স্বাস্থ্য শিক্ষা

ফ্যানের বাতাসে ঘুমানোর আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

ছবি: সংগৃহীত

গরমে স্বস্তি পেতে সারারাত ফ্যান চালিয়ে ঘুমানো অনেকেরই অভ্যাস। তবে দীর্ঘ সময় ফ্যানের বাতাসে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কি না— এ প্রশ্নও কম শোনা যায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ফ্যান সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে ঘরের পরিবেশ, তাপমাত্রা এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো ঘুমের জন্য শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের আগে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমে যায়। কিন্তু ঘর অতিরিক্ত গরম থাকলে শরীর পর্যাপ্ত তাপ বের করতে পারে না, ফলে অস্বস্তি ও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। এ ক্ষেত্রে ফ্যান শরীরের অতিরিক্ত তাপ দূর করতে এবং ঘরের বাতাস চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৬৮ থেকে ৭৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রা আরামদায়ক ঘুমের জন্য উপযোগী। ফ্যান এই তাপমাত্রা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়া ফ্যানের একটানা মৃদু শব্দ বা ‘হোয়াইট নয়েজ’ বাইরের যানবাহনের শব্দ, কুকুরের ডাকসহ অন্যান্য বিরক্তিকর আওয়াজ ঢেকে দিয়ে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করে। কিছু গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নবজাতকের ঘরে সঠিকভাবে ফ্যান ব্যবহার করলে সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোম (SIDS)-এর ঝুঁকি কমতে পারে। পাশাপাশি ফ্যান ঘরের বাতাস চলাচল বাড়ায় এবং আর্দ্রতা কমিয়ে ছত্রাক ও ধুলাবালির বিস্তারও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

অসাবধানতায় বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি

যদিও ফ্যানের বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে, তবু ভুলভাবে ব্যবহার করলে কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্ট: ফ্যান চলার সময় ঘরে জমে থাকা ধুলাবালি, পশুর লোম বা ফুলের রেণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এগুলো শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে অ্যালার্জি বা হাঁপানির সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

চোখ ও সাইনাসের সমস্যা: দীর্ঘ সময় ফ্যানের বাতাস সরাসরি চোখে লাগলে চোখ শুষ্ক হয়ে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি হতে পারে। একইভাবে শুষ্ক বাতাস নাকের ভেতরের ঝিল্লি শুকিয়ে দিয়ে সাইনাসের সমস্যা বা নাক বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

পেশিতে টান: দীর্ঘ সময় শরীরে সরাসরি ঠান্ডা বাতাস লাগলে পেশিতে টান, ঘাড় বা কাঁধে ব্যথা এবং অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

অতিরিক্ত গরমে শুধু ফ্যানের ওপর নির্ভর নয়

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বাইরের তাপমাত্রা যদি ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট)-এর বেশি হয়, তাহলে শুধু ফ্যানের ওপর নির্ভর করা বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং হৃদরোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ অবস্থায় শরীরের তাপমাত্রা পর্যাপ্তভাবে কমে না, ফলে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই এমন পরিস্থিতিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) ব্যবহার করা বা শরীর ভিজিয়ে ফ্যানের বাতাস নেওয়া বেশি নিরাপদ।

নিরাপদে ফ্যান ব্যবহারের পরামর্শ

স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন—

  • ফ্যানের ব্লেড ও গ্রিল নিয়মিত পরিষ্কার করুন, যাতে ধুলাবালি বাতাসে না ছড়ায়।
  • ফ্যানের বাতাস সরাসরি মুখ বা শরীরের ওপর না লাগিয়ে দেয়াল বা সিলিংয়ের দিকে ঘুরিয়ে দিন।
  • সম্ভব হলে টাইমার ব্যবহার করুন, যাতে কয়েক ঘণ্টা পর ফ্যান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
  • যাদের অ্যালার্জি বা অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে, তারা HEPA ফিল্টারযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে ফ্যান গরমে আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যকর ঘুম নিশ্চিত করতে পারে। তবে যাদের অ্যালার্জি, সাইনাস বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

ভোরের আকাশ/সু.পা

ফ্যানের বাতাসে ঘুমানোর আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি | স্বাস্থ্য কথা