গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৪২ ফিলিস্তিনি
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। সবশেষ ইসরায়েলি হামলায় আরও ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০০ জন। এর ফলে এই উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার ৪০০ জনে পৌঁছে গেছে।মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
এতে বলা হয়, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে আরও ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের বর্বর হামলায় এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ৩৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি আক্রমণে আহত হওয়া আরও ১৮৩ জনকে গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংঘাতের শুরু থেকে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৮৩ জনে পৌঁছেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে থাকলেও উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১ হাজার ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের বর্বর এই হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। এ ছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
এর আগে, গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
ভোরের আকাশ/এসএইচ
সংশ্লিষ্ট
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও প্রায় ৭৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই হামলার মধ্যে জাতিসংঘ পরিচালিত একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যেখানে নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ২২ জন নিহত হয়েছেন। এরফলে অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৫০ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বুধবার ভোর থেকে হওয়া হামলায় গাজায় কমপক্ষে ৭৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর আল জাজিরাকে জানানোর পর রাতভর গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।এছাড়া জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ইউএনআরডব্লিউএ-এর একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ২২ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ইসরায়েলের নিন্দা করা হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার ফলে ভবনটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফলে বেশ কয়েকজন নিহতের মৃতদেহ পুড়ে গেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলার কথা স্বীকার করেছে এবং দাবি করেছে যে হামাস সদস্যরা ক্লিনিকের ভেতরে সন্ত্রাসী কাজ করছিল। তবে তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি।আইডিএফের একটি সামরিক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, হামাসের জাবালিয়া ব্যাটালিয়ন ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করার জন্য ভবনটি ব্যবহার করেছিল। তাই সেখানে হামলা করতে বাধ্য হয় তারা।হামাস তাদের পক্ষ থেকে ইসরায়েলি দাবিগুলোকে ‘অপরাধকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য স্পষ্ট মিথ্যাচার’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। পাল্টা বিবৃতিতে বলেছে, এই অপরাধ ফ্যাসিবাদী নেতানিয়াহু সরকারের সমস্ত মানবিক, আন্তর্জাতিক আইন এবং নিয়মের প্রতি অবজ্ঞাকে প্রতিফলিত করে।ভোরের আকাশ/এসএইচ
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি হামলায় আরও ৭৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকই। বুধবার (২ এপ্রিল) ইসরায়েলি হামলায় তারা নিহত হন। ফলে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজার ৪৭৬ জন ছাড়িয়ে গেছে।বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। একই সময় বহু হতাহত হয়েছে। ইসরায়েলি বাধায় তাদের সবাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা সম্ভব হচ্ছে না।এর আগে মঙ্গলবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজায় আহত হওয়া আরও ১৮৩ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংঘাতের শুরু থেকে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৮৩ জনে পৌঁছেছে। অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে আছে। তাদের উদ্ধারে স্বেচ্ছাসেবকদের যেতে দিচ্ছে না ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে নতুন করে বুধবার কতজন আহত হয়েছেন তা এখনও জানা যায়নি।এর আগে, ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ব্যাপক হামলা হয়েছে। ওই দিন ৮০ ফিলিস্তিনি নিহত হন। ঈদের মতো বিশ্ব সমাদৃত উৎসবেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা না থামায় বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় বইছে।ভোরের আকাশ/এসএইচ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা) হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ শুল্ক আরোপের কথা জানান তিনি।বক্তব্যের শুরুতে ট্রাম্প বলেন, আজ খুব ভালো খবর রয়েছে। এই কথা শোনার পর সাংবাদিকরা করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান।নতুন শুল্ক আরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এই দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছিল। তিনি আরও বলেন, “বাণিজ্যে অনেক সময় ‘বন্ধু’ও শত্রুর চেয়েও খারাপ হয়ে দাঁড়ায়।ট্রাম্প আরও বলেন, আজকের দিনকে আমেরিকান শিল্পের ‘পুনর্জন্ম’ এবং আমেরিকাকে ‘আবার সম্পদশালী’ করার দিন হিসেবে স্মরণ করা হবে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কখনো ‘বন্ধু শত্রুর চেয়ে খারাপ হয়’।এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্প নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:- চীন - ৩৪%- ভিয়েতনাম - ৪৬%- তাইওয়ান - ৩২%- জাপান - ২৪%- ভারত - ২৬%- দক্ষিণ কোরিয়া - ২৫%- থাইল্যান্ড - ৩৬%- মালয়েশিয়া - ২৪%- কম্বোডিয়া - ৪৯%- বাংলাদেশ - ৩৭%- সিঙ্গাপুর - ১০%- ফিলিপাইন - ১৭%- পাকিস্তান - ২৯%- শ্রীলঙ্কা - ৪৪%- মায়ানমার - ৪৪%- লাওস - ৪৮%মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যেসব দেশের পণ্যের ওপর ১০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তা আগামী ৫ এপ্রিল স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হবে। আর যেসব দেশের পণ্যের ওপর ১০%-এর বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তা ৯ এপ্রিল স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হবে।