টাঙ্গাইলে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেন দেখেই নিচে ঝাঁপ দিয়ে জীবনাবসান ঘটিয়েছে রাকিব (২৫) নামে এক যুবক। বুধবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে ভূঞাপুর রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাকিব কালিহাতী উপজেলার সিংগুরিয়া সোনাকান্দর গ্রামের তৈয়ব আলী ফকিরের ছেলে। তবে কি কারনে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।
ভূঞাপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার আব্দুল কাদের জানান, ঢাকার কমলাপুর থেকে সকাল ১০টায় ছেড়ে আসা জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিকাল পৌনে ৫ টার দিকে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছলে রাকিব নামে এক যুবক ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয়। এতে তার মাথা শরীর থেকে বিছিন্ন হয়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশ ও জিআরপি পুলিশকে অগত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার এসআই কামরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি জিআরপি পুলিশকে জানানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ
সংশ্লিষ্ট
নওগাঁয় পৃথক অভিযানে ৫০০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে নেহেরুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৭টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।এর আগে রোববার রাতে বদলগাছী ও সাপাহার উপজেলায় অভিযান চালিয়ে এসব ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক নেহেরুল ইসলাম বদলগাছী উপজেলার হাপানিয়া এলাকার আফছার আলীর ছেলে।ডিবি পুলিশের ইনচার্জ মোহাম্মদ হাসিবুল্লাহ হাসিব জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বদলগাছী এলাকায় মাদক কেনাবেচা চলছে। খবরের ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি আমবাগানের পাশ থেকে নেহেরুল ইসলামকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৩০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।অপরদিকে একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সাপাহার উপজেলার আমডাঙা এলাকায় জনৈক সৈকতের আমবাগানে পৃথক অভিযান চালানো হয়। সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ২০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে ডিবি পুলিশের চৌকস একটি দল এই দুটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, মাদকমুক্ত নওগাঁ গঠনে জেলা পুলিশ ধারাবাহিক ও কার্যকর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, আগামী দিনগুলোতে মাদক উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। মাদকবিরোধী অভিযানে জনগণের তথ্য ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ভোরের আকাশ/মো.আ.
গাইবান্ধায় প্রকাশ্যে দিনের আলোতেই রুবেল মিয়া (২৫) নামের এক যুবকের ডান হাতের কবজি কেটে নেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বাবুসহ পাঁচ জনকে আটক করেছে পুলিশ।সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে গাইবান্ধা পৌর শহরের শাপলা মিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রক্তাক্ত এ হামলার খবরে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।কবজি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় গুরুতর আহত রুবেল মিয়া গাইবান্ধা পৌরসভার মুহুরি পাড়ার বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মোকাব্বর মিয়ার ছেলে। প্রথমে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা দ্রুত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। আহত মোশারফকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় জানান, বন্ধু মোশারফ রহমানের সঙ্গে দেখা করতে শাপলা মেল এলাকায় যান রুবেল। সেখানে পৌঁছাতেই পূর্বশত্রুতার জেরে সুখনগর এলাকার বাবুসহ পাঁচ থেকে সাত জন দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে মোশারফ ও রুবেলের ওপর হামলা চালায়। এতে ধারালো দেশীয় অস্ত্র ‘বেকি’ দিয়ে প্রথম আঘাতেই তারা রুবেলের ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।আহত বন্ধু মোশারফ রহমান বলেন, আমাদের সঙ্গে বাবুর জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। কিন্তু কেন আমার নিরীহ বন্ধুকে এভাবে কুপিয়ে হাতের কবজি পর্যন্ত কেটে দিলো তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমাকেও তারা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে।রুবেলের বাবা মোকাব্বর মিয়া বলেন, আমার ছেলেকে কোনও কারণ ছাড়াই এভাবে হত্যার উদ্দেশে হামলা করা হয়েছে। যারা আমার সন্তানের হাতের কবজি কেটে দিয়েছে তাদের কঠোর শাস্তি চাই।বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কাটা কবজিটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাবুসহ পাঁচ জনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় আপাতত প্রকাশ করা যাচ্ছে না। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে, এ নৃশংস হামলায় এলাকায় নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। স্বজন ও এলাকাবাসী দ্রুত সব আসামিকে গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।ভোরের আকাশ/মো.আ.
কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় দিনদুপুরে জাহানারা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে পৌর ১২ নম্বর ওয়ার্ডের হরিশংকরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।নিহত বৃদ্ধার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহত জাহানারা বেগম ওই এলাকার আবুল মোল্লার স্ত্রী। তবে ঠিক কী কারণে হত্যা করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাহানারা বেগম বাড়িতে একাই ছিলেন। তাঁকে দেখভালের দায়িত্বে থাকা দুজনই বাড়ির বাইরে ছিলেন। বিকেল ৪টার দিকে এক প্রতিবেশী কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা খুলে বিছানার ওপর জাহানারা বেগমের গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন।কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ফয়সাল মাহমুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।নিহত জাহানারা বেগমের দেখভাল করা মেঘলা নামের এক গৃহবধূ বলেন, ‘বেলা ১১টা পর্যন্ত বাড়িতেই ছিলাম। এরপর আমি আমার বাবার বাড়িতে গিয়েছিলাম। আমার স্বামীও কাজে বাড়ির বাইরে বের হয়ে যায়। যাওয়ার সময় বাড়ির পাশে থাকা আমার বোনকে বিকেল ৪টার দিকে এসে গবাদিপশুগুলোকে পানি খাইয়ে যেতে বলেছিলাম। তখন আমার বোন এসে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা খুলে দেখে গলাকাটা অবস্থায় তিনি পড়ে আছেন।স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জাহানারা বেগমের ছেলে রাজধানী ঢাকায় সরকারি চাকরি করেন। তিনি পরিবারসহ ঢাকায় থাকেন। বাড়ির ভাড়াটে লিটন নামের এক ভ্যানচালক ও তাঁর স্ত্রী নিহত জাহানারা বেগমের দেখভাল করতেন।কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আলীম ভোরের আকাশ কে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, কোনো নেশাগ্রস্ত লোক চুরি করতে এসে দেখে ফেলায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ নিয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে।ভোরের আকাশ/মো.আ.
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নজরুল নগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো. সজিব শাহরিয়ারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে জামিন করিয়ে না দেওয়ায় চরফ্যাশন আদালতের অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট হযরত আলী হিরনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যানের সহযোগীদের বিরুদ্ধে।সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর আয়োজনে মতবিনিময় সভা শেষে তাকে গ্রেফতারের পর এই হামলার ঘটনা ঘটে।গ্রেফতার হওয়া সজিব শাহরিয়ার নজরুল নগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন মৃধার ছেলে।চরফ্যাশন আদালতের অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট হযরত আলী হিরন বলেন, চেয়ারম্যান সজিব শাহরিয়ারকে পুলিশ গ্রেফতার করার পর তার সহযোগীরা আমাকে ফোনে আদালত থেকে জামিন করিয়ে আনার প্রস্তাব দেয়। আমি রাজি না হওয়ায় আদালত চত্বর ও আমার চেম্বারে হামলা চালানো হয়। এ সময় আমি আহত হই এবং বর্তমানে চরফ্যাশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছি।গ্রেফতার হওয়ায় এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সজিব শাহরিয়ারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।দুলারহাট থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইয়াছিন জানান, মুজিব নগর ইউনিয়নের একটি জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে গত ২৩ নভেম্বর নাছির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে সজিবসহ ৯ জনকে আসামি করে একটি জিআর মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলার ২ নম্বর আসামি সজিব শাহরিয়ার দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে সোমবার উপজেলা চত্বর থেকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।এদিকে চরফ্যাশন আদালতের অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট হযরত আলী হিরন উপর হামলার ঘটনায় চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি জাহাঙ্গীর বাদসা জানান,অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ভোরের আকাশ/মো.আ.