বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৫ ০৩:১৯ পিএম
এখনও জ্বলছে সুন্দরবনের আগুন, তদন্ত কমিটি গঠন
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের তেইশের ছিলার শাপলারবিল এলাকায় নতুন করে লাগা আগুন এখনও থেমে থেমে জ্বলছে। এমরই মধ্যে আগুন নেভাতে খুলনা ও বাগেরহাটের ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে পানির উৎস দূরে হওয়ায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও বনবিভাগকে।
জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। নতুন এলাকায় যাতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ফায়ার লাইন কেটে দিয়েছে বনবিভাগ ও স্থানীয় গ্রামবাসী। আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বনবিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নতুন করে লাগা এই আগুন কি পরিমান এলাকায় ছড়িয়েছে তা জানাতে পারেনি বনবিভাগ। আগুন কখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে তাও বলতে পারছে না বনবিভাগ।
এদিকে চাঁদপাই রেঞ্জের তেইশের ছিলার শাপলারবিল এলাকায় আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরুপণে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) দিপন চন্দ্র দাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের আরও একটি কমিটি গঠন করেছে বনবিভাগ। এই নিয়ে বনের আগুনের ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি করল বনবিভাগ। এই কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সহকারি পরিচালক (এডি) আবু বক্কর জামান জানান, রোববার রাত ৯টায় মরা ভোলা নদীতে পাম্প মেশিন বসানোর কাজ শেষ করে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করা হয়। এই আগুন নেভাতে খুলনা ও বাগেরহাটের ১০টি ইউনিট একযোগে কাজ করছে। পানির উৎস দূরে থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরে নদীতে জোয়ার ভাটার একটা ব্যাপার রয়েছে। জোয়ার ভাটা মাথায় রেখে আমরা কাজ করতে হচ্ছে। আগুন যাতে বিস্তৃত হতে না পারে সেজন্য আগুনের স্থানের চারপাশে ফায়ার লাইন কেটে দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। গভীর রাত পর্যন্ত পানি ছিটানোর কাজ চলে।
আজ সোমবার সকালে জোয়ার শুরু হয়েছে। এখন আবার পানি ছিটানোর কাজ চলছে। আমরা সেখানেই আগুনে কুন্ডলি ও ধোঁয়া দেখতে পাচ্ছি সেখানেই পানি ছিটাচ্ছি। আমাদের পাশাপাশি বনবিভাগও তাদের নিজস্ব পাম্প দিয়ে পানি ছিটাচ্ছে।
বন অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের বনসংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ জানান, তেইশের ছিলার শাপলারবিল এলাকায় লাগা আগুন থেমে থেমে জ্বলছে। রবিবার রাত থেকে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে বনবিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস। গভীর রাত পর্যন্ত পানি ছিটানোর কাজ চলেছে। পানির সংকট থাকায় বনের আগুন নেভানোর কাজে বেগ পেতে হচ্ছে। জোয়ারের পানির উপর নির্ভর করে এখানে আগুন নেভানোর কাজ করতে হচ্ছে। নদীর জোয়ারের পানি যতক্ষণ পাচ্ছে ততক্ষণ তারা পানি ছিটাচ্ছে। তেইশের ছিলার শাপলারবিল এলাকার আগুনের তীব্রতা বেশি।
বনের আগুন কখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে তা এখন বলা যাচ্ছে না। তবে নতুন এলাকায় যাতে আগুন না ছড়ায় সেজন্য প্রথমে ফায়ার লাইন কাটার কাজ আগেই করা হয়। আগুন এখন নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রয়েছে। বনে আগুন লাগার কারন ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরুপণে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) দিপন চন্দ্র দাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