ভোরের আকাশ/এসএইচ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ২টা) হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক ঘোষণা দেন তিনি।ট্রাম্পের নতুন এই শুল্ক আরোপে ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ, চীনা পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলংকার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরাইলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে।রোজ গার্ডেনে উপস্থিত সাংবাদিকসহ উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে বক্তব্যের শুরুতেই আজকের দিনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, আজ খুব ভালো খবর থাকবে। এ সময় দর্শক সারি থেকে করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানানো হয়।নতুন শুল্ক আরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এই দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করছে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কখনো কখনো ‘বন্ধু শত্রুর চেয়ে খারাপ হয়’।যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের বিদেশি গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, দক্ষিণ কোরিয়ায় যেসব গাড়ি উৎপাদন করা হয় তার ৮০ শতাংশের বেশি সেদেশে বিক্রি হয়। আর জাপানে যেসব গাড়ি বিক্রি হয় সেগুলোর ৯০ শতাংশের বেশি সেদেশে তৈরি হয়। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি বিক্রি হয় খুব সামান্য।মার্কিন কোম্পানি ফোর্ড অন্যান্য দেশে খুব কম গাড়ি বিক্রি করে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, অন্য যে কোনো দেশে তৈরি মোটরযানের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে এবং এটা আজ মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হবে।নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণাকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রতিফলন উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আজকের দিনকে আমেরিকান শিল্পের ‘পুনর্জন্ম’ এবং আমেরিকাকে ‘আবার সম্পদশালী’ করার দিন হিসেবে স্মরণ করা হবে। আগে দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বাধার মুখে রয়েছে।অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছে উল্লেখ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা আরও খারাপ অবস্থা তৈরি করেছে। এ সময় বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মেধাসত্ত চুরিসহ অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ করেন তিনি।ভোরের আকাশ/এসএইচ
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৪২ ফিলিস্তিনি
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। সবশেষ ইসরায়েলি হামলায় আরও ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০০ জন। এর ফলে এই উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার ৪০০ জনে পৌঁছে গেছে।মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
এতে বলা হয়, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে আরও ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের বর্বর হামলায় এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ৩৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি আক্রমণে আহত হওয়া আরও ১৮৩ জনকে গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংঘাতের শুরু থেকে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৮৩ জনে পৌঁছেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে থাকলেও উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১ হাজার ৪২ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের বর্বর এই হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। এ ছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
এর আগে, গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
ভোরের আকাশ/এসএইচ
সংশ্লিষ্ট
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও প্রায় ৭৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই হামলার মধ্যে জাতিসংঘ পরিচালিত একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যেখানে নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ২২ জন নিহত হয়েছেন। এরফলে অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৫০ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বুধবার ভোর থেকে হওয়া হামলায় গাজায় কমপক্ষে ৭৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর আল জাজিরাকে জানানোর পর রাতভর গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।এছাড়া জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ইউএনআরডব্লিউএ-এর একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ২২ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ইসরায়েলের নিন্দা করা হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার ফলে ভবনটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফলে বেশ কয়েকজন নিহতের মৃতদেহ পুড়ে গেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলার কথা স্বীকার করেছে এবং দাবি করেছে যে হামাস সদস্যরা ক্লিনিকের ভেতরে সন্ত্রাসী কাজ করছিল। তবে তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি।আইডিএফের একটি সামরিক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, হামাসের জাবালিয়া ব্যাটালিয়ন ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করার জন্য ভবনটি ব্যবহার করেছিল। তাই সেখানে হামলা করতে বাধ্য হয় তারা।হামাস তাদের পক্ষ থেকে ইসরায়েলি দাবিগুলোকে ‘অপরাধকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য স্পষ্ট মিথ্যাচার’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। পাল্টা বিবৃতিতে বলেছে, এই অপরাধ ফ্যাসিবাদী নেতানিয়াহু সরকারের সমস্ত মানবিক, আন্তর্জাতিক আইন এবং নিয়মের প্রতি অবজ্ঞাকে প্রতিফলিত করে।ভোরের আকাশ/এসএইচ
