যু না রাখাই ভালো।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, টাকা জীবনের প্রয়োজনীয় উপাদান হলেও সুস্থতা সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই সামান্য সচেতনতাই আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে নানা রোগব্যাধি থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।

তথ্যসূত্র: প্লাস ওয়ান, মিশিগান ইউনিভার্সিটি নিউজলেটার, ওয়েবএমডি

টাকা ব্যবহারে অসতর্ক হলেই হতে পারে ভয়ংকর সংক্রমণ | স্বাস্থ্য কথা