ছবি : ভোরের আকাশ
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না। এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের সফিপুর আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে ৪১তম বিসিএস (আনসার) কর্মকর্তা, উপজেলা আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক-প্রশিক্ষিকা এবং আনসার ব্যাটালিয়ন ২৬ ও ২৭তম ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কোনো আনসার সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হয়ে কাজ করে, তবে সে শুধু আইন ভাঙে না, সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে। বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয় এটি রাষ্ট্রের নিরীহ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী।
তিনি আনসারদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের কেউ যেন কখনো কোনো বেআইনি আদেশ, কোনো স্বার্থান্বেষী এজেন্ডা বা কোনো পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ না হন। সাহস মানে শুধু বিপদের মুখে দাঁড়ানো নয়।
সাহস মানে অন্যায় আদেশকে না বলা, অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়া, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, মজলুমের পক্ষে কাজ করা। দায়িত্ব পালনে ন্যায়ানুগ পন্থা অবলম্বন করা এবং নিজেকে সঠিক পথে অটল রাখা। সততা, নৈতিকতা ও বিবেকই হবে আপনাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। কর্মজীবনে নানা চ্যালেঞ্জ আসবে, চাপ থাকবে।
ভুল বোঝাবুঝি হবে, সমালোচনাও হবে। যদি আপনারা সততা, মানবিকতা ও পেশাদারিত্বকে আঁকড়ে ধরেন, তবে কোনো চ্যালেঞ্জই আপনাদের পথচলা থামাতে পারবে না।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গত বছরের আগস্ট মাস থেকেই সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ করে আসছে। এরই মধ্যে প্রায় ৫৬ হাজার আনসার, ২ লাখ ৫৫ হাজার ভিডিপি ও টিডিপি সদস্য এবং ৩ হাজারেরও অধিক আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যকে মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের উদ্দেশে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষাধিক সদস্যকে এসটিডিএমএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
এ নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৩ জন করে সর্বমোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আনসার সদর দপ্তর, একাডেমি, রেঞ্জ, জেলা ও ব্যাটালিয়নসমূহে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সংযোজন, এবং পেশাগত উৎকর্ষ, কল্যাণমূলক কার্যক্রম, প্রশাসন, প্রশিক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সগুলো নতুন করে গঠন ও সংশোধনের জন্য সময়োপযোগী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ভোরের আকাশ/মো.আ.
সংশ্লিষ্ট
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই সনদ ইস্যুতে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসমর্থন আদায়ে সক্রিয় প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।এই প্রচারণার অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ফটোকার্ডটি প্রকাশ করা হয়।ফটোকার্ডে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে উল্লেখ করা হয়— ‘গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন, ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনের পথ চিরতরে রুদ্ধ করুন।’প্রেস উইং জানিয়েছে, গণভোটের প্রচারণার অংশ হিসেবে ১১ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মোট আটটি ফটোকার্ড প্রকাশ করা হবে।এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো গণভোটের বিষয়ে জনগণকে সচেতন এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা।গণভোট সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সরকারের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এসব কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তৃণমূল পর্যায়ে গণভোটের বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করা যায়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না। এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের সফিপুর আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে ৪১তম বিসিএস (আনসার) কর্মকর্তা, উপজেলা আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক-প্রশিক্ষিকা এবং আনসার ব্যাটালিয়ন ২৬ ও ২৭তম ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, কোনো আনসার সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হয়ে কাজ করে, তবে সে শুধু আইন ভাঙে না, সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে। বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয় এটি রাষ্ট্রের নিরীহ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী।তিনি আনসারদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের কেউ যেন কখনো কোনো বেআইনি আদেশ, কোনো স্বার্থান্বেষী এজেন্ডা বা কোনো পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ না হন। সাহস মানে শুধু বিপদের মুখে দাঁড়ানো নয়।সাহস মানে অন্যায় আদেশকে না বলা, অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়া, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, মজলুমের পক্ষে কাজ করা। দায়িত্ব পালনে ন্যায়ানুগ পন্থা অবলম্বন করা এবং নিজেকে সঠিক পথে অটল রাখা। সততা, নৈতিকতা ও বিবেকই হবে আপনাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। কর্মজীবনে নানা চ্যালেঞ্জ আসবে, চাপ থাকবে।ভুল বোঝাবুঝি হবে, সমালোচনাও হবে। যদি আপনারা সততা, মানবিকতা ও পেশাদারিত্বকে আঁকড়ে ধরেন, তবে কোনো চ্যালেঞ্জই আপনাদের পথচলা থামাতে পারবে না। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গত বছরের আগস্ট মাস থেকেই সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ করে আসছে। এরই মধ্যে প্রায় ৫৬ হাজার আনসার, ২ লাখ ৫৫ হাজার ভিডিপি ও টিডিপি সদস্য এবং ৩ হাজারেরও অধিক আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যকে মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের উদ্দেশে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষাধিক সদস্যকে এসটিডিএমএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।এ নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৩ জন করে সর্বমোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আনসার সদর দপ্তর, একাডেমি, রেঞ্জ, জেলা ও ব্যাটালিয়নসমূহে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সংযোজন, এবং পেশাগত উৎকর্ষ, কল্যাণমূলক কার্যক্রম, প্রশাসন, প্রশিক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সগুলো নতুন করে গঠন ও সংশোধনের জন্য সময়োপযোগী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।ভোরের আকাশ/মো.আ.