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি হামলায় আরও ৭৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকই। বুধবার (২ এপ্রিল) ইসরায়েলি হামলায় তারা নিহত হন। ফলে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজার ৪৭৬ জন ছাড়িয়ে গেছে।বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। একই সময় বহু হতাহত হয়েছে। ইসরায়েলি বাধায় তাদের সবাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা সম্ভব হচ্ছে না।এর আগে মঙ্গলবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজায় আহত হওয়া আরও ১৮৩ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংঘাতের শুরু থেকে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৮৩ জনে পৌঁছেছে। অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে আছে। তাদের উদ্ধারে স্বেচ্ছাসেবকদের যেতে দিচ্ছে না ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে নতুন করে বুধবার কতজন আহত হয়েছেন তা এখনও জানা যায়নি।এর আগে, ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ব্যাপক হামলা হয়েছে। ওই দিন ৮০ ফিলিস্তিনি নিহত হন। ঈদের মতো বিশ্ব সমাদৃত উৎসবেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা না থামায় বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় বইছে।ভোরের আকাশ/এসএইচ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা) হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ শুল্ক আরোপের কথা জানান তিনি।বক্তব্যের শুরুতে ট্রাম্প বলেন, আজ খুব ভালো খবর রয়েছে। এই কথা শোনার পর সাংবাদিকরা করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান।নতুন শুল্ক আরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এই দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছিল। তিনি আরও বলেন, “বাণিজ্যে অনেক সময় ‘বন্ধু’ও শত্রুর চেয়েও খারাপ হয়ে দাঁড়ায়।ট্রাম্প আরও বলেন, আজকের দিনকে আমেরিকান শিল্পের ‘পুনর্জন্ম’ এবং আমেরিকাকে ‘আবার সম্পদশালী’ করার দিন হিসেবে স্মরণ করা হবে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কখনো ‘বন্ধু শত্রুর চেয়ে খারাপ হয়’।এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্প নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:- চীন - ৩৪%- ভিয়েতনাম - ৪৬%- তাইওয়ান - ৩২%- জাপান - ২৪%- ভারত - ২৬%- দক্ষিণ কোরিয়া - ২৫%- থাইল্যান্ড - ৩৬%- মালয়েশিয়া - ২৪%- কম্বোডিয়া - ৪৯%- বাংলাদেশ - ৩৭%- সিঙ্গাপুর - ১০%- ফিলিপাইন - ১৭%- পাকিস্তান - ২৯%- শ্রীলঙ্কা - ৪৪%- মায়ানমার - ৪৪%- লাওস - ৪৮%মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যেসব দেশের পণ্যের ওপর ১০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তা আগামী ৫ এপ্রিল স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হবে। আর যেসব দেশের পণ্যের ওপর ১০%-এর বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তা ৯ এপ্রিল স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হবে।ভোরের আকাশ/এসএইচ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ২টা) হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক ঘোষণা দেন তিনি।ট্রাম্পের নতুন এই শুল্ক আরোপে ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ, চীনা পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলংকার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরাইলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে।রোজ গার্ডেনে উপস্থিত সাংবাদিকসহ উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে বক্তব্যের শুরুতেই আজকের দিনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, আজ খুব ভালো খবর থাকবে। এ সময় দর্শক সারি থেকে করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানানো হয়।নতুন শুল্ক আরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এই দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করছে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কখনো কখনো ‘বন্ধু শত্রুর চেয়ে খারাপ হয়’।যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের বিদেশি গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, দক্ষিণ কোরিয়ায় যেসব গাড়ি উৎপাদন করা হয় তার ৮০ শতাংশের বেশি সেদেশে বিক্রি হয়। আর জাপানে যেসব গাড়ি বিক্রি হয় সেগুলোর ৯০ শতাংশের বেশি সেদেশে তৈরি হয়। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি বিক্রি হয় খুব সামান্য।মার্কিন কোম্পানি ফোর্ড অন্যান্য দেশে খুব কম গাড়ি বিক্রি করে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, অন্য যে কোনো দেশে তৈরি মোটরযানের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে এবং এটা আজ মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হবে।নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণাকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রতিফলন উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আজকের দিনকে আমেরিকান শিল্পের ‘পুনর্জন্ম’ এবং আমেরিকাকে ‘আবার সম্পদশালী’ করার দিন হিসেবে স্মরণ করা হবে। আগে দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বাধার মুখে রয়েছে।অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছে উল্লেখ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা আরও খারাপ অবস্থা তৈরি করেছে। এ সময় বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মেধাসত্ত চুরিসহ অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ করেন তিনি।ভোরের আকাশ/এসএইচ
মন্তব্য করুন