চলতি অর্থবছরের জন্য সরকারের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। মূল এডিপির তুলনায় এতে প্রায় ১৩ শতাংশ কাটছাঁট করা হয়েছে, যার ফলে মোট বরাদ্দ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা। এই কাটছাঁটের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।সোমবার (১২ জানুয়ারি) শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংশোধিত এডিপিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত এডিপিতে সরকারি অর্থায়ন এবং বিদেশি ঋণ ও অনুদান—উভয় খাতেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। সরকারি অর্থায়নের অংশে বরাদ্দ কমেছে ১৬ হাজার কোটি টাকা, যা মূল বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ। অন্যদিকে বিদেশি ঋণ ও অনুদানের ক্ষেত্রে কাটছাঁট হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা, যা প্রায় ১৬ শতাংশের বেশি।ফলে সরকারি অর্থায়ন নেমে এসেছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকায়, আর বিদেশি ঋণ ও অনুদান কমে হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা।পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, সংশোধিত এডিপিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর চাহিদাই ছিল তুলনামূলকভাবে কম। সংশোধনের সময় তারা মোট বরাদ্দ চেয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চলতি অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি।অনেক প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প পরিচালক না থাকা, নতুন পরিচালক নিয়োগে বিলম্ব এবং বড় কয়েকটি প্রকল্প সরকারিভাবে পুনর্মূল্যায়নের আওতায় থাকা—এসব কারণে প্রকল্প ব্যয় কম চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছর নির্বাচন বছর হওয়ায় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোও তুলনামূলকভাবে রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।খাতভিত্তিক বরাদ্দের দিকে তাকালে দেখা যায়, সংশোধিত এডিপিতে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এর পরেই রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, যেখানে বরাদ্দ হয়েছে ২৬ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা।এছাড়া বাসস্থান ও কমিউনিটি সুবিধা, শিক্ষা এবং স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ উন্নয়ন খাতও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ পেয়েছে।তবে সংশোধিত এডিপিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে স্বাস্থ্যখাত। দুর্বল বাস্তবায়ন সক্ষমতার কারণে এই খাতে বরাদ্দ প্রায় ৭৪ শতাংশ কমানো হয়েছে। মূল এডিপিতে যেখানে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা, সেখানে সংশোধনের পর তা নেমে এসেছে মাত্র ৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকায়। শিক্ষা খাতেও বড় ধরনের কাটছাঁট হয়েছে। এই খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ।পরিবহন ও যোগাযোগ খাত মূল এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেলেও সংশোধিত এডিপিতে এখানেও প্রায় ৩৫ শতাংশ অর্থ কমানো হয়েছে। একইভাবে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ কমে এসেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এই খাতে মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ১৮ কোটি টাকা, যা সংশোধনের পর কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৪৫ কোটি টাকায়।বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ, আর কৃষি খাতে কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে উঠে এসেছে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ খাত। সংশোধিত এডিপিতে এই খাতে বরাদ্দ প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এই বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা, যদিও এটি মূল এডিপির তুলনায় কিছুটা কম। এরপর রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ পেয়েছে।সংশোধিত এডিপিতে বিশেষ উন্নয়ন সহায়তার জন্যও আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনগুলোর নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো যুক্ত করলে সংশোধিত এডিপির মোট আকার দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা।এই সংশোধিত এডিপিতে মোট ১ হাজার ৩৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্পের সংখ্যাই বেশি। পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে এসব প্রকল্পের মধ্য থেকে ২৮৬টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।ভোরের আকাশ/মো.আ.
সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারকে অভিযুক্ত করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) হওয়া যুগান্তকারী মামলার বিচার সোমবার (১২ জানুয়ারি) শুরু হচ্ছে।রয়টার্স জানায়, এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি হবে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে প্রথম গণহত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি।এই মামলার বিচারের ফলাফল মিয়ানমারের পাশাপাশি আইসিজেতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এবং গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হওয়া গণহত্যার মামলাগুলোতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।মিয়ানমার গণহত্যার অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক স্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান রয়টার্সকে বলেন, “গণহত্যা কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, কীভাবে এটি প্রমাণ করা যায় আর কীভাবে লঙ্ঘনের প্রতিকার করা যায়, এই মামলাটিতে তার গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থির হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র গাম্বিয়া ২০১৯ সালে বিশ্ব আদালত নামে পরিচিত আইসিজেতে মামলাটি দায়ের করে। মামলায় রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা।২০১৭ সালে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর নির্মম আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণের মুখে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয় আর তারা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গারা নির্বিচার হত্যা, ব্যাপক ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের শিকার হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন।জাতিসংঘের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন তদন্ত শেষে সিদ্ধান্তে আসে, ২০১৭ সালে হওয়া ওই সামরিক হামলার সময় ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ অন্তর্ভুক্ত ছিল।মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে। তারা দাবি করে, মুসলিম জঙ্গিদের হামলার প্রতিক্রিয়ায় তাদের সামরিক আক্রমণ ছিল একটি বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান।২০১৯ সালে আইসিজেতে এই মামলার প্রাথমিক শুনানিতে মিয়ানমারের তৎকালীন নেতা অঙ সান সু চি গাম্বিয়ার গণহত্যার অভিযোগগুলোকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ অভিহিত করে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।সোমবার নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরের আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুনানির মধ্য দিয়ে বিচারের কার্যক্রম শুরু হবে আর তা তিন সপ্তাহ ধরে চলবে। তবে স্পর্শকাতর হওয়ায় ও ব্যক্তিগত কারণ থাকায় বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে আদালত কক্ষে সর্বসাধারণ ও গণমাধ্যমের প্রবেশ বন্ধ থাকবে।মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ২০২১ এ এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। সামরিক জান্তা সু চি ও তার দলের অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়। এ ঘটনায় মিয়ানমারজুড়ে একটি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, যা এখন গৃহযুদ্ধের রূপ নিয়েছে।ভোরের আকাশ/মো.আ